0
00:00:07,180 --> 00:00:15,180
বাংলা সাব সজীব
1
00:00:31,708 --> 00:00:35,725
পৃথিবীর উভয় মেরুই বরফ দিয়ে ঢাকা
2
00:00:36,061 --> 00:00:41,012
তারাই সবচে বড় এবং সবচে আরাধ্য বিজন প্রান্তর
3
00:00:42,782 --> 00:00:47,494
পৃথিবীর অন্য কোথাও ঋতু পরিবর্তন এতোটা প্রকট হয়না।
4
00:00:47,757 --> 00:00:53,568
এর কারনে প্রতি বছর পালা করে বরফ আসে এবং চলে যায়,
5
00:00:54,621 --> 00:00:59,165
এবং এখানকার সব জীবনই এটা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
6
00:01:17,128 --> 00:01:20,835
যখন প্রথম ভ্রমণকারী দক্ষিন মেরুর দিকে যাত্রা করে।
7
00:01:20,931 --> 00:01:27,245
বরফের বিশালা আকারের তোরন
অজানা দেশে তাদের প্রথম পথচিহ্ন খোদাই করে রাখে,
8
00:01:31,407 --> 00:01:38,247
বরফের খাড়া লম্বা চাই অতিক্রম করার সময়েই তারা
সামনে অপেক্ষমাণ অপার্থিব রুপ সম্পর্কে ধারনা পেয়ে যায়,
9
00:01:42,481 --> 00:01:46,619
তারা যতই ভেতরে যাচ্ছিল, ততই বরফের আকার বড় হচ্ছিল।
10
00:01:46,738 --> 00:01:53,818
কিন্তু কোন কিছুই তাদের ঠিকমতো ধারনা দিতে পারেনি,
তারা নিজের চোখে যা কিছু দেখতে যাচ্ছে,
11
00:01:58,984 --> 00:02:04,007
Terra incognita - অজানা পৃথিবী।
12
00:02:16,134 --> 00:02:20,989
আমাদের পৃথিবীর একেবারে দক্ষিন অবস্থিত "এন্টার্কটিকা"
13
00:02:21,085 --> 00:02:24,648
এটা আকারে প্রায় যুক্তরাষ্ট্রের সমান বড়।
14
00:02:31,011 --> 00:02:35,650
পৃথিবীর যত বরফ তার নব্বইভাগ এখানে পাওয়া যাবে।
15
00:02:38,330 --> 00:02:45,601
এই জমে যাওয়া পৃথিবী
অনেকটাই নিস্প্রান থাকে বসন্তের আগ পর্যন্ত
16
00:02:50,073 --> 00:02:52,179
এডেলি পেঙ্গুইন,
17
00:02:52,944 --> 00:02:55,097
খুব তাড়ায় আছে,
18
00:03:00,597 --> 00:03:02,917
ঘড়ির কাটা বয়ে যাচ্ছে,
19
00:03:03,156 --> 00:03:09,830
গ্রীষ্মের বরফ গলার অপেক্ষা না করেই তারা
দ্রুতবেগে দক্ষিন দিকে জমে যাওয়া সাগরের দিকে যাচ্ছে,
20
00:03:21,789 --> 00:03:26,238
তারা এখানে এসেছে ডিম পাড়তে
কারন মেরুর গ্রীষ্ম খুব স্বল্পস্থায়ী হয়,
21
00:03:26,429 --> 00:03:30,902
বরফ গলতে শুরু করার আগেই
তাদের জায়গা বেছে নিতে হবে।
22
00:03:35,733 --> 00:03:41,044
যতই বরফ সরে যেতে শুরু করে
ততই দক্ষিন দিকে প্রানের মেলা বসতে থাকে।
23
00:03:46,974 --> 00:03:54,318
এন্টার্কটিকার পানি এতোটাই সমৃদ্ধ যে
অনেক দূর দুরান্ত থেকে প্রানীরা এখানে খাবারের সন্ধানে আসে,
24
00:04:01,660 --> 00:04:07,520
অনেক পেঙ্গুইনেরা পাড়ে এসেছে ডিম পাড়ার জন্য।
25
00:04:15,415 --> 00:04:19,529
কোন পাখিই সরাসরি বরফের উপর ডিম পাড়বে না,
26
00:04:19,625 --> 00:04:26,752
তাই ছোট পাথর একটি দরকারি জিনিস
এবং ভালো পাথরের সন্ধানে উপরেও উঠে যায় তারা,
27
00:04:31,463 --> 00:04:39,165
এই পাহাড়ের ঢালগুলো শীঘ্রই হাজার হাজার
পেঙ্গুইনের বর্জ্যে গোলাপি রঙ ধারন করবে।
28
00:04:47,585 --> 00:04:55,574
একমাত্র এরকম বরফে আচ্ছাদিত অঞ্চলেই
পাথুরে জমি মরুদ্যানের মতো মনে হবে।
29
00:04:57,367 --> 00:05:02,031
কেউ কেউ তো এই পাথরের খোঁজে এর একেবারে ভেতরে চলে আসে।
30
00:05:03,706 --> 00:05:13,727
শুধু মাত্র দুপুর বেলাতেই প্রায় কয়েক মাইল
গভীর বরফে ঢাকা এই পাহাড়ের চূড়া গুলো বরফহীন হয়।
31
00:05:15,306 --> 00:05:20,807
কেবল বসন্তেই এইরকম কর্কশ ডাকে
এখানকার নিস্তব্ধতা ভাঙ্গে
32
00:05:27,552 --> 00:05:31,952
বরফের পেট্রেল পাখিরা এসেছে এবং জোড়া বাধছে,
33
00:05:39,204 --> 00:05:44,873
এই এন্টার্কটিকার পেট্রেলরাই
পৃথিবীর সবচে দক্ষিনের অধিবাসি।
34
00:05:46,361 --> 00:05:49,909
এই পাখিরা উপকূল থেকে
প্রায় তিনশো মাইল ভিতরে চলে এসেছে,
35
00:05:49,930 --> 00:05:52,520
এই ডিম পাড়ার স্থানে আসার জন্য।
36
00:05:57,250 --> 00:06:02,899
যখন তাদের ডিম ফুটে বাচ্চা বের হবে
তারা তখন বাধ্য হবে ছয়শো মাইলের এই আসা যাওয়ার পথ
37
00:06:02,919 --> 00:06:05,039
পাড়ি দিয়ে সাগর থেকে খাবার নিয়ে আসতে।
38
00:06:07,323 --> 00:06:13,297
প্রথমে অবশ্য তাদের ভুমিদস্যুদের হাত থেকে
নিজের বাসাকে রক্ষা করতে হবে।
39
00:06:20,230 --> 00:06:25,939
ডিম পাড়া হয়ে গেলে পেট্রেলরা সময় নিয়ে
নিজেদের পরিস্কার করে নেয়,
40
00:06:47,196 --> 00:06:52,188
দক্ষিন মেরুর স্কুয়া পাখিরা বেশ সুযোগসন্ধানী
41
00:06:55,666 --> 00:06:59,121
কিন্তু স্কুয়া পাখিরা পেট্রেলদের ধরার চেস্টাই করেনা,
42
00:06:59,594 --> 00:07:02,362
তারা তো ওর জন্যই অপেক্ষা করে আছে,
43
00:07:05,746 --> 00:07:11,070
এই পাখিদের খাবারের খোঁজে সাগরে যাওয়ার দরকার হয়না।
44
00:07:28,371 --> 00:07:32,689
স্কুয়া পাখিরা শিকারি প্রাণীদের মধ্যে
সবচে দক্ষিনে বসবাস করতে পারে
45
00:07:32,690 --> 00:07:37,362
পেট্রেল পাখিদের পাথর খোঁজার দরকারকে কাজে লাগিয়ে
46
00:07:48,069 --> 00:07:53,599
এমনকি সবচে বেশী গরমেও,
এন্টার্কটিকার মাত্র তিন শতাংশ বরফমুক্ত হয়,
47
00:07:53,659 --> 00:07:58,421
এবং প্রায় সব বরফমুক্ত পাথরগুলি একই স্থানে,
48
00:07:58,775 --> 00:08:01,467
এই এন্টার্কটিকার উপদ্বীপে
49
00:08:07,885 --> 00:08:15,309
মূল ভুমি থেকে এই লম্বা হাতের মতো বের হয়ে
উত্তর দিকে সাগরে ঢুকে গেছে, তাই এখান বসন্ত আগে আসে
50
00:08:29,564 --> 00:08:32,847
বরফ গলে এক সুরক্ষিত উপসাগর তৈরি হয়,
51
00:08:32,848 --> 00:08:38,585
যেটা প্রাণীদের এই উত্তাল দক্ষিনসাগর থেকে মুক্তির পথ
52
00:08:42,429 --> 00:08:46,896
গভীরে কিছু একটা তোলপাড় হচ্ছে, ..
53
00:09:10,887 --> 00:09:12,969
কুঁজো তিমি,
54
00:09:13,017 --> 00:09:18,530
তারা প্রায় ৫০০০ মাইল পাড়ি দিয়ে এখানে এসেছে,
55
00:09:24,943 --> 00:09:27,758
এই তিমিগুলো ক্রিল শিকার করছে,
56
00:09:27,805 --> 00:09:33,721
চিংড়ি মাছের মতো প্রাণী যেগুলো বরফ সরে
যাওয়ার সাথে সাথে ঝাকে ঝাকে চলে আসে,
57
00:09:47,909 --> 00:09:50,464
সাগরের গভীরে ডুব দিয়ে,
58
00:09:50,606 --> 00:09:55,978
এই তিমির দল খুব কাছাকাছি থেকে ঘুরতে ঘুরতে
59
00:09:58,864 --> 00:10:05,252
তাদের নাক দিয়ে বুদ বুদ ছাড়তে থাকে এবং
তাদের শিকারের দিকে এগিয়ে যায়,
60
00:10:06,884 --> 00:10:12,871
এই বুদবুদ গুলো থেকে বাঁচতে ক্রিলগুলো
মাঝে এসে জড়ো হয়ে তিমির শিকারে পরিণত হয়,
61
00:10:40,481 --> 00:10:45,569
এই দলটিকে সব সময় কাজ করতে হয়,
কারন এই ঝাক বেশিক্ষণ থাকবে না।
62
00:10:45,733 --> 00:10:53,305
গ্রীষ্ম আস্তে আস্তে মলিন হয়ে যাচ্ছে,
এবং এই তিমিগুলো শীত আসার আগেই উত্তরে চলে যাবে,
63
00:10:56,429 --> 00:11:01,776
সূর্যের তেজ আস্তে আস্তে কমতে থাকে এবং
সাগরও জমে যেতে থাকে।
64
00:11:02,024 --> 00:11:07,732
পৃথিবীর সবচে বড় ঋতুপরিবর্তন আসন্ন।
65
00:11:12,434 --> 00:11:18,319
বরফ এখানে খুব দ্রুত জমে যায়,
অবাক করে দিয়ে দিনে প্রায় দুই আড়াই মাইল পর্যন্ত
66
00:11:18,585 --> 00:11:24,176
প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে এই মহাদেশ দ্বিগুণ হয়ে যাবে।
67
00:11:27,133 --> 00:11:31,007
জীবন পালিয়ে যায় এন্টার্কটিকা থেকে।
68
00:11:37,011 --> 00:11:40,265
কিন্তু একটি প্রাণী সবেমাত্র আসতে শুরু করেছে,
69
00:11:45,116 --> 00:11:53,841
প্রতি শীতে, এম্পেরর পেঙ্গুইন তাদের সাগরের বাসা ছেড়ে
এক অসাধারন যাত্রা শুরু করে
70
00:11:55,320 --> 00:12:01,679
তারা উপকুল থেকে প্রায় একশ মাইল ভেতরে
তাদের ডিম পাড়ার স্থানে ফিরে আসে।
71
00:12:24,258 --> 00:12:28,896
প্রকৃতপক্ষে এই এম্পেরর পেঙ্গুইনেরা ফিরে আসে
যেখানে তারা জন্মেছিল।
72
00:12:29,085 --> 00:12:33,746
জমে যাওয়া বরফের সাগরের মাঝে
চারপাশের বরফের বেষ্টনী দ্বারা নিরাপদ আশ্রয়,
73
00:12:34,881 --> 00:12:38,408
এখানে তারা তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বড় করবে
74
00:12:44,843 --> 00:12:48,297
কিন্তু প্রথমে তাদের সঙ্গী খুঁজে নিতে হবে,
75
00:12:51,207 --> 00:12:54,472
পুরুষেরা তাদের প্রদর্শনী শুরু করে
76
00:12:58,423 --> 00:13:04,598
এবং যদি মেয়েটির তাকে পছন্দ হয়,
তাহলে তারা একত্র হয়, এবং মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে যায়,
77
00:13:08,479 --> 00:13:11,886
নতুন জুটি খুব দ্রুতই শক্ত বন্ধনে আবদ্ধ হয়,
78
00:13:11,981 --> 00:13:16,453
এবং তারা তাদের চারপাশের কোলাহলকে
তেমন পাত্তাই দেয় না।
79
00:13:18,368 --> 00:13:23,598
তাদের বন্ধন আরো মজবুত করতে,
পুরুষটি তার সঙ্গীকে নিয়ে বেড়িয়ে আসে
80
00:13:33,488 --> 00:13:38,197
তাদের ক্ষণিকের মিলন সম্পন্ন হয়,
তাদের হাতে নস্ট করার সময় নেই।
81
00:13:38,268 --> 00:13:44,065
ভালো করার অনেক চাপ থাকার কারনেই,
সব পুরুষকেই উপরে থাকার জন্য কসরত করতে হয়।
82
00:13:51,850 --> 00:13:56,984
কয়েক সপ্তাহ পরেই বোঝা যায়,
বেশীরভাগ দম্পতিরাই সফল হয়েছে,
83
00:13:57,907 --> 00:14:02,024
কিন্তু এই ডিম উৎপন্ন করতে মুল্য দিতে হয়েছে,
84
00:14:02,338 --> 00:14:06,219
মেয়েটির এই ডিমে তা দেয়ার শক্তি অবশিষ্ট নেই।
85
00:14:08,111 --> 00:14:09,981
তাই পুরুষেরা দায়িত্ব নেয়।
86
00:14:10,265 --> 00:14:17,741
এখানে তাপমাত্রা এখন হিমাংকের ২০ ডিগ্রী নীচে,
তাই জমে যাওয়া থেকে বাঁচতে ডিমটি দ্রুত হাতবদল করতে হবে।
87
00:14:17,907 --> 00:14:23,183
বাসা বানানোর কোন পাথর না থাকায়,
পুরুষটি ডিমটিকে তাদের একটি বিশেষ থলিতে রেখে দেয়,
88
00:14:23,278 --> 00:14:25,431
যেখানে এটি গরম থাকবে,
89
00:14:26,141 --> 00:14:29,856
এর জন্য দরকার এক অসাধারন দলগত প্রচেষ্টা।
90
00:14:34,186 --> 00:14:40,007
ক্ষুধায় কাতর মেয়ে পেঙ্গুইনগুলো একাই
সাগরে ফিরে যায়,
91
00:14:40,220 --> 00:14:46,064
যে রাস্তায় তারা এক মাস আগে পুরুষগুলির
সাথে এসেছিল সেই রাস্তা ধরেই তারা ফেরত যায়,
92
00:14:51,671 --> 00:14:55,646
এখন সূর্যকে দিগন্ত রেখা থেকে খুব কমই উপরে দেখা যায়,
93
00:14:56,308 --> 00:15:01,751
দিন যতই ছোট হতে থাকে
এর উষ্ণতাও ধীরে ধীরে কমতে থাকে,
94
00:15:12,657 --> 00:15:18,549
মেয়েরা চলে গেলে এই আবাসভুমিটিতে
একটি অবিশ্বাস্য পরিবর্তন ঘটে
95
00:15:19,140 --> 00:15:25,671
তাদের ডিমগুলিকে এখনো পায়ের উপর ধরে রেখে,
তারা দলে দলে একত্রিত হয়,
96
00:15:27,990 --> 00:15:33,811
তারা নিজেদের গরম রাখার জন্য
একে অপরের সাথে জড়াজড়ি করে লেগে থাকে,
97
00:15:37,550 --> 00:15:42,708
এই ঘটনাটিকে দ্রুতগতিতে দেখলে বোঝা যায়
তারা কিভাবে নিজেরা স্থান পরিবর্তন করে।
98
00:15:42,709 --> 00:15:48,316
এভাবে প্রতিটা পেঙ্গুইন পালাবদল করে
ভিতরে গরমে থাকার সুযোগ পায়,
99
00:15:49,121 --> 00:15:55,153
কাধে কাধ মিলিয়ে দলবদ্ধ হয়ে থাকা এই পাখিগুলো
খুবই শান্ত স্বভাবের, না হয়ে উপায়ও নেই।
100
00:15:55,343 --> 00:16:00,904
এই বন্ধন এক বারের জন্যও ছুটে গেলে,
মুল্যবান তাপমাত্রা হারিয়ে যাবে,
101
00:16:19,075 --> 00:16:23,192
তাই যত দ্রুত সম্ভব তারা আবার জড়ো হয়ে যায়,
102
00:16:23,334 --> 00:16:30,361
তাই সকলে মিলে এক হয়ে কাজ করার মাধ্যমেই
তারা এই কঠিন সময় পার করে দেয় এবং তাদের ডিমকে রক্ষা করতে পারে
103
00:16:35,164 --> 00:16:38,808
কিন্তু তাদের আসল পরীক্ষা এখনো বাকি আছে,
104
00:16:39,234 --> 00:16:44,558
যতই শীত বাড়তে থাকে, শৈত্য প্রবাহের কারনে
তাপমাত্রা অনেক নীচে নেমে যায়,
105
00:16:45,126 --> 00:16:50,237
এখন তাপমাত্রা হিমাংকের ৬০ ডিগ্রী নীচে
106
00:16:51,987 --> 00:16:54,400
কিনারের দিকে থাকা পাখিগুলোকে
107
00:16:54,471 --> 00:16:57,334
শত মাইল বেগে আসা বাতাসকে সহ্য করতে হয়।
108
00:16:57,524 --> 00:17:02,587
এবং যারা মাঝে আছে তাদের রক্ষা করতে হয়,
109
00:17:10,917 --> 00:17:15,318
সূর্য দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়ে এই পুরুষ পাখিগুলো
তাদের ডিম সহ একাকী রয়ে গেছে
110
00:17:15,319 --> 00:17:20,547
এই পৃথিবীর সবচে ঠান্ডা এবং অন্ধকার শীত পার করার জন্য।
111
00:17:27,290 --> 00:17:30,271
আমাদের পৃথিবীর একেবারে উত্তরপ্রান্তে
112
00:17:30,294 --> 00:17:38,267
কয়েক মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো সূর্যের আলো
এক আলাদা বরফের পৃথিবীকে আলোকিত করছে,
113
00:17:40,514 --> 00:17:48,298
এন্টার্কটিকার উল্টো, উত্তর মেরু চারদিকে
স্থলভাগ দিয়ে বেস্টিত একটি জমে যাওয়া সাগর
114
00:17:49,695 --> 00:17:52,913
এখানে শীত শেষ হয়ে আসছে।
115
00:17:53,244 --> 00:17:59,113
কিন্তু এই কঠিন প্রকৃতি এখনো বরফে ঢাকা,
116
00:18:05,643 --> 00:18:08,695
এইডার হাসের শব্দে নিরবতা ভাঙ্গে,
117
00:18:08,860 --> 00:18:16,290
দক্ষিনে আরো গরমের দিকে না গিয়ে তারা
উত্তরের এই শীত সহ্য করে এখানে থেকে গিয়েছিল,
118
00:18:19,461 --> 00:18:25,613
চল্লিশ হাজারের বড় একটি ঝাক,
বরফের আচ্ছাদনের উপর দিয়ে উড়ে যায়,
119
00:18:38,745 --> 00:18:41,323
তাদের সবার গন্তব্য একটিই,
120
00:18:41,395 --> 00:18:49,700
একটা পলিনিয়ার, তীব্র সাগরের স্রোতে
তৈরি হওয়া বরফের মাঝে একটি ছোট গর্ত
121
00:18:53,226 --> 00:18:58,077
এই অস্বাভাবিক ছোট পুকুরটি তাদের রাতের আবাস ছিল,
122
00:18:58,124 --> 00:19:02,596
এবং দিনের আলোতে, খাওয়ার সুযোগ মেলে।
123
00:19:14,662 --> 00:19:22,091
বরফের মাত্র দশ মিটার নীচে,
সাগরের তলায় ঝিনুকের ঘন বসতি,
124
00:19:23,345 --> 00:19:27,486
সাগরের স্রোত একটু কমে আসলেই
কেবলমাত্র সেখানে পৌঁছা সম্ভব।
125
00:19:27,629 --> 00:19:34,325
তাই হাসগুলোকে খুব দ্রুত ঝিনুকটিকে আলাদা
করে ফেলতে হবে স্রোত ফিরে আসার আগেই।
126
00:19:40,524 --> 00:19:43,198
এই সুযোগটা খুব অল্প সময়ের জন্য থাকে,
127
00:19:43,386 --> 00:19:48,734
যতই স্রোত বাড়তে থাকে এটাও উপরে উঠতে থাকে
128
00:19:59,879 --> 00:20:06,291
এই স্থায়ী গর্তটা এই হাঁসেদের
সারা শীত জুড়ে খাবার যুগিয়ে আসে,
129
00:20:07,663 --> 00:20:10,361
এই ভোজ অন্যদেরও আকৃষ্ট করে,
130
00:20:16,702 --> 00:20:22,097
উত্তর মেরুতে, বরফের যে কোন ফাটল
জীবনদায়ী রুপে দেখা দিতে পারে
131
00:20:26,119 --> 00:20:28,461
চমরী গরুগুলো নিজেরাই গর্ত করে নেয়,
132
00:20:29,928 --> 00:20:34,282
এই দৈত্যাকারের প্রাণীগুলোর
বরফের চাই ভাঙ্গার মতো শক্তি আছে,
133
00:20:34,400 --> 00:20:37,453
বরফের নীচের ঘাস খাওয়ার জন্য,
134
00:20:41,522 --> 00:20:46,704
এই বরফ ভাঙ্গার মাধ্যমে তারা অন্য
অধিবাসীদের জন্যও সুযোগ করে দেয়,
135
00:20:47,626 --> 00:20:52,926
টারমিগানের দল এই চমরী গরুগুলোর সাথে
এক অস্বাভাবিক বন্ধুত্ব গড়ে তোলে।
136
00:20:53,234 --> 00:20:56,145
যাদের সাহচর্য চলে সারা দিন ধরেই
137
00:21:05,159 --> 00:21:10,577
এই তৃণভোজীদের মিলনমেলা চোখ এড়ায় না।
138
00:21:11,358 --> 00:21:13,204
একটি উত্তর মেরুর শেয়াল,
139
00:21:18,669 --> 00:21:22,431
চমরী গাভীগুলো কিছুদিন আগেই বাচ্চা দিয়েছে,
140
00:21:22,857 --> 00:21:26,737
শেয়ালগুলির জন্য এটা একটা সুযোগ
141
00:21:33,409 --> 00:21:39,205
কিন্তু এই অর্ধটন ওজনের রাগী চমরী গরুগুলো
লড়াইয়ের জন্য উপযুক্ত প্রতিপক্ষ নয়,
142
00:21:48,457 --> 00:21:51,605
বাচ্চাগুলো বসন্তের বরফ গলার আগেই জন্মায়,
143
00:21:51,606 --> 00:21:57,046
গ্রীষ্মের আগাম প্রস্তুতি নেয়ার জন্য।
144
00:22:00,193 --> 00:22:03,766
এটাকে এখন এই বরফের পৃথিবীতে পা রাখা শিখতে হবে।
145
00:22:04,214 --> 00:22:08,355
এক মিনিটের ঝলমলে দিনে পরের মিনিট তুষারঝড়,
146
00:22:14,318 --> 00:22:18,434
এমনকি বসন্তের সময়ও শীত হাড়ে কাপুনি ধরায়।
147
00:22:21,464 --> 00:22:27,355
বাচ্চাটিকে এই ঝড়ে হারিয়ে যাওয়া থেকে
বাঁচতে মায়ের কাছাকাছি থাকতে হবে,
148
00:22:36,953 --> 00:22:39,566
উত্তর মেরুর নেকড়ে বাঘ।
149
00:22:43,162 --> 00:22:47,231
চারপাশের এই সাদার মাঝে,
এদের খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।
150
00:22:47,325 --> 00:22:51,603
কিন্তু এই চমরী গরুগুলো এটা আঁচ করতে পেরেই উপরে উঠে যায়,
151
00:23:07,295 --> 00:23:10,702
বাচ্চাগুলিকে ঘিরে এক নিরাপদ বেষ্টনী তৈরি করে,
152
00:23:10,779 --> 00:23:15,113
এই বড়দের নিরাপদ বেস্টনীতে
আক্রমন করার সাহস খুব কম প্রাণীরাই রাখে,
153
00:23:17,517 --> 00:23:21,454
আর এই নেকড়েটিরও আজকে মার খাওয়ার তেমন ইচ্ছে নেই,
154
00:23:23,290 --> 00:23:27,208
তাড়াহুড়োর মধ্যে একটি বাচ্চা পিছনে পরে গেছে।
155
00:23:40,078 --> 00:23:44,735
যতই দিন পার হতে থাকে,
সূর্যও একটু একটু করে উপরে উঠতে থাকে,
156
00:23:44,887 --> 00:23:48,634
এবং সূর্যের কিরন উত্তর মেরুতে তত খাড়া ভাবে পরে।
157
00:23:49,524 --> 00:23:54,237
এটা বসন্ত এবং নতুন জীবন আসছে,
158
00:23:58,117 --> 00:24:02,528
মেরু ভালুকের বাচ্চারা গর্ত থেকে উঠে আসে,
এই গর্তেই তারা জন্মেছিল।
159
00:24:02,925 --> 00:24:08,642
তাদের মা পাঁচ মাস গুহায় থাকার পর
একটু হাত পা এলিয়ে দিচ্ছে,
160
00:24:13,393 --> 00:24:15,362
এদের বয়স মাত্র দুই মাস
161
00:24:15,716 --> 00:24:19,265
এবং অবধারিতভাবেই মা কে অনুসরন করছে,
162
00:24:34,550 --> 00:24:38,170
একটি খাড়া পাহাড়ের ঢাল হচ্ছে বাসা বানানোর উপযুক্ত স্থান,
163
00:24:38,265 --> 00:24:42,925
কিন্তু এটা প্রথম পা ফেলার জন্য খুব কঠিন স্থান,
164
00:25:01,687 --> 00:25:07,271
এটা হয়তো খুব মজার মনে হতে পারে,
কিন্তু এটাই সামনের কঠিন সময়ের ট্রেনিং
165
00:25:07,461 --> 00:25:09,401
এই ঢালুতে কোন খাবার নেই,
166
00:25:09,402 --> 00:25:16,073
এবং মায়ের বুকের দুধ শুকিয়ে আসার আগেই,
এই পরিবারটিকে সাগরে পৌঁছতে হবে।
167
00:25:22,486 --> 00:25:25,869
দুই সপ্তাহ পরে, তারা প্রস্তুত হয়ে নেয়।
168
00:25:26,578 --> 00:25:30,790
এই সাগরপৃষ্ঠের উপরের বরফে
মা সীলমাছ শিকার করতে পারবে।
169
00:25:30,955 --> 00:25:35,261
কিন্ত এই বাচ্চাগুলিকে নিরাপদ রাখতে
মা কে তার জানা সব কৌশল কাজে লাগাতে হবে,
170
00:25:35,451 --> 00:25:39,023
এই বিপদজনক বরফের রাজত্বে।
171
00:25:53,854 --> 00:25:57,593
বরফ গলে যাওয়া শুরু হয়েছে,
172
00:25:58,822 --> 00:26:02,490
এবং এই সময়টা এই ভালুক পরিবারটির জন্য বিপদজনক,
173
00:26:02,774 --> 00:26:09,233
ভালুকদের প্রতি দুটি বাচ্চার একটি এই বরফের মধ্যে
তাদের জীবনের প্রথম বছরেই মারা যায়,
174
00:26:19,739 --> 00:26:25,985
এবং সূর্যের প্রভাব বাড়তে থাকলে মনে হয়
এই সাগরের বরফগুলিই প্রান ফিরে পেয়েছে,
175
00:26:34,196 --> 00:26:37,177
হিমবাহের পানি গলে মাটি থেকে সাগরে আসছে,
176
00:26:37,367 --> 00:26:41,531
এবং সাগরের পানির সাথে মিশে গিয়ে
বরফকে আরো দ্রুত গলিয়ে ফেলছে,
177
00:26:46,454 --> 00:26:54,024
ভাঙ্গা বফরের টুকরা স্রোতে এবং বাতাসে ভেসে গিয়ে
সাগরের চেহারা অনবরত পালটে দিচ্ছে।
178
00:27:02,847 --> 00:27:09,188
সাগরের উপরের বরফ এতো পাতলা হয়ে গেছে যে,
পুরুষ মেরু ভালুকটি আর এর উপর হাঁটতে পারছেনা,
179
00:27:16,334 --> 00:27:19,126
সে চেস্টা করছে তার ওজন যতটা সম্ভব ছড়িয়ে দিতে।
180
00:27:19,221 --> 00:27:24,710
কিন্ত যে বরফ সারাটা শীত জুড়ে তার ভার বহন করেছে,
সেগুলো দ্রুত ভেঙ্গে যাচ্ছে,
181
00:27:26,484 --> 00:27:31,454
প্রতি বছর বিশ্বের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে
উত্তর মেরুতেও বফরের পরিমান কমে যাচ্ছে,
182
00:27:31,666 --> 00:27:34,813
এটা এই মেরু ভালুকের জন্য হুমকি।
183
00:27:34,860 --> 00:27:41,675
শক্ত ভিত্তি ছাড়া, তারা তাদের জন্য প্রয়োজনীয়
সীল মাছ শিকার করতে পারবে না।
184
00:27:44,300 --> 00:27:47,897
এটাই মনে হচ্ছে এই হুমকিতে থাকা এই অসাধারন প্রাণীটির
185
00:27:47,898 --> 00:27:51,304
একটি বিপদজনক ভবিষ্যৎ
186
00:28:24,807 --> 00:28:30,793
বরফ গলে গেলে, সাগরের পাখিরা উত্তর মেরুতে ফিরে আসে,
187
00:28:38,767 --> 00:28:42,790
ছোট অক পাখিরা লাখে লাখে ফিরে আসে,
188
00:28:44,825 --> 00:28:49,178
এই পাখিগুলোকে এক রকমভাবে
উত্তর মেরুর পেঙ্গুইন বলা চলে
189
00:28:49,226 --> 00:28:55,188
তারাও পেঙ্গুইনদের মতো পাথরের উপর ডিম পাড়ে
এবং তারা দেখতেও অনেকটা পেঙ্গুইনদের মতো।
190
00:29:01,245 --> 00:29:06,640
এন্টার্কটিকার মতো নিরাপদ নয় এই উত্তর মেরু,
এখানে মাটিতে থাকা শিকারিরা চলে আসতে পারে,
191
00:29:06,665 --> 00:29:11,066
এজন্যই এই পাখি গুলো উড়ে চলার অভ্যাস বজায় রেখেছে,
192
00:29:15,939 --> 00:29:23,037
তারা পাহাড়ের ঢালে পাথরের চাইয়ের প্রায়
এক মিটার নীচের ফাকে ডিম পেড়ে থাকে,
193
00:29:29,213 --> 00:29:32,596
মাঝ গ্রীষ্মে সূর্য কখনোই ডুবে না,
194
00:29:32,597 --> 00:29:36,856
শুধ দিগন্ত রেখায় ডুব দিয়ে আবার উপরে উঠে যায়,
195
00:29:42,297 --> 00:29:47,053
অতিথি পাখিরা অনেক দূর থেকে
আবার উত্তর মেরুতে ফিরে আসে,
196
00:29:47,479 --> 00:29:50,863
তারা ফিরে এসেছে স্বল্প সময়ের
খাবারের প্রচুরতাকে কাজে লাগাতে,
197
00:29:51,006 --> 00:29:53,229
এবং তাদের বাচ্চা জন্ম দিতে,
198
00:29:54,743 --> 00:30:00,091
স্যান্ডহিল সারসেরা অনেক দুরের
নিউ মেক্সিকো থেকে এসেছে,
199
00:30:05,154 --> 00:30:11,330
তাদের বাচ্চারাও বড়দের সাথে
এই তুন্দ্রা অঞ্চল দেখতে বেড়িয়েছে,
200
00:30:17,979 --> 00:30:23,894
প্রতি বছর কয়েক মাসের জন্য এই উত্তর মেরু
মধ্যরাতের সূর্যের দেশে পরিণত হয়।
201
00:30:24,155 --> 00:30:29,762
এবং চব্বিশ ঘন্টার এই দিনের আলোতে,
সবাইকে সারাক্ষণ খাওয়ার সুযোগ করে দেয়,
202
00:30:31,134 --> 00:30:37,239
এই উত্তর মেরুর শেয়ালটি শেষ পর্যন্ত তার
পরিবারের সবাইকে খাওয়ানোর জন্য খাবার পেয়েছে,
203
00:30:52,150 --> 00:30:57,474
তুমি যদি খোলাস্থানে বাসা বানাতে চাও,
তাহলে তোমাকে যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
204
00:31:06,229 --> 00:31:12,451
উত্তর মেরুর স্কুয়া পাখিরা অনাহুত আগুন্তক সবাইকে
তাড়িয়ে দেয়, এটা যদি বড় কোন তৃণভোজী হয় তবুও।
205
00:31:58,567 --> 00:32:05,192
পুরুষ ভালুকটির পায়ের তলা থাকা
বরফের রাজত্বটি মিলিয়ে গেছে,
206
00:32:16,337 --> 00:32:21,329
যখন মা ভালুকটি বাচ্চাদের নিয়ে মাটিতে আছে,
207
00:32:21,376 --> 00:32:25,091
পুরুষ ভালুকটি খাবারের খোঁজে সাগরে চলে যায়,
208
00:32:25,257 --> 00:32:32,829
ডুবসাঁতার দিয়ে সে সামনে এগিয়ে যায় এই আশায়
যে বরফের উপর কোন সীল মাছ পেলে তাকে আক্রমন করবে।
209
00:32:59,494 --> 00:33:05,741
তার এই নতুন পরিবেশে, সে ভালোমতোই সাঁতার শিখে নিয়েছে,
210
00:33:15,986 --> 00:33:18,802
এটা খুব দুর্লভ দৃশ্য
211
00:33:18,803 --> 00:33:24,480
মেরু ভালুককে সাম্প্রতিক সময়ে উপকূল থেকে
৬০ মাইল গভীরেও সাঁতার কাটতে দেখা গেছে,
212
00:33:37,919 --> 00:33:41,942
ভালুকটির এখন আর পেছনে ফেরার কোন উপায় নেই
213
00:33:42,202 --> 00:33:46,815
সে বাধ্য হয়েই গভীর সমুদ্রের দিকে যাচ্ছে,
214
00:33:53,890 --> 00:33:59,498
তার বিশাল থাবা দিয়ে সে স্রোত কেটে এগিয়ে যায়,
215
00:34:20,200 --> 00:34:26,092
এই পানিকেই সে তার বাসা মনে করলেও
সে এখানে বেশিক্ষণ সাঁতার কাটতে পারবেনা।
216
00:34:29,096 --> 00:34:35,153
এই বিশাল সমুদ্রে সে বিস্রামের কোন জায়গা
না পেলে ডুবে মারা যাবে,
217
00:35:02,741 --> 00:35:07,025
নিচু দ্বীপগুলোতে সিন্ধু ঘোটকেরা জড়ো হচ্ছে,
218
00:35:07,427 --> 00:35:09,888
তারা সাগরের বরফে বাচ্চা দিয়েছিল।
219
00:35:09,889 --> 00:35:16,701
কিন্তু সেই আশ্রয়টুকু পানিতে মিলিয়ে যাওয়ায়
এখন তাদের নতুন জায়গা দরকার তাদের বাচ্চাদের জন্য,
220
00:35:18,594 --> 00:35:23,800
কয়েকদিন সাগরে সাঁতার কাটার পর,
শেষ পর্যন্ত, পুরুষ ভালুকটি ডাঙ্গার দেখা পায়,
221
00:35:23,895 --> 00:35:29,030
দ্বীপ থেকে ছড়িয়ে পরা তীব্র গন্ধে সে এটা খুঁজে পেয়েছে,
222
00:35:36,743 --> 00:35:41,191
গরমের শেষের দিকে ভালুকটি শুকিয়ে প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে,
223
00:35:41,499 --> 00:35:47,414
বরফ চলে যাওয়াতে,
সে বাধ্য হয়ে মাটিতে এসেছে শিকারের খোঁজে
224
00:35:56,239 --> 00:35:59,930
দ্বীপগুলিতেও যে সহজে খাবার মিলে তা নয়।
225
00:36:00,402 --> 00:36:05,182
সিন্ধু ঘোটকেরা সাগরের সবচে বড় সীল,
একেকটির ওজন প্রায় এক টনের চেয়ে বেশী।
226
00:36:05,230 --> 00:36:08,637
এবং প্রায় এক মিটার লম্বা দাঁত দ্বারা সশস্ত্র
227
00:36:11,594 --> 00:36:17,012
সাঁতার কেটে কাহিল হয়ে গিয়ে
ভালুকটিকে এখন শক্তি সঞ্চয় করতে হবে।
228
00:36:23,495 --> 00:36:27,516
তার পর দিন সাগর থেকে কুয়াশা ভেসে আসে,
229
00:36:27,753 --> 00:36:31,279
সিন্ধু ঘোটকেরা বিপদ টের পেয়ে যায়,
230
00:36:33,977 --> 00:36:38,804
কুয়াশার আবরনে লুকিয়ে
ভালুকটি পালটির দিকে এগিয়ে যায়,
231
00:36:43,560 --> 00:36:50,421
বড় গুলি গায়ে গা মিলিয়ে বাচ্চাগুলিকে রক্ষা করে,
বিশাল আকারের চর্বি এবং চামড়ার দেয়াল বানিয়ে।
232
00:37:00,429 --> 00:37:02,796
সে দেয়ালটিকে আঘাত করে, কিন্তু এটা বেশ মজবুত।
233
00:37:03,741 --> 00:37:09,136
মনে হচ্ছে পৃথিবীর স্থলভাগের সবচে বড় মাংসাশী শিকারি
তার উপযুক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী খুঁজে পেয়েছে,
234
00:37:16,849 --> 00:37:19,523
নিশ্চয়ই এই দেয়ালে কোন দুর্বল জায়গা আছে,
235
00:37:23,924 --> 00:37:25,177
কিন্তু এখানে না।
236
00:37:34,383 --> 00:37:39,801
এই মেয়ে সিন্ধু ঘোটকটি তার বাচ্চাকে রক্ষা করছে,
এর জন্য হয়তো একে জীবন দিতে হবে।
237
00:37:47,066 --> 00:37:51,940
ভালুকের থাবা এবং দাঁত
এদের মোটা চামড়াকে কাটতে পারছে না।
238
00:38:00,599 --> 00:38:05,261
পালটি পানিতে নেমে যাচ্ছে,
ভালুকটিকে তাড়াতাড়ি কিছু করতে হবে,
239
00:38:10,442 --> 00:38:14,394
একটিকে কাবু করতে না পেরে,
সে দ্রুত আরেকটির দিকে এগিয়ে যায়,
240
00:38:31,999 --> 00:38:36,589
কয়েক মাসের মধ্যে তার প্রথম খাবার
তার হাত থেকে ফস্কে যাচ্ছে,
241
00:38:43,639 --> 00:38:45,934
তাকে খুব মরিয়া মনে হচ্ছে,
242
00:38:52,158 --> 00:38:54,216
হয় এখন নয় কখনোই না।
243
00:38:55,163 --> 00:38:59,280
জিততে হলে তাকে অবশ্যই
দাঁতের আঘাত থেকে বাঁচতে হবে,
244
00:39:06,165 --> 00:39:11,892
আঘাতপ্রাপ্ত সিন্ধুঘোটকটি প্রচন্ড শক্তিশালী এবং
ভালুকটিকে টেনে পানিতে নিয়ে যাচ্ছে,
245
00:39:11,986 --> 00:39:14,470
তাদের পালের দিকে, নিরাপদে।
246
00:39:30,275 --> 00:39:32,877
এটা ভালুকটির হাত থেকে ছুটে যায়,
247
00:39:41,207 --> 00:39:45,916
গ্রীষ্মের একেবারে মাঝামাঝি,
ভালুকটি যখন অনেকদিন অনাহারে থাকে
248
00:39:46,199 --> 00:39:50,174
কেবল তখনই তারা এরকম
বিপদজনক শিকারকে আক্রম করে।
249
00:39:53,818 --> 00:39:58,432
এই জুয়াটি ভালুকটি ধরেছিল এবং হেরে যায়,
250
00:40:01,082 --> 00:40:08,536
সিন্ধুঘোটকদের দাঁতের আক্রমনে যে আঘাত সে পেয়েছিল
সেটা এতই মারাত্মক ছিল যে তার হাঁটতে কস্ট হচ্ছে।
251
00:40:12,818 --> 00:40:15,208
সিন্ধুঘোটকেরা আবার শান্ত এখন।
252
00:40:15,564 --> 00:40:22,472
তারা বুঝে গেছে আহত ভালুকটি আর তাদের এবং
তাদের বাচ্চাদের জন্য বেশী হুমকির কারন হবে না,
253
00:40:37,970 --> 00:40:43,104
খেতে না পেলে এই ভালুকটি বাঁচবেনা।
254
00:40:55,266 --> 00:40:58,389
যদি পৃথিবীর তাপমাত্রা এভাবে বাড়তে থাকে
255
00:40:58,649 --> 00:41:01,630
এবং উত্তর মেরুর বরফও তাড়াতাড়ি গলতে থাকবে
256
00:41:01,891 --> 00:41:06,458
এবং অবধারিতভাবেই সব ভালুকদের এই নিয়তি হবে।
257
00:41:28,295 --> 00:41:30,898
আমাদের পৃথিবীর একেবারে দক্ষিন প্রান্তে
258
00:41:30,992 --> 00:41:34,943
জ্বলজ্বলে ফিতার মতো আলো আকাশ আলোকিত করছে।
259
00:41:35,180 --> 00:41:38,492
মরুজ্যোতি
260
00:41:41,284 --> 00:41:46,916
এই আলো, নীচে দাঁড়িয়ে থাকা
পেঙ্গুইনদের কোন উষ্ণতা দেয়না,
261
00:41:47,153 --> 00:41:51,128
পৃথিবীর সবচে ঠান্ডা আবহাওয়াকে হার মানিয়ে
262
00:42:04,639 --> 00:42:09,087
তাদের এই কঠোর পরিক্ষা সমাপ্ত হতে যাচ্ছে,
263
00:42:16,019 --> 00:42:23,472
সর্বশেষ ত্রিশ দিন আগে ডুবে যাওয়ার পর
এন্টার্কটিকার আকাশে আবার সূর্যের দেখা মিলল।
264
00:42:45,406 --> 00:42:50,209
তার এই অপরূপ রুপের অপেক্ষায় ছিল সবাই,
265
00:43:06,157 --> 00:43:11,125
প্রতিটি বাবার মুখের ভেতর একটি মাত্র খাবারই অবশিষ্ট ছিল
266
00:43:11,315 --> 00:43:14,745
সে এটা সারা শীত জুড়ে জমিয়ে রেখেছিল
267
00:43:15,550 --> 00:43:20,921
এই একটি খাবারেই বাচ্চাটির কয়েকদিন চলে যাবে
268
00:43:21,465 --> 00:43:24,635
কিন্তু পুরুষটিও চার মাস হয়ে গেল কিছু খায়নি,
269
00:43:24,637 --> 00:43:29,982
যদি তারা দ্রুত কিছু খেতে না পায়,
সে এবং তার বাচ্চাটি মারা যেতে পাড়ে।
270
00:43:39,707 --> 00:43:43,114
কিন্তু দিগন্ত রেখায় তাদের আশার আলো দেখা দিচ্ছে,
271
00:43:55,039 --> 00:44:01,476
বাচ্চাগুলির মায়েরা ফিরে আসছে
তাদের পেট মাছে পরিপূর্ণ করে।
272
00:44:07,012 --> 00:44:12,430
তারা কাছাকাছি চলে আসলে,
এই ঝাকটির মধ্যে আনন্দের ঢেউ বয়ে যায়,
273
00:44:20,071 --> 00:44:27,761
প্রতিটি মেয়ে পেঙ্গুইন তার সঙ্গীর উদ্দেশ্যে ডাক দেয়,
এবং কণ্ঠস্বর চিনতে পারলে পুরুষটিও তার জবাব দেয়,
274
00:44:30,387 --> 00:44:33,297
আবার দেখা হলো।
275
00:44:36,372 --> 00:44:40,561
মা তার বাচ্চাকে প্রথমবারের মতো খাওয়ায়।
276
00:44:44,039 --> 00:44:46,429
সে ও তার দায়িত্ব নিতে চায় তাড়াতাড়ি।
277
00:44:47,186 --> 00:44:53,361
কিন্তু বাবাও তার সন্তানকে সহজে ছাড়তে চায়না,
সে যে সারা শীতকাল ধরে তাকে লালন করে আসছে।
278
00:44:57,572 --> 00:45:04,268
তাকে এখন তার বাচ্চাটিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে হবে,
এই ঠান্ডায় বাচ্চাটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে জমে যেতে পারে।
279
00:45:07,818 --> 00:45:10,752
কিন্তু বাবাকে ছেড়ে যেতেই হবে।
280
00:45:17,306 --> 00:45:21,565
শেষ পর্যন্ত মায়ের কাছে হস্তান্তর নিরাপদেই শেষ হয়।
281
00:45:36,636 --> 00:45:42,125
বাচ্চাটিও মাছ এবং স্কুইড খেয়ে দ্রুত বড় হয়ে ওঠে।
282
00:45:55,470 --> 00:46:01,409
দ্রুতই তারা চারপাশ দেখতে বের হয়
কিন্তু মা তার পিছু ছাড়ে না।
283
00:46:03,348 --> 00:46:05,667
এই বাচ্চাটির ভাগ্য ভালো না,
284
00:46:05,786 --> 00:46:09,997
তার মা তার জন্য ফিরে আসেনি।
285
00:46:11,205 --> 00:46:18,563
আরেকটি এতিম নতুন পরিবার খুঁজছে,
কিন্তু এ মায়ের নিজের বাচ্চা আছে,
286
00:46:26,797 --> 00:46:32,901
কোন কোন এতিম বাচ্চা তো আবার মায়েদের টানাটানিতে পরে যায়,
এই মা গুলির নিজেদের বাচ্চাগুলো টেকেনি,
287
00:46:33,090 --> 00:46:40,473
এই মায়েদের মাতৃত্ববোধ এত প্রবল যে, তারা কোন
এতিম বাচ্চা খুঁজে পেলে তার জন্য নিজেরা কাড়াকাড়ি শুরু করে
288
00:46:45,393 --> 00:46:48,232
এই কাড়াকাড়ি অনেক সময় বিয়োগান্তক রুপ নেয়,
289
00:46:48,445 --> 00:46:52,420
যখন দুর্বল বাচ্চাটি মায়েদের চাপাচাপিতে মারা যায়,
290
00:47:03,919 --> 00:47:09,811
যেসব বাচ্চারা মায়ের সাথে বড় হয়,
তারা দ্রুত বেঁচে থাকার কৌশল শিখে নেয়,
291
00:47:10,852 --> 00:47:14,187
বসন্তেও তাদের মাঝে মাঝে গরম থাকার জন্য কস্ট করতে হয়,
292
00:47:14,235 --> 00:47:17,831
ঠিক যেমনটি তাদের বাবারা তীব্র শীতের মধ্যে করেছিল।
293
00:47:21,997 --> 00:47:25,806
তুষারঝড়ে এই বাচ্চাগুলি হারিয়ে গেছে,
294
00:47:32,170 --> 00:47:36,619
ঠান্ডায় বিচলিত হয়ে তারা তাদের বাসভুমিটি খুঁজছে,
295
00:47:42,984 --> 00:47:48,284
ঝড়ের প্রথম প্রানটি কেড়ে নিতে খুব বেশী দেরি হবেনা।
296
গ্রীষ্মের প্রথম দিকেই বাচ্চাগুলি
অবাক করার মতো বড় হয়ে ওঠে
297
00:48:12,345 --> 00:48:16,368
তারা এখন পৃথিবীর পথে নামতে প্রস্তুত।
298
00:48:17,527 --> 00:48:22,330
যারা প্রথম বছরটি টিকে যায়,
তাদের জীবনের শুরুটা বেশ ভালো হয়,
299
00:48:22,425 --> 00:48:28,032
এর জন্য তার বাবা মায়েদের ধন্যবাদ প্রাপ্য,
300
00:48:28,198 --> 00:48:34,538
এই বাবা মায়েরা এই এন্টার্কটিকার শীতের সাথে
যুদ্ধ করেছে এবং জয়ী হয়েছে।
301
00:48:43,507 --> 00:48:48,949
উত্তর মেরুতে, ভালুকের বাচ্চা দুটি বড় হয়েছে
এবং তাদের মায়ের থেকে আলদা হয়ে গেছে,
302
00:48:49,020 --> 00:48:54,533
এবং তাদের বাসা কাছাকাছি হওয়ায় তারা
অল্প সময়ের জন্য একত্র হয়,
303
00:49:00,685 --> 00:49:03,596
তাদের একত্রে থাকার সময় ফুরিয়ে আসছে,
304
00:49:03,927 --> 00:49:06,885
তাদের বাকি জীবন একাকি কাটাতে হবে,
305
00:49:07,026 --> 00:49:11,072
এই সুবিশাল জমে যাওয়া সাগরের উপর পথ চলতে চলতে,
306
00:49:40,082 --> 00:49:44,790
তার মা কে অনুসরন করেই তারা
এই মেরু অঞ্চলে থাকার কৌশল শিখে নিয়েছে,
307
00:49:44,908 --> 00:49:50,113
বরফে নিয়ন্ত্রিত এক সদা পরিবর্তনশীল ভুমি,
308
00:49:51,178 --> 00:49:56,572
এই পৃথিবীর বরফের রাজ্যে যে বিশাল পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে,
তার জন্য তারা কতটুকু প্রস্তুতি গ্রহন করেছে,
310
00:49:56,809 --> 00:50:01,281
সময়ই তা বলে দেবে।
309
00:50:06,809 --> 00:50:10,281
বাংলা সাব সজীব