0 00:00:07,180 --> 00:00:15,180 বাংলা সাব সজীব 1 00:00:36,411 --> 00:00:39,758 এটা হচ্ছে আমাদের পৃথিবীর উষ্ণঘর, জঙ্গল, 2 00:00:40,103 --> 00:00:42,759 মৌসুমি জঙ্গল, 3 00:00:44,996 --> 00:00:48,748 পৃথিবীর ভুমির মাত্র তিন শতাংশ এরকম জঙ্গল 4 00:00:48,866 --> 00:00:53,305 তারপরও পৃথিবীর সব জীবের অর্ধেক প্রজাতি এখানে বসবাস করে, 5 00:00:54,483 --> 00:00:58,275 কিন্তু কিভাবে এতো প্রকারের উদ্ভিদ এবং প্রাণী 6 00:00:58,373 --> 00:01:02,340 একে অপরের পাশাপারি বসবাসের জায়গা করে নেয় ? 7 00:01:14,442 --> 00:01:20,532 জঙ্গলের মাটি বেশ অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং আর্দ্র দেখে অনেকটা প্রানহীন মনে হয়। 8 00:01:21,573 --> 00:01:25,757 বেশিরভাগ সময় এখানে জীবন বলতে আপনি যে শব্দ শুনছেন সেটাই 9 00:01:32,319 --> 00:01:37,092 একটি নীল পুরুষ স্বর্গীয় পাখি সঙ্গীর জন্য প্রদর্শন করছে, 10 00:01:39,018 --> 00:01:40,569 খুব সুন্দর একটি প্রদর্শনী 11 00:01:40,648 --> 00:01:45,873 কিন্তু সে এখানে একমাত্র স্বর্গীয় পাখি নয় যে ভাব জমানোর চেস্টা করছে, 12 00:01:47,190 --> 00:01:50,962 নিউ গিনির এই দ্বীপে প্রায় চল্লিশ প্রকারের এরকম পাখি আছে, 13 00:01:51,040 --> 00:01:55,145 একটির প্রদর্শনী অন্যটির থেকে বেশি অদ্ভুত 14 00:02:04,181 --> 00:02:07,108 একটি স্বর্গীয় বন্দুক পাখি, 15 00:02:17,087 --> 00:02:22,311 বেশির ভাগ জঙ্গলের প্রানীদের মতো, এই স্বর্গীয় পাখিগুলোও একে অপরকে এড়িয়ে চলে। 16 00:02:22,312 --> 00:02:28,068 এবং এই জঙ্গলে আচ্ছাদিত দ্বীপে ভিন্ন ভিন্ন আবাসস্থল গড়ে তোলার মাধ্যমে তারা এটি করে 17 00:02:33,470 --> 00:02:40,680 জঙ্গলের মাটিতে একটুখানি জায়গা পরিস্কার করে এই ছয় ঝুটিওয়লা পাখিটি তার প্রদর্শনী দেখাচ্ছে, 18 00:02:47,083 --> 00:02:52,838 এই অসাধারন স্বর্গীয় পাখিটি ঝোপ ঝাড়ের ছোট ডালপালাগুলি বেশি পছন্দ করে, 19 00:02:56,296 --> 00:03:00,107 মেয়েটি কিন্তু সাধারন পোশাকেই এসেছে, 20 00:03:11,637 --> 00:03:14,289 এই পুরুষ পাখিটির ফুসফুসের জোর অনেক। 21 00:03:14,347 --> 00:03:19,769 কিন্তু মেয়েটিকে পটানোর জন্য, শুধু চোখের পাতা বড় করলেই চলবে না, আরো কিছু করতে হবে। 22 00:03:26,094 --> 00:03:28,609 সব কিছু নির্ভর করছে তার প্রদর্শনীর উপর। 23 00:03:33,755 --> 00:03:37,665 মেয়েগুলি দেখতে হয়তো তেমন সুন্দর না, কিন্তু তাদের রুচিবোধ খুব উঁচু মানের। 24 00:03:39,530 --> 00:03:43,302 সময় হয়েছে কাছ থেকে দেখার, 25 00:03:48,831 --> 00:03:53,692 ডান দিকটা তো ঠিকই মনে হচ্ছ, কিন্তু বাম দিকটা, , , , , , 26 00:03:57,684 --> 00:04:02,205 খুব আকর্ষণীয় কিন্তু সে কি যথেষ্ট চমৎকার? 27 00:04:04,200 --> 00:04:07,596 ওহ হো, মেয়েটির চলে যাওয়াতে সব পরিস্কার হলো। 28 00:04:08,213 --> 00:04:12,310 প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে, এইসব মেয়ে প্রাণীরাই বিবর্তনকে এগিয়ে নিয়ে গেছে, 29 00:04:12,415 --> 00:04:14,772 এরকম অসাধারন পরিবেশনের মাধ্যমে। 30 00:04:15,833 --> 00:04:20,631 পুরুষটি যতো বেশী আকর্ষণীয় হবে, সে ততো বেশী দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবে। 31 00:04:46,338 --> 00:04:52,898 নিউ গিনি অবস্থান করছে পৃথিবীর মাঝ বরাবর বিষুব রেখার উভয় পাশের ক্রান্তীয় অঞ্চলে 32 00:04:53,259 --> 00:04:56,655 প্রচুর বৃষ্টিপাত এবং প্রায় ১২ ঘন্টা সূর্যের আলো 33 00:04:56,741 --> 00:05:03,279 বছরের তিনশো পঁয়ষট্টি দিনে এই জঙ্গলকে বিকশিত করেছে, 34 00:05:08,097 --> 00:05:14,530 অবাক করে দিয়ে, সূর্যের আলোর মাত্র দুই শতাংশ মাটিতে পৌঁছতে পারে, 35 00:05:16,461 --> 00:05:20,558 এখানে গাছের অঙ্কুর বেড়ে ওঠা বেশ কঠিন, 36 00:05:20,940 --> 00:05:24,040 কিন্তু এই সমস্যা চিরকালের জন্য না। 37 00:05:57,559 --> 00:06:01,635 জঙ্গলের মহীরুহের মৃত্যু সবসময় কষ্টদায়ক 38 00:06:01,847 --> 00:06:06,433 কিন্তু জঙ্গলকে স্বাস্থ্যবান রাখতে হলে এটা হতেই হবে 39 00:06:08,046 --> 00:06:14,224 জঙ্গলের মাটিতে এই হঠাত রোদের ঝলক প্রানের বন্যা বইয়ে দেয়, 40 00:06:17,324 --> 00:06:23,544 এ ধরনের জঙ্গলের প্রতি হেক্টরে প্রায় পঞ্চাশ প্রকারের গাছ পাওয়া যায়। 41 00:06:23,714 --> 00:06:27,005 যুক্তরাজ্যে জন্মানো গাছের সংখ্যার প্রায় দশগুন। 42 00:06:27,259 --> 00:06:32,672 এবং এই আলোর প্রতি তৃষ্ণা সূর্যের আলো পাওয়ার এক প্রতিযোগিতা তৈরি করেছে, 43 00:06:48,233 --> 00:06:50,144 নস্ট করার কোন সময় নেই, 44 00:06:50,228 --> 00:06:57,064 একটি বীজ হয়তো পড়েছিল কয়েকদিন আগে, সেটাই এখন বিস্ফোরিত হয়ে নতুন পাতা মেলেছে, 45 00:07:10,969 --> 00:07:16,340 অনেক প্রতিযোগীদের ভিড়ে ভালোভাবে শুরু করাটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ 46 00:07:18,335 --> 00:07:22,135 কিন্তু প্রতিটা গাছের নিজস্ব একটা কৌশল আছে, 47 00:07:22,326 --> 00:07:25,998 এই দুর্লভ সুযোগ থেকে পুরোটা কাজে লাগানোর, 48 00:07:26,848 --> 00:07:29,650 কাষ্ঠল গাছগুলির অঙ্কুর খুব দ্রুত বের হয়, 49 00:07:29,820 --> 00:07:35,382 কিন্তু পৌরাণিক কচ্ছপের মতো তাদের কৌশল হচ্ছে ধিরে সুস্থে যাওয়া 50 00:07:40,010 --> 00:07:47,270 লতানো এবং অন্য আরোহী গাছেরা মোটা হবার পরিবর্তে দ্রুত উপরে উঠতে সব শক্তি ব্যয় করে। 51 00:07:47,462 --> 00:07:50,519 যদিও তাদের উপরের উঠার অবলম্বন দরকার, 52 00:07:56,485 --> 00:08:01,113 আরোহী গাছদের কৌশল বিশৃঙ্খল মনে হতে পারে, কিন্তু তাদের এই পাগলামিতেও একট কৌশল আছে, 53 00:08:01,155 --> 00:08:08,161 তাদের বর্ধিঞ্চু ডগাগুলো শক্ত কিছুকে ফাঁদের মতো জড়িয়ে ধরে তাদের নরম কান্ডকে অবলম্বন দেয়, 54 00:08:14,635 --> 00:08:16,822 তারা ছোট লতা দিয়ে পেঁচিয়ে ধরে, 55 00:08:16,949 --> 00:08:21,429 যাতে তাদের অবলম্বন সরে গেলেও তারা ছিঁড়ে না গিয়ে টানটান হয়ে ঝুলে থাকতে পারে। 56 00:08:24,061 --> 00:08:28,031 কিন্তু যারাই এখন এই ফাঁকাটা ভরাট করে ফেলতে পারবে তারাই এগিয়ে যাবে। 57 00:08:28,180 --> 00:08:31,406 যেমন এই মাকারাঙ্গা 58 00:08:32,383 --> 00:08:38,858 তাদের বিশাল পাতা দিয়ে তারা প্রচুর সূর্যের আলো গ্রহন করে, এবং তাদের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে। 59 00:08:44,931 --> 00:08:49,452 এর ফলে এই মাকারাঙ্গারা অবাক করে দিয়ে প্রতি বছর প্রায় আট মিটার করে বড় হয়। 60 00:08:49,538 --> 00:08:53,210 তাদের সব প্রতিদ্বন্দ্বীকে পেছনে ফেলে। 61 00:09:05,927 --> 00:09:09,705 উপরের স্থানটি দখল করতে প্রায় শখানেক প্রতিযোগিতা শুরু করেছিল 62 00:09:09,833 --> 00:09:16,690 তারপরও মাত্র কয়েকটি শেষ করতে পারবে, তাদের অগ্রযাত্রা কমে যাবে সূর্যের আলো কমে যাওয়ার সাথে সাথে, 63 00:09:19,195 --> 00:09:23,123 চার বছরের কম সময়ে এই ফাঁকাটি সম্পূর্ণ ভরে যাবে, 64 00:09:23,441 --> 00:09:26,965 কিন্তু এখানে এই প্রতিযোগিতা শেষ হবে না। 65 00:09:35,563 --> 00:09:41,932 শেষ পর্যন্ত ধীর স্থির কচ্ছপের গতির কাষ্ঠল গাছেদেরই জয় হয়, 66 00:09:43,799 --> 00:09:46,984 যখন স্বল্পায়ু দ্রুতগামীরা হার মেনে যায়, 67 00:09:47,238 --> 00:09:52,928 এই পঞ্চাশ মিটারের মতো লম্বা কাষ্ঠল গাছগুলিই তাদের স্থান দখল করে। 68 00:09:53,140 --> 00:09:58,680 এবং সূর্যের নিচে তাদের জীবন কাটিয়ে যাবে, আরো প্রায় দুইশো বছর। 69 00:10:35,617 --> 00:10:39,949 উপরে, এই ছাদই হচ্ছে জঙ্গলের চালিকাশক্তি। 70 00:10:40,224 --> 00:10:45,914 এখানেই এই ক্রান্তীয় জঙ্গলের বেশিরভাগ প্রাণীজীবন পাওয়া যাবে, 71 00:10:46,806 --> 00:10:54,490 কিন্তু আপাত দৃষ্টিতে জঙ্গলে গাছ লতাপাতার খাবার প্রচুর মনে হলেও, খাবার জোগাড় করা কিন্তু বেশ কঠিন। 72 00:11:07,950 --> 00:11:09,924 কোন সুনির্দিষ্ট ঋতুপরিবর্তন না থাকায়, 73 00:11:10,306 --> 00:11:14,531 সব গাছই বছরের ভিন্ন ভিন্ন সময় ফল দেয়, 74 00:11:14,595 --> 00:11:18,904 একারনে খাবারগুলো বেশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। 75 00:11:23,935 --> 00:11:29,285 এই টামারিনের মতো অন্য সব বানরেরা গাছের মগডালে ঘুরে বেড়ায় বিভিন্ন খাবারের খোঁজে 76 00:11:29,497 --> 00:11:31,599 বেঁচে থাকার জন্য, 77 00:11:34,168 --> 00:11:39,263 কিন্তু পৃথিবীর প্রায় সব ক্রান্তিয় জঙ্গলে একটি মাত্র ফলদায়ী গাছ আছে, 78 00:11:39,347 --> 00:11:43,445 যেটা সারা বছর ফল দেয়, ডুমুর। 79 00:11:52,764 --> 00:11:59,133 যেখানেই জন্ম হোক এই ডুমুর গাছগুলি বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীদের চুম্বকের মতো আকর্ষণ করে। 80 00:12:01,257 --> 00:12:06,075 আমাজন জঙ্গলে, সর্ব প্রথমেই আসে মাকড়সার মতো বানরেরা, 81 00:12:07,413 --> 00:12:10,703 এই বড় প্রাইমেটরা সবচে বড় ডুমুরভোজি 82 00:12:10,789 --> 00:12:16,287 কিন্তু তারা গাছের দখল বেশিদিন রাখবে না, অন্যরাও খেতে চাইছে, 83 00:12:17,370 --> 00:12:20,809 যেমন এই ছোট এম্পেরর টামারিন বানরটি। 84 00:12:24,099 --> 00:12:30,382 এই টামারিন বানরগুলিও ডুমুর খেতে পছন্দ করে, কিন্তু ছোট হবার কারনে তাদের সহজেই তাড়িয়ে দেয়া যায়, 85 00:12:40,593 --> 00:12:45,730 কাঠবিড়ালি বানরেরাও ছোট কিন্তু তারা দলে ভারি, 86 00:12:48,149 --> 00:12:54,305 গাছের উপর তাদের ভাগ খুব অল্প সময়ের তাই তারা যত তাড়াতাড়ি পারে মুখে পুরে নেয়, 87 00:13:03,285 --> 00:13:06,766 ক্যাপুচিন বানরেরা এই জঙ্গলের মাস্তান বাহিনি, 88 00:13:06,936 --> 00:13:10,482 এবং তারা পাকা ডুমুরগুলিতে ভাগ বসাতে চায়। 89 00:13:27,868 --> 00:13:32,050 সারা বছর ফল দেয়া খুব অল্প কয়েকটি গাছের মধ্যে ডুমুর একটি, 90 00:13:32,540 --> 00:13:39,289 তাই যখন অন্য কোন খাবার পাওয়া যায় না, কোথাও না কোথাও ডুমুর পাওয়া যাবেই, 91 00:13:43,238 --> 00:13:49,309 এমনকি এই পাতা খেকো হাওলার বানরগুলো, পাকা ডুমুরের লোভ সামলাতে পারে না। 92 00:13:55,296 --> 00:14:00,370 এবং বড় আকারের হাওলার বানরের সাথে ক্যাপুচিনো বানরেরা মাস্তানি দেখাতে আসেনা। 93 00:14:04,000 --> 00:14:09,519 ডুমুর জঙ্গলে এতোটাই জনপ্রিয় যে, প্রায় ৪৪ প্রজাতির পাখি এবং বানর 94 00:14:09,647 --> 00:14:14,317 একটি গাছে পালাক্রমে এসে ডুমুর খেতে দেখা গেছে, 95 00:14:23,275 --> 00:14:29,177 যেহেতু, ফলদায়ী গাছগুলি খুব মুল্যবান, বেশিরভাগ বানরেরা খুব দখলদার। 96 00:14:29,346 --> 00:14:31,194 এবং যদি তুমি গাছের মগডালে বাস করো, 97 00:14:31,299 --> 00:14:36,671 তাহলে নিজের বীরত্ব জাহির করার জন্য এর চেয়ে আর ভালো কোন ব্যাবস্থা নেই, 98 00:14:42,786 --> 00:14:46,798 সিয়ামাং গিবনদের এই ডাক শুরু হয় একটি দ্বৈত সঙ্গীতের মতো, 99 00:14:46,799 --> 00:14:49,451 একটি প্রভাবশালি পুরুষ এবং মেয়ের মধ্যে, 100 00:15:02,104 --> 00:15:08,451 তাদের পরিবারের বাকিরাও ধীরে ধীরে যোগ দিলে এই সঙ্গীত এক বিশাল উন্মত্ত কনসার্টে রুপ নেয়, 101 00:15:16,942 --> 00:15:22,526 তাদের এই চিৎকার প্রায় মাইলখানেক দূর থেকেও শোনা যায় এবং তাদের বক্তব্যও খুব স্পস্ট। 102 00:15:27,388 --> 00:15:32,864 তারা তাদের প্রতিবেশী সিয়ামাং গিবনদের জানান দেয়, এটা তাদের এলাকা, সুতরাং তফাৎ যাও। 103 00:15:43,096 --> 00:15:48,680 এই উপরে, সিয়ামাং গিবনদের ডাক বাতাস ভারি করে রেখেছে, 104 00:15:48,723 --> 00:15:51,609 কিন্তু জঙ্গলের নানাবিধ বৈচিত্র্যতার কারনে 105 00:15:51,610 --> 00:15:55,070 অগুনতি আরো অনেক শব্দ শোনা যায়, 106 00:16:01,290 --> 00:16:06,152 প্রতিটি স্তরেই যেন ভিন্ন ভিন্ন সুর বাধা আছে, 107 00:16:23,261 --> 00:16:27,889 ভোর বেলায়, জঙ্গলের গান বেশ জোরালো হয়, 108 00:16:28,164 --> 00:16:32,113 ঠান্ডা বাতাশে শব্দও অনেক দূর পর্যন্ত যায়, 109 00:16:35,721 --> 00:16:42,048 কিন্তু খুব অল্প শব্দই এই ঘন জঙ্গল ভেদ করে ছড়িয়ে যেতে পারে, 110 00:16:42,218 --> 00:16:46,676 একটি পুরুষ ওরাংওটাং এর গমগমে কন্ঠ 111 00:17:02,363 --> 00:17:05,824 দিনের মাঝামাঝি মিশ্র কিচির মিচির শব্দ, 112 00:17:05,888 --> 00:17:10,579 এবং গরম ভারী বাতাস শব্দকে আরো পাতলা করে দেয়, 113 00:17:13,084 --> 00:17:18,795 যতই বিকেল গড়াতে থাকে, ভিন্ন ভিন্ন বাদ্যযন্ত্রীরা তাদের বাজনা শুরু করতে থাকে, 114 00:17:20,918 --> 00:17:27,372 পোকামাকড়েরাও তাদের সাথে ছন্দ মেলায়, তাদের গানের ফাঁকে অল্প করে সুর ধরে যায়, 115 00:17:35,078 --> 00:17:38,135 কোন কোন গায়ক আবার সময় মেপে চলে, 116 00:17:38,347 --> 00:17:42,445 এবং ঠিক ছয়টায় তাদের সিম্ফনি বেজে ওঠে, 117 00:17:54,735 --> 00:17:58,748 রাতের বেলায় এক ভিন্ন অর্কেস্ট্রা বাজনা শুরু করে। 118 00:18:23,311 --> 00:18:27,896 এই প্রতিযোগিতামূলক কর্কশ শব্দ আমাদের বেশ পরিচিত, 119 00:18:28,087 --> 00:18:34,115 কিন্তু ব্যাঙের কান শুধু নিজ প্রজাতির শব্দ শোনার জন্যই তৈরি হয়েছে, 120 00:18:41,206 --> 00:18:45,622 মিলনের বাসনার গান চারদিক থেকে ভেসে আসছে, 121 00:18:58,507 --> 00:19:04,197 পুরুষ পাতার ব্যাঙটি গাছের ডগা থেকে লাফ দেয়, 122 00:19:38,951 --> 00:19:45,787 তাদের পরে যাওয়ার গতি কমিয়ে দিতে, তারা তাদের পাখনাজুক্ত পা প্যারাসুটের মতো ছড়িয়ে দেয়, 123 00:19:50,096 --> 00:19:55,084 এই বড় আকারের গেছো ব্যাং তাদের সারা জীবন গাছের মগডালে কাটিয়ে দেয়, 124 00:19:55,191 --> 00:19:58,970 এবং শুধুমাত্র প্রজননের সময় তারা নেমে আসে, 125 00:20:04,446 --> 00:20:09,733 নিজেকে ঠিকঠাক করে নিয়ে, সে তার অজানা মেয়ে সঙ্গীর জন্য গান শুরু করে 126 00:20:21,515 --> 00:20:25,909 এখন, মেয়েটির এই ডাকে সাড়া দেয়ার পালা 127 00:20:30,284 --> 00:20:35,420 উপযুক্ত পাত্রের অভাব নেই, তারপরো এই মেয়েটি তার সঙ্গি খুজে নিয়েছে, 128 00:20:35,421 --> 00:20:41,408 সে ছুটে যাচ্ছে সবচে জোরালো শব্দের দিকে কারন জোরালো শব্দ মানে শক্তিশালী ব্যাঙ 129 00:20:41,895 --> 00:20:49,707 এবং বড়গুলিই সেরা, কিন্ত তার কাছে পৌঁছতে হলে, তাদের ছোট আকারের ব্যাঙের পালের ভেতর দিয়ে যেতে হবে। 130 00:20:50,132 --> 00:20:55,077 তাদের একমাত্র উপায় হচ্ছে, লুকিয়ে কাবু করার চেস্টা করা, 131 00:21:00,618 --> 00:21:02,083 শেষপর্যন্ত সে সফল হয়েছে, 132 00:21:02,231 --> 00:21:09,364 কিন্তু বড় ব্যাঙটি গান না থামানো পর্যন্ত অন্যান্য মেয়ে ব্যাঙ আসতেই থাকবে, 133 00:21:15,648 --> 00:21:21,337 পা, যেগুলো ভেসে বেড়ানোর জন্য উপযুক্ত এগুলো এখন অন্য কাজেও লাগবে। 134 00:21:26,368 --> 00:21:30,847 দুজনের কাজে, তৃতীয় জন অপাংক্তেয় 135 00:21:31,060 --> 00:21:35,752 কিন্তু যা ই হোক, সব পুরুষ ব্যাঙের আঙ্গুল শুকনো, 136 00:21:35,901 --> 00:21:40,762 এগুলো তাদের সঙ্গীর ভেজা গায়ে আঠার মতো সেঁটে বসে। 137 00:21:42,100 --> 00:21:46,516 এই প্রক্রিয়া চলে আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে। 138 00:21:54,286 --> 00:22:01,057 এরকম স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া বসবাসের কারনে জঙ্গলের ব্যাঙেরা ডোবা নালার সন্ধানে থাকে না, 139 00:22:01,249 --> 00:22:04,858 এমনকি তারা পানিতেও ডিম পারে না। 140 00:22:14,667 --> 00:22:17,235 এগুলো শুকিয়ে নস্ট হবার একটা ছোট সম্ভাবনা থেকেই যায়, 141 00:22:17,575 --> 00:22:21,460 এবং এখানে তারা শিকারিদের হাত থেকেও নিরাপদ। 142 00:22:28,763 --> 00:22:33,582 অবাক হলেও, এই ক্রান্তিয় জঙ্গলে সব দিন বৃষ্টি হয়না, 143 00:22:34,261 --> 00:22:38,062 কিন্তু তারপরও পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে বেশি বৃষ্টি পরে এখানে, 144 00:22:38,444 --> 00:22:41,565 গড়পড়তা, বছরে প্রায় দুই মিটার। 145 00:22:51,776 --> 00:22:57,720 মাত্র একটি গাছ, বছরে কয়েক শত টন পানি শোষণ করতে পারে। 146 00:23:00,182 --> 00:23:02,603 কিন্তু গাছ এই সব পানি ব্যাবহার করে না, 147 00:23:02,730 --> 00:23:09,438 তাই এর বেশির ভাগ প্রকৃতিতে ফেরত যায়, পাতার মাধ্যমে জলকনা থেকে কুয়াশায় পরিনত হয়, 148 00:23:14,661 --> 00:23:19,565 আমাজন জঙ্গল, পৃথিবীর সবচে বড় একক ক্রান্তিয় বনাঞ্চল। 149 00:23:19,756 --> 00:23:27,059 এখানে যত বৃষ্টিপাত হয়, তার অর্ধেক আসে গাছপালা থেকে বের হওয়া জলকনার রুপান্তরিত মেঘ থেকে, 150 00:23:59,368 --> 00:24:05,015 এতো বেশি বৃষ্টি হবার কারনে, এটা স্বাভাবিক যে, পৃথিবীর সবচে বড় নদীগুলো 151 00:24:05,206 --> 00:24:07,987 এই ক্রান্তীয় জঙ্গলে দেখা যায়, 152 00:24:23,060 --> 00:24:26,244 জঙ্গলের গভীরে, আর্দ্র পরিবেশ 153 00:24:26,350 --> 00:24:34,374 এক অদ্ভুত জগতের বেড়ে ওঠার পরিবেশ তৈরি করে, যেখানে জরা থেকে বেড়ে ওঠে নতুন জীবন। 154 00:24:46,284 --> 00:24:55,031 পচে যাওয়া পাতা এবং ব্যাকটেরিয়া খেয়ে এমিবার মতো আঠালো ছত্রাকেরা বেড়ে ওঠে, 155 00:25:11,037 --> 00:25:15,241 ছত্রাকেরা মৃত জীবেই গজিয়ে ওঠে, 156 00:25:16,599 --> 00:25:21,716 এগুলোই হচ্ছে ছত্রাকের ফলদায়ী বাহ্যিক রুপ, 157 00:25:21,821 --> 00:25:27,193 যার বেশিরভাগ জালের মতো ছড়িয়ে আছে মাটির নিচে বিশাল এলাকা জুড়ে 158 00:25:58,612 --> 00:26:04,365 নাতিশীতোষ্ণ জঙ্গলে ঝরে পরা পাতার স্তুপেও সঞ্চিত থাকে অনেক খাদ্যগুন 159 00:26:04,579 --> 00:26:07,487 এখানে, এমনটা হয়না। 160 00:26:11,286 --> 00:26:15,469 খাদ্যগুন সম্পন্ন কিছু মাটিতে পরলে সেটা বৃষ্টির পানিতে মাটিতে চলে যায়, 161 00:26:15,510 --> 00:26:20,033 কিন্তু ছত্রাকেরা মাটির নিচের সুতোর মতো শেকড় দিয়ে গাছের শেকড়ের সাথে লেগে থাকে 162 00:26:20,203 --> 00:26:22,369 এবং মৃত জীবকে দ্রুত হজম করে 163 00:26:22,411 --> 00:26:28,079 তারা সেই জীব থেকে প্রাপ্ত খনিজ সরাসরি গাছে পরিবহন করতে সাহায্য করে 164 00:26:34,745 --> 00:26:40,965 এবং এই প্রক্রিয়া পৃথিবীর অন্য যে কোন অঞ্চলের চেয়ে এখানে দ্রুততর গতিতে হয়। 165 00:27:00,964 --> 00:27:06,292 ধারনা করা হয়, এই ক্রান্তীয় অঞ্চলে প্রায় দশ লক্ষ প্রজাতির ছত্রাক আছে, 166 00:27:06,419 --> 00:27:10,877 যার বেশিরভাগ এখনো বিজ্ঞানীদের অজানা, 167 00:27:17,097 --> 00:27:19,496 কিন্তু একটা ব্যাপার নিশ্চিত করেই বলা যায়, 168 00:27:19,686 --> 00:27:24,718 এই ছত্রাক ছাড়া, এই জঙ্গল গড়ে উঠতো না। 169 00:27:35,777 --> 00:27:38,771 এই জঙ্গলে কোন কিছুই বৃথা যায় না, 170 00:27:39,026 --> 00:27:43,887 এই ছত্রাকগুলো বিটল পোকার কীটদের খাবারে পরিনত হয়, 171 00:27:48,197 --> 00:27:51,296 এই কীটগুলির জন্য ছত্রাক খুজে পাওয়া কোন ব্যাপার না, 172 00:27:51,381 --> 00:27:55,966 যখন তার মমতাময়ী মা তাদের পথ দেখিয়ে দেয়, 173 00:28:09,297 --> 00:28:14,583 আশ্চর্যজনকভাবে শতকরা ৮০ ভাগ পোকামাকড় জঙ্গলে বাস করে। 174 00:28:14,966 --> 00:28:21,823 খুব কমই এই পিঁপড়াদের মতো সফল হয়, জঙ্গলে এক হেক্টরে প্রায় ৮০ লক্ষ পিপড়া থাকতে পারে। 175 00:28:23,161 --> 00:28:27,299 কিন্তু জঙ্গলে পিঁপড়াদের কথা মতোই সব হয় না, 176 00:28:34,050 --> 00:28:39,315 এই বুলেট পিঁপড়াটিতে কিছু উদ্বেগজনক লক্ষন দেখা দিচ্ছে, 177 00:28:39,910 --> 00:28:43,773 কর্ডিসেপ নামে এক পরজীবী ফাঙ্গাসের বীজ 178 00:28:43,815 --> 00:28:48,167 এর শরীরে প্রবেশ করে মাথায় আক্রমন করেছে, 179 00:28:54,537 --> 00:28:59,440 এর আক্রান্ত ব্রেইন পিঁপড়াটির কাজকর্ম ওলটপালট করে দিচ্ছে, 180 00:29:00,926 --> 00:29:06,254 তারপর, অসংলগ্ন হয়ে সে তার চোয়াল দিয়ে এই গাছের কান্ডকে আঁকড়ে ধরে আছে, 181 00:29:06,742 --> 00:29:09,927 শ্রমিক পিঁপড়ারা এরকম আক্রান্ত পিঁপড়া খুঁজে পেলে, 182 00:29:09,928 --> 00:29:14,385 দ্রুত তুলে নিয়ে যায়, এবং তাদের আবাসস্থল থেকে দূরে নিয়ে ফেলে দিয়ে আসে, 183 00:29:15,977 --> 00:29:20,838 হয়তো এটা নিষ্ঠুর মনে হতে পারে কিন্তু এর যথার্থ কারনও আছে, 184 00:29:22,388 --> 00:29:25,232 অনেক সময় বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিতে এরকম দেখা যায়, 185 00:29:25,382 --> 00:29:31,050 কর্ডিওসেপের বাড়ন্ত শরীর পিঁপড়াটির মাথা ফুঁড়ে বের হয়ে বড় হতে থাকে, 186 00:29:45,613 --> 00:29:48,118 এটা তিন সপ্তাহ ধরে বড় হয়, 187 00:29:48,480 --> 00:29:53,129 এবং যখন বড় হওয়া শেষ হয়, তখন এর মাথা ফেটে গিয়ে আরো বীজগুটি চারদিকে ছড়িয়ে পরে, 188 00:29:53,362 --> 00:29:58,840 তারপর কোন পিঁপড়া এই বীজগুটির সংস্পর্শে আসলে তার মৃত্যু অনিবার্য। 189 00:30:01,132 --> 00:30:05,780 এই ছত্রাক এতোই বিপদজনক যে এটি পিঁপড়ার পুরো আবাসস্থলকে বিনাস করে ফেলতে পারে। 190 00:30:06,206 --> 00:30:10,176 এবং শুধুমাত্র পিঁপড়ারাই এর শিকার নয়, 191 00:30:12,298 --> 00:30:17,075 কয়েক হাজার প্রকারের কর্ডিওসেপ ছত্রাক আছে, 192 00:30:17,224 --> 00:30:23,316 এবং অদ্ভুতভাবে, প্রতিটি একটি নির্দিষ্ট প্রজাতিকেই আক্রমন করে। 193 00:30:59,087 --> 00:31:04,075 কিন্তু এই আক্রমনেরও একটি ভাল দিক আছে 194 00:31:04,353 --> 00:31:10,954 এই ধরনের পরজীবীরাই জঙ্গলে কোন একটি প্রজাতির প্রাচুর্যতাকে রোধ করে। 195 00:31:11,442 --> 00:31:16,984 কোন একটি প্রজাতি সংখ্যায় যতো বেশী হবে, ততোই তাদের সম্ভাবনা বেড়ে যাবে যমের হাতে মরার 196 00:31:17,111 --> 00:31:19,658 কর্ডিওসেপ ছত্রাক। 197 00:31:43,563 --> 00:31:49,527 অনেক বেশি প্রতিযোগিতা থাকায়, জঙ্গল পরিনত হয়েছে বিশেষজ্ঞদের আবাসভুমিতে 198 00:31:49,761 --> 00:31:55,026 বোর্নিওর এই দ্বীপে, এই প্রানিটি অদ্ভুত প্রাণীগুলির মধ্যে অন্যতম 199 00:31:55,769 --> 00:32:00,992 এটা কলুগো, এক ধরনের উরন্ত লেমুর, যদিও এটা একটা মিথ্যা নাম, 200 00:32:00,993 --> 00:32:05,089 কারন এটা আসলে উড়ে না এবং এটা কোন ভাবেই লেমুর না। 201 00:32:05,259 --> 00:32:10,376 সত্যি বলতে এটার কাছাকাছি প্রজাতিটি কি সেটাও কেউ সঠিক করে বলতে পারে না, 202 00:32:29,926 --> 00:32:33,875 কলুগো শুধুমাত্র কচি পাতা খেয়ে বেঁচে থাকে, 203 00:32:34,023 --> 00:32:38,716 এবং পর্যাপ্ত পরিমানে খাওয়ার জন্য তাকে এ গাছ থেকে ও গাছে চরে বেড়াতে হয়, 204 00:32:40,265 --> 00:32:46,910 এই পাতাগুলো খুব বেশি খাদ্যগুন সম্পন্ন না, তাই চরে বেড়ানোর জন্যও বেশি শক্তি খরচ করার কোন মানে নেই, 205 00:32:52,746 --> 00:32:57,672 এক রাতে কলুগোকে প্রায় দুই মাইল চরে বেড়াতে হয়, 206 00:32:57,736 --> 00:33:03,510 এবং এই কাজটি সহজ হয়ে যায় তার ভেসে বেড়ানোর দক্ষতার মাধ্যমে 207 00:33:35,458 --> 00:33:40,149 এই জঙ্গলে সফলতার অন্যতম শর্ত হচ্ছে কোন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠা। 208 00:33:40,277 --> 00:33:44,777 এবং এটাই প্রকৃতিতে খুব ঘনিষ্ঠতম সম্পর্কের বিবর্তন ঘটিয়েছে 209 00:33:44,778 --> 00:33:48,237 উদ্ভিদ এবং প্রাণীদের মধ্যে, 210 00:33:49,108 --> 00:33:53,524 এই পিচার গাছটিও বোর্নিওর জঙ্গলের 211 00:33:58,703 --> 00:34:02,652 অল্প সার মাটিতে বড় হতে গিয়ে সে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে, 212 00:34:02,842 --> 00:34:08,213 এই পিচার গাছটি তার খাদ্যের বেশিরভাগ পায়, তার টোপে ধরা পরা পোকামাকড় থেকে 213 00:34:08,382 --> 00:34:11,185 যে টোপটি থাকে তার পাতার নিচে। 214 00:34:12,331 --> 00:34:18,743 একবার এখানে দাঁড়ালে, টোপের ভেতরের পিচ্ছিল আঠালো পদার্থ কোন পোকাকে আর ছাড়ে না, 215 00:34:22,011 --> 00:34:25,832 বেশিরভাগ নিচের পানিতে নিমজ্জিত হয়, 216 00:34:33,304 --> 00:34:37,635 টোপের নিচের গ্রন্থি থেকে এনজাইম বের হয়, 217 00:34:37,762 --> 00:34:42,730 যেটা পোকাকে হজম করে গাছের খাদ্যে পরিনত করে, 218 00:34:43,642 --> 00:34:47,889 কিন্তু সব দর্শকেরাই টোপের ফাদে ধরা দেয় না, 219 00:34:49,035 --> 00:34:56,826 লাল কাঁকড়া মাকড়শা সারা জীবন এই টোপের ভেতরেই কাটায় এক প্রকারের সুতা দিয়ে নিজেকে আটকে রেখে, 220 00:35:05,743 --> 00:35:11,984 সে খাওয়ার জন্য নিজে ফাঁদ না পেতে, এই পিচার গাছের পানিতে পরিপুর্ন ফাঁদকে ব্যাবহার করে, 221 00:35:14,616 --> 00:35:19,456 যখন এই ফাঁদে পিঁপড়া এসে পরে, মাকড়শাটি শুধু অপেক্ষা করে এর জন্য, 222 00:35:19,626 --> 00:35:24,148 এবং নিচে নেমে গিয়ে তুলে নিয়ে আসে। 223 00:35:30,878 --> 00:35:35,208 জীবন্ত অবস্থায় এই পিঁপড়াটি শিকার করা এই মাকড়শার জন্য অনেক বিপদজনক 224 00:35:35,336 --> 00:35:41,471 তাই এই পিচার গাছের টোপ টি ব্যাবহার করে সে অনেক বড় আকারের শিকার ধরতে পারে, 225 00:35:43,276 --> 00:35:46,418 এবং এই মাকড়শাটি পিচার গাছ থেকে সব কিছু নিয়ে যায় না, 226 00:35:46,566 --> 00:35:50,431 নিজে খেয়ে কিছু অংশ রেখে যায়, পানিতে 227 00:35:50,579 --> 00:35:54,081 যা এই গাছের জন্য খাদ্য হিসেবে থেকে যায়, 228 00:35:58,221 --> 00:36:02,849 অন্য খাবার, যেমন এই মশার শুটকীট মনে হতে পারে ধরা ছোঁয়ার বাইরে 229 00:36:02,933 --> 00:36:06,118 কিন্তু এই মাকড়শাটির আরেকটি অবাক করা কৌশল আছে, 230 00:36:06,394 --> 00:36:09,643 নিজের জন্য একটি বুদবুদে করে বাতাস নিয়ে 231 00:36:09,770 --> 00:36:14,950 সে পিচার গাছের টোপের পানিতে ডুব দিতে পারে। 232 00:36:18,091 --> 00:36:25,225 একবার ধরতে পারলে, মাকড়শাটি তার নিরাপত্তা দড়ি বেয়ে উপরে উঠে আসে, 233 00:36:32,421 --> 00:36:38,195 এই পিচার গাছের টোপটি এই মাকড়শাটির জন্য দোকানে পরিনত হয়, 234 00:36:38,535 --> 00:36:44,543 এই জঙ্গলের সব কিছু নিয়েই প্রতিযোগিতা হয়, এমনকি এই পিচার গাছে টোপের পানি নিয়েও 235 00:37:00,740 --> 00:37:05,623 এই বিশেষজ্ঞরাই জঙ্গলে এরকম বৈচিত্র্য তৈরি করেছে, 236 00:37:06,048 --> 00:37:09,338 কিন্তু যথেস্ট খাবার খুঁজে পাওয়া সবসময়ই বেশ কঠিন, 237 00:37:09,445 --> 00:37:12,608 তাই এখানকার বেশিরভাগ প্রাণীই আকারে ছোট 238 00:37:12,883 --> 00:37:15,367 যদিও কিছু ব্যাতিক্রম আছে, 239 00:37:23,138 --> 00:37:26,641 এটা আফ্রিকার কঙ্গো। 240 00:37:26,895 --> 00:37:32,562 এটা একটা বিশাল অরন্য, এবং জঙ্গলগুলির মধ্যে সবচে কম পরিচিত। 241 00:37:34,962 --> 00:37:40,991 উপর থেকে দেখলে এই জঙ্গলকেও দক্ষিন আমেরিকার আমাজন জঙ্গলের মতো মনে হবে। 242 00:37:41,585 --> 00:37:46,064 কিন্তু নিচের দিকে কিছু অপ্রত্যাশিত জিনিস দেখা যায়, 243 00:38:03,939 --> 00:38:09,055 শত শত মাইল চলার রাস্তা জঙ্গলের ভেতর দিয়ে একেবেকে গেছে, 244 00:38:09,204 --> 00:38:12,770 এবং এগুলো তৈরি হয়েছি বড় কিছুর দ্বারা। 245 00:38:22,132 --> 00:38:27,164 খাবারের খোঁজে জংলী হাতীরা অনেক দূর পর্যন্ত যায়, 246 00:38:27,546 --> 00:38:32,769 কিন্তু বেঁচে থাকতে হলে, তাদের জঙ্গল থেকে বাইরে বের হতে হয়, 247 00:38:34,296 --> 00:38:40,814 এবং জঙ্গলের মাঝে এরকম ফাঁকা যায়গা তাদের চুম্বকের মতো টানে। 248 00:39:36,796 --> 00:39:42,379 These elephants live in much smaller groups সাভানা সমভুমিতে চড়ে বেড়ানো হাতীদের তুলনায় এখানকার হাতীরা বেশ ছোট দলে বাস করে। 249 00:39:42,930 --> 00:39:48,875 হয়তো কয়েক মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো একটি দলের সাথে আরেকটি দলের সাক্ষাত হলো। 250 00:39:58,386 --> 00:40:05,625 বয়স্ক পুরুষদের জন্য এটা বেশ আনন্দজনক মেলা নয়তো অন্য সময় তাদের সম্পূর্ণ একাকী কাটাতে হয়, 251 00:40:13,692 --> 00:40:17,768 এবং শুধুমাত্র এরাই এই ফাঁকা জায়গার প্রতি আকৃষ্ট হয়না, 252 00:40:20,336 --> 00:40:26,026 বুনো মহিষ এবং নদীর লাল বুনো শুকরেরাও এখানে সব সময়ই আসে, 253 00:40:26,430 --> 00:40:31,907 এবং বঙ্গোরাও আসে, যাদের এই ফাঁকা স্থান ছাড়া প্রায় দেখাই যায়না 254 00:40:32,459 --> 00:40:38,488 জঙ্গলের এই বড় প্রানীরা এখানে এসেছে তাদের রোজকার খাবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি পুরন করার জন্য, 255 00:40:38,658 --> 00:40:41,652 এগুলো কাদামাটির নিচেই রয়েছে, 256 00:40:46,364 --> 00:40:51,459 এবং হাতীদের শুঁড় হচ্ছে এগুলো বের করার উৎকৃষ্ট জিনিস। 257 00:41:05,619 --> 00:41:07,084 যা খুঁজছে তা পাওয়ার জন্য, 258 00:41:07,085 --> 00:41:12,646 হাতীগুলোকে প্রথমে উপরের কাদামাটিগুলোকে বাতাস দিয়ে সরাতে হবে, 259 00:41:34,787 --> 00:41:37,717 শেষমেশ তৃপ্তি মিললো। 260 00:41:42,706 --> 00:41:45,741 তারা সংগ্রহ করছে এক ধরনের বিশেষ কাদামাটি, 261 00:41:45,869 --> 00:41:50,178 যেগুলোতে আছে খনিজ লবন যা তাদের রোজকার খাবারে পাওয়া যায় না, 262 00:41:50,476 --> 00:41:56,739 এগুলো হয়তো কাদামাটি, কিন্তু রক্তকে পরিপূর্ণ করতে এগুলোর বিকল্প নেই, 263 00:41:57,778 --> 00:42:04,508 হাতীরা বিভিন্ন গাছে পাতা খায়, সেসব পাতার বিষাক্ত উপাদানগুলোও এই মাটিতে প্রশমিত হয়, 264 00:42:10,112 --> 00:42:13,104 এখানে জড়ো হবার আরো একটা উপকার আছে, 265 00:42:13,932 --> 00:42:17,202 এই ফাঁকা স্থানগুলিই একমাত্র জায়গা যেখানে 266 00:42:17,203 --> 00:42:20,111 জংলী হাতীরা অনেক সংখ্যায় একত্রিত হতে পারে। 267 00:42:20,302 --> 00:42:26,628 যখন আবার তারা জঙ্গলে ফিরে যাবে, যে যার নিজ নিজ পথে আলাদা হয়ে যাবে, 268 00:42:47,136 --> 00:42:50,426 যদি বড় প্রাণী জঙ্গলে বিরল হয়, 269 00:42:50,554 --> 00:42:56,328 তাহলে জঙ্গলে বড় প্রানীদের দল খুঁজে পাওয়া আরো দুর্লভ 270 00:43:15,073 --> 00:43:22,121 এই শিকারীদের দলটি যেমন ভয়ংকর তেমনি অনেক বড়। 271 00:43:41,419 --> 00:43:45,793 খাবারের খোঁজে শিম্পাঞ্জীরা দলবদ্ধভাবে 272 00:43:45,794 --> 00:43:48,871 জঙ্গলের মাটিতে এবং ডালপালায় চলার মধ্যে থাকে 273 00:43:49,040 --> 00:43:53,223 জঙ্গলের খুব অল্প কয়েকটি প্রাণী এটা করতে পারে। 274 00:44:07,849 --> 00:44:11,926 শিম্পাঞ্জীদের খাবারের অন্যতম অংশ হচ্ছে ডুমুর 275 00:44:12,308 --> 00:44:16,448 এবং কেউ কেউ এগুলো মুখ পুরে খায়, 276 00:44:26,002 --> 00:44:30,333 কিন্তু উগান্ডার এই জঙ্গলে এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে 277 00:44:30,417 --> 00:44:33,368 ফলফলাদি এখানে প্রচুর, 278 00:44:38,973 --> 00:44:43,771 এবং অনেক খাবার থাকায় শিম্পাঞ্জীদের সংখ্যাও অনেক। 279 00:45:00,373 --> 00:45:04,448 এই দলটি প্রায় দেড়শ শিম্পাঞ্জীর 280 00:45:04,449 --> 00:45:07,271 এখন পর্যন্ত দেখা আফ্রিকার সবচে বড়, 281 00:45:07,441 --> 00:45:12,919 তাদের সংখ্যা এতো বেশী যে তাদের অনেক ডুমুর গাছের বিশাল এলাকার দরকার 282 00:45:13,046 --> 00:45:15,572 এবং তারা এর জন্য জুদ্ধ করতেও রাজী। 283 00:45:24,892 --> 00:45:31,176 এই ডাক তাদের প্রতিবেশীদের দখলে থাকা এক অঞ্চলে আক্রমন শুরুর সঙ্কেত দেয়, 284 00:45:37,460 --> 00:45:44,571 তারা যখন নিজ অঞ্চল ছেড়ে আসে, এই দলটি চুপচাপ এগিয়ে যায় এবং থেমে থেমে শোনার চেস্টা করে 285 00:45:48,902 --> 00:45:54,698 শত্রুদের অবস্থান চিহ্নিত করা গেছে, এবং তারা খুব কাছেই আছে, 286 00:46:08,815 --> 00:46:13,994 হামলাকারি শিম্পাঞ্জীরা তাদের এলাকার একেবারে প্রান্তে, 287 00:46:14,758 --> 00:46:18,495 সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। 288 00:46:26,795 --> 00:46:29,895 এরপর শুধু অপেক্ষায় থেকে কান পেতে রাখা, 289 00:46:51,399 --> 00:46:55,582 একটি অপরিচিত শিম্পাঞ্জীর ডাকে সবার উত্তেজনা বেড়ে যায়, 290 00:46:55,645 --> 00:47:03,096 এটা একটা অনিশ্চিত অবস্থা, এমনকি প্রতিপক্ষের শক্তি সম্পর্কেও কোন ধারনা নেই তাদের। 291 00:47:05,621 --> 00:47:09,337 তাদের প্রতিবেশীরা খুব কাছেই একটি ডুমুর গাছে বসে খাচ্ছে, 292 00:47:09,676 --> 00:47:12,988 তাদের দিকে এগিয়ে আসা বিপদ টের না পেয়ে। 293 00:47:14,346 --> 00:47:18,125 হামলাকারী দলটি এগিয়ে যায়, 294 00:47:18,146 --> 00:47:22,031 প্রতিপক্ষের কাছাকাছি যা যাওয়া পর্যন্ত তাদের নিঃশব্দে এগোতে হবে। 295 00:47:34,599 --> 00:47:36,424 আক্রমন শুরু হয়ে গেছে, 296 00:47:38,993 --> 00:47:45,000 তাদের প্রতিপক্ষকে ভয় দেখাতে, আক্রমনকারীরা চিৎকার করতে থাকে এবং গাছের কান্ডে থাবা দিয়ে শব্দ করতে থাকে 297 00:48:05,273 --> 00:48:08,499 কয়েকটি পুরুষ প্রতিপক্ষের একটি মেয়েকে ঘিরে ধরেছে, 298 00:48:08,500 --> 00:48:13,489 এটা একটা ভয়ানক হামলা, তবে সৌভাগ্যবশত সে প্রান নিয়ে পালাতে পেরেছে, 299 00:48:30,789 --> 00:48:33,634 অন্যরা তার মতো সৌভাগ্যবতী নয়। 300 00:48:39,918 --> 00:48:44,228 যুদ্ধে জেতা গেছে, এখন এর কালো অধ্যায় চোখে পড়ছে 301 00:48:45,120 --> 00:48:48,368 প্রতিপক্ষের একটি তরুন শিম্পাঞ্জীকে ধরে মেরে ফেলা হয়েছে, 302 00:48:48,623 --> 00:48:54,227 তার দেহটা বিজয়ীরা ভাগ করে নিয়েছে এবং খেয়ে ফেলছে, 303 00:48:57,497 --> 00:49:02,741 খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিপক্ষকে মেরে ফেলা হয়তো মেনে নেয়া যায়, 304 00:49:05,945 --> 00:49:11,147 কিন্তু ঠিক কেন তারা স্বজাতিকে খেয়ে ফেলছে এটা পুরোপুরি পরিস্কার না। 305 00:49:12,229 --> 00:49:17,197 হয়তো কিছু অতিরিক্ত আমিষ পাওয়ার জন্যই। 306 00:49:28,703 --> 00:49:32,885 দলগত প্রচেস্টাই এই শিম্পাঞ্জীর দলটিকে সাফল্য এনে দিয়েছে, 307 00:49:33,076 --> 00:49:37,003 কিন্তু খুব দ্রুত তারা তাদের শক্তির সীমারেখা অতিক্রম করবে, 308 00:49:37,810 --> 00:49:44,922 সম্পদের জন্য প্রতিযোগিতাই নিশ্চিত করে যে, কোন এক প্রজাতি এই জঙ্গলের রাজত্ব করতে পারবে না। 309 00:49:51,460 --> 00:49:55,600 অনেক মুল্যের বিনিময়ে এই জঙ্গলের প্রাণী বৈচিত্র্য ঘটেছে, 310 00:49:55,790 --> 00:49:59,951 এই জঙ্গলগুলোই পৃথিবীর সবচে সুন্দর বাস্তুতন্ত্রগুলি তৈরি করেছে, 311 00:50:00,142 --> 00:50:05,173 শুধুমাত্র আরেকটি প্রজাতির বানরদের দ্বারা খুব দ্রুত এবং অতি সহজেই নস্ট হবার জন্য, 312 00:50:05,428 --> 00:50:08,287 এরা এই শিম্পাঞ্জীদের খুব কাছের আত্মীয় 313 00:50:08,626 --> 00:50:12,044 আমরা। 314 00:50:16,626 --> 00:50:22,044 বাংলা সাব সজীব