0 00:00:07,180 --> 00:00:15,180 বাংলা সাব সজীব 1 00:00:42,200 --> 00:00:46,330 আমাদের পৃথিবীর স্থলভাগের তিনভাগের একভাগ মরুভূমি। 2 00:00:55,591 --> 00:00:58,678 পৃথিবীর উপর এই বিশাল ক্ষতচিহ্নগুলো 3 00:00:58,803 --> 00:01:00,597 প্রাণহীন মনে হতে পারে। 4 00:01:00,722 --> 00:01:03,851 কিন্তু অবাক হলেও, এর কোনটিই প্রাণহীন নয়। 5 00:01:10,400 --> 00:01:13,571 এর সবগুলিতেই, কোন না কোন উপায়ে 6 00:01:13,654 --> 00:01:16,408 প্রান টিকে গেছে। 7 00:01:37,433 --> 00:01:39,977 সব মরুভূমিই গরম নয়। 8 00:01:40,395 --> 00:01:43,982 ঘন্টায় প্রায় পঞ্চাশ মাইল বেগে সাইবেরিয়া থেকে হাওয়া ছুটে আসছে, 9 00:01:44,107 --> 00:01:48,154 যা, মঙ্গোলিয়ার এই গোবি মরুভুমিতে বরফ নিয়ে আসছে। 10 00:02:14,018 --> 00:02:17,564 গ্রীষ্মে এর তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রী সেলসিয়াস উঠে যায়। 11 00:02:17,689 --> 00:02:21,777 আর মধ্য শীতে নেমে যায় হিমাংকের ৪০ ডিগ্রী নীচে। 12 00:02:21,903 --> 00:02:25,991 যা এই মরুভূমিকে বানিয়েছে সবচেয়ে রুক্ষ। 13 00:02:34,960 --> 00:02:40,049 খুব কম প্রাণীই এতো তারতম্য সহ্য করতে পারে। 14 00:02:46,432 --> 00:02:48,893 বুনো দুই কুজ বিশিষ্ট উট, 15 00:02:49,018 --> 00:02:51,646 পৃথিবীর অন্যতম দুর্লভ প্রাণী। 16 00:02:51,772 --> 00:02:54,483 এবং সম্ভবতঃ সবচে কঠিন প্রাণী। 17 00:02:55,693 --> 00:02:58,238 তাদের সবচে বড় সমস্যা হচ্ছে পানির অভাব। 18 00:02:58,363 --> 00:03:00,073 বিশেষ করে এখন, এই শীতকালে। 19 00:03:00,198 --> 00:03:03,619 যাও খানিকটা আছে, তাও বরফে জমে আছে। 20 00:03:10,669 --> 00:03:14,841 অবাক করে দিয়ে হলেও, এখানকার বরফ কখনই পানিতে পরিণত হয় না 21 00:03:15,049 --> 00:03:19,847 বাতাস অনেক ঠান্ডা এবং শুকনো এখানে। 22 00:03:25,020 --> 00:03:28,774 তাই সূর্যের আলো এগুলোকে সরাসরি জলীয় বাস্পে পরিনত করে। 23 00:03:28,858 --> 00:03:30,902 এগুলো বাষ্পীভূত হয়ে যায়। 24 00:03:38,911 --> 00:03:42,040 কিন্তু এগুলোই এখানকার পানির একমাত্র উৎস 25 00:03:42,123 --> 00:03:45,169 তাই এই উটেরা এগুলোই খেয়ে নেয়। 26 00:03:46,045 --> 00:03:47,505 পৃথিবীর অন্যত্র, 27 00:03:47,630 --> 00:03:54,221 একটি উট পানি খুঁজে পেলে একেবারে প্রায় ২০০ লিটার পর্যন্ত পানি পান করে। 28 00:03:56,182 --> 00:03:59,686 আর এখানকার কৌশল হচ্ছে, অল্প অল্প করে বার বার খেয়ে নেয়া। 29 00:03:59,811 --> 00:04:01,230 এবং এর কারনও আছে, 30 00:04:01,355 --> 00:04:05,109 একেবারে বেশী বরফ খেয়ে পেট পুরো করলে জীবন হুমকিতে পরতে পারে। 31 00:04:10,658 --> 00:04:12,702 তাই এই উটেরা নিজেদের সংযত করে নিয়েছে। 32 00:04:12,827 --> 00:04:16,790 তারা দিনে প্রায় ১০ লিটার পানির সমপরিমান খেয়ে থাকে। 33 00:04:33,393 --> 00:04:36,313 শীতকালে এদের বাচ্চা দেয়ার সময়। 34 00:04:40,944 --> 00:04:45,366 এই রকম আজব প্রদর্শনির মাধ্যমেই 35 00:04:45,491 --> 00:04:48,953 পুরুষ উটেরা মেয়েদের আকৃষ্ট করার চেস্টা করে। 36 00:04:51,039 --> 00:04:55,544 গ্রীষ্মে এই উটেরা পানির গর্ত থেকে বেশী দূরে যেতে পারে না। 37 00:04:55,837 --> 00:04:59,382 কিন্তু এখন, মুখে কিছু বরফ পুরে নিয়ে 38 00:04:59,466 --> 00:05:02,887 তারা সঙ্গীর খোঁজে অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারে। 39 00:05:06,975 --> 00:05:13,191 এখন পর্যন্ত, প্রাকৃতিক পরিবেশে মাত্র হাজারখানেক উট অবশিষ্ট আছে। 40 00:05:13,316 --> 00:05:18,822 আর যতোই কঠিন হোক এই গোবি মরুভূমিই তাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল 41 00:05:25,122 --> 00:05:28,459 পৃথিবীর আর কোন মরুভূমিই গোবির মতো নয়, 42 00:05:28,584 --> 00:05:31,713 কিন্তু এই জায়গাটি কেন মরুভূমিতে পরিণত হলো ? 43 00:05:33,006 --> 00:05:36,260 এখানে একটি অতি সাধারন কিন্তু সুবিশাল কারন রয়েছে। 44 00:05:36,385 --> 00:05:37,887 হিমালয়। 45 00:05:42,476 --> 00:05:46,606 দক্ষিন দিক থেকে ভেসে আসা মেঘেরা এই বিশাল পর্বতমালায় বাধাপ্রাপ্ত হয়। 46 00:05:46,731 --> 00:05:48,149 বাধা পেয়ে তারা উপরে উঠে যায়, 47 00:05:48,274 --> 00:05:51,695 তাই তারা তাদের আর্দ্রতা পাহাড়ের ঢালেই জমা করে আসে 48 00:05:51,778 --> 00:05:55,616 এবং অপর পাড়ের জন্য সামান্যই নিয়ে আসে। 49 00:06:00,163 --> 00:06:04,502 মহাকাশ থেকে এই মরুভূমিগুলোকে স্পষ্ট দেখা যায়, 50 00:06:06,880 --> 00:06:11,844 শত শত মাইল লম্বা বালিয়াড়িগুলো তাদের বুকের উপর দিয়ে লম্বালম্বি ভাবে চলে গেছে, 51 00:06:16,641 --> 00:06:19,812 তাদের আড়াল করার জন্য কোন গাছপালা নেই, 52 00:06:19,937 --> 00:06:24,609 খোলা পাথরের উপরকার বিচিত্র নকশাও চোখে পরে। 53 00:06:30,283 --> 00:06:34,204 আফ্রিকার সাহারা মরুভূমি সবচে বড়। 54 00:06:34,329 --> 00:06:36,665 এর আকার প্রায় যুক্তরাষ্ট্রের সমান 55 00:06:36,749 --> 00:06:41,880 এবং এটাই হচ্ছে এই পৃথিবীর সবচে বড় বালি এবং ধুলিকণার উৎস 56 00:07:21,844 --> 00:07:25,223 কোন আগাম সতর্কতা ছাড়াই, এধরনের ধূলিঝড় শুরু হয়ে যেতে পারে। 57 00:07:25,307 --> 00:07:30,355 এবং প্রায় ব্রিটেনের সমান এলাকাকে সারা দিনের জন্য ধুলিতে আচ্ছন্ন করে রাখতে পারে। 58 00:07:39,324 --> 00:07:45,080 ড্রমডেরিস, এই উটগুলোর চলার পথেই ঝড় নেমেছে। 59 00:07:48,167 --> 00:07:52,756 ভারী বালির কনাগুলো মাটি থেকে কয়েক মিটার উপরে উঠতে পারে। 60 00:07:52,881 --> 00:07:58,305 কিন্তু ধূলিকণাগুলো মাটি থেকে প্রায় ৫০০০ মিটার উপরে উঠে যেতে পারে 61 00:08:03,352 --> 00:08:07,274 এই বালির অস্ত্র দ্বারা সজ্জিত তীব্র বাতাস 62 00:08:07,399 --> 00:08:11,237 হচ্ছে সেই শক্তি যা মরুভূমিকে চিত্রিত করে। 63 00:08:20,289 --> 00:08:27,339 সরীসৃপদের গায়ের বর্মের মতো চামড়া তাদের এই ধুলির অস্ত্র থেকে বাচায়। 64 00:08:29,425 --> 00:08:34,556 কিন্তু পোকামাকড়দের জন্য এই বোমাবর্ষণ অনেক তীব্র মনে হয়। 65 00:08:36,392 --> 00:08:39,604 পালানোর একমাত্র পথ, মাটির নীচে। 66 00:08:56,624 --> 00:09:00,838 এইভাবে বাতাসের উঠা নামা এবং ঘুর্নিতেই 67 00:09:00,963 --> 00:09:04,509 বালিগুলি স্তুপাকারে জমে গিয়ে বালিয়াড়ি তৈরি করে। 68 00:09:08,180 --> 00:09:12,351 এই বালির চুড়াগুলি শতশত মাইল লম্বা হতে পারে। 69 00:09:16,648 --> 00:09:21,529 নামিবিয়াতে বাতাস পৃথিবীর সবচে বড় বালিয়াড়িগুলো তৈরি করেছে। 70 00:09:29,247 --> 00:09:33,502 এইরকম একটি বড় বালিয়াড়ি প্রায় ৩০০ মিটার উঁচু হতে পারে। 71 00:09:33,585 --> 00:09:38,424 বালির কনাগুলো উপরের প্রান্ত থেকে উরে চলে গিয়ে অন্যত্র জমা হয়, 72 00:09:38,508 --> 00:09:41,261 এভাবে শুধুমাত্র উপরের অংশটাই সরে যেতে পারে 73 00:09:48,144 --> 00:09:54,485 এই ধরনের বালিয়াড়ির নীচের মূল অংশটা হয়তো গত ৫০০০ বছরেও স্থান পরিবর্তন করেনি। 74 00:10:05,790 --> 00:10:12,298 খুব কম পাথরই এই ধরনের ধুলোর অত্যাচার সহ্য করতে পারে। 75 00:10:12,465 --> 00:10:17,429 এই উত্থিত পাথরগুলো দাঁড়িয়ে আছে মিশরের সাদা মরুভূমিতে 76 00:10:17,805 --> 00:10:20,767 কিন্তু তারা এভাবে বেশিদিন থাকতে পারবে না। 77 00:10:22,268 --> 00:10:24,771 তাদেরকে নির্দয়ভাবে খোদাই করে নিয়ে যাচ্ছে, 78 00:10:24,855 --> 00:10:27,942 এবং পরিণত করছে আরো বালিতে। 79 00:11:07,197 --> 00:11:14,581 এখন এই ক্ষয়ে যাওয়া পাথর গুলো এই বালির সাগরে নোঙ্গর করে দাঁড়িয়ে আছে। 80 00:11:31,560 --> 00:11:35,231 এই শত শত মিটার লম্বা এবড়োথেবড়ো পিরামিডগুলো 81 00:11:35,356 --> 00:11:38,985 এক সময় এক সুবিশাল পাথরের উপত্যকার অংশ ছিল। 82 00:11:39,110 --> 00:11:43,741 এই ঝড়ো ধূলিকণাগুলো তাদের আস্তে আস্তে ক্ষয় করে নিয়ে যাচ্ছে, 83 00:11:52,042 --> 00:11:58,550 এই অদম্য বাতাসের শক্তিই এই মরুভুমির চেহারাকে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন করে যাচ্ছে। 84 00:11:58,634 --> 00:12:02,054 কিন্তু এখানে একটা জিনিসের উপস্থিতি সব সময় থাকে - 85 00:12:09,855 --> 00:12:11,774 মরুভূমির সূর্য। 86 00:12:26,417 --> 00:12:30,004 সূর্যের তাপ এবং শক্তি পানিকে বাস্পে পরিণত করে। 87 00:12:30,130 --> 00:12:36,304 এবং এখানে বসবাসকারী প্রতিটি জীবের উপরেই এর প্রভাব অনেক তীব্র। 88 00:12:40,058 --> 00:12:43,604 এই সূর্য একটি সম্ভাব্য হত্যাকারী 89 00:12:44,939 --> 00:12:49,027 এবং এই লাল ক্যাংগারুগুলোকে এটা মেনে নিতেই হবে। 90 00:12:50,153 --> 00:12:52,406 ঠিক এই মুহুর্তে, যখন সূর্য নীচে আছে, 91 00:12:52,531 --> 00:12:55,785 তখন খুব বেশী চিন্তার কিছু নেই। 92 00:12:56,369 --> 00:12:59,581 কিন্তু এই সময় বেশিক্ষণ থাকবে না। 93 00:13:00,374 --> 00:13:06,882 অস্ট্রেলিয়া হচ্ছে পৃথিবীর সবচে শুকনো মহাদেশ যেখানে দিনের তাপমাত্রা গায়ে ফোস্কা ফেলতে পারে। 94 00:13:13,848 --> 00:13:19,939 প্রতি ঘন্টায় তাপমাত্র প্রায় পাঁচ ডিগ্রী সেলসিয়াস করে বাড়তে থাকে 95 00:13:26,530 --> 00:13:30,952 শীঘ্রই এই তাপমাত্রা একটি চূড়ান্ত মাত্রায় চলে যাবে। 96 00:13:40,422 --> 00:13:46,638 কোন ক্যাংগারু এই তাপমাত্রায় বাইরে থাকলে অতিগরমে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে 97 00:13:52,103 --> 00:13:58,527 পূর্ন সূর্যের তাপে, ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৭০ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে যেতে পারে। 98 00:14:02,782 --> 00:14:08,539 মধ্য দুপুরে এই তাপমাত্রা এতোটাই চরমে উঠে যে, ক্যাংগারুরা ছায়ায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। 99 00:14:28,896 --> 00:14:32,526 ছায়ায় তারা হয়তো সরাসরি সূর্যের তাপ থেকে বেঁচে যায়। 100 00:14:32,651 --> 00:14:35,613 কিন্তু তাদের গায়ের তাপমাত্রা এখনো বেড়ে যেতে পারে। 101 00:14:38,324 --> 00:14:41,995 তাই তারা তাদের মুখের লালা দিয়ে তাদের হাতের কবজি ভিজিয়ে নেয়, 102 00:14:42,079 --> 00:14:46,167 যেখানে চামড়ার ঠিক নিচেই রক্ত নালীগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, 103 00:14:46,251 --> 00:14:50,965 এবং এই লালাগুলি বাষ্পীভূত হয়ে তাদের রক্তকে শীতল করে 104 00:14:53,593 --> 00:14:58,390 এই তাপবিকিরিত ছবিটির মাধ্যমে এই কৌশলের কার্যকারিতা দেখা যাচ্ছে, 105 00:14:58,515 --> 00:15:02,603 ঘন নীল অঞ্চলগুলি ঠান্ডা 106 00:15:11,406 --> 00:15:15,202 হাতের লালাগুলি শুকিয়ে গেলে আবার এতে লালা দিতে হবে। 107 00:15:15,327 --> 00:15:19,624 এভাবেই ক্যাংগারুদের শরীর থেকে দরকারি পানি চলে যায়। 108 00:15:29,969 --> 00:15:33,933 এমনকি এই ছায়াতেও গরমে সেদ্ধ হতে হয়। 109 00:15:34,558 --> 00:15:38,062 তাই এক ক্যাংগারুগুলো মাটির উপরের গরম স্তর তুলে ফেলে 110 00:15:38,146 --> 00:15:41,400 নিচের ঠান্ডা মাটি বের করে নিয়ে আসে। 111 00:16:03,968 --> 00:16:08,641 এভাবে ছায়ায় বসে থেকে এবং নিজের হাত পা চেটে ঠান্ডা করার মাধ্যমে 112 00:16:08,766 --> 00:16:11,978 ক্যাংগারুরা কোন মতে দিনের সবচে গরম সময়টা পরার করে আসে 113 00:16:12,103 --> 00:16:13,730 কোন রকম অজ্ঞান হওয়া ছাড়াই 114 00:16:14,690 --> 00:16:17,234 কিন্ত বেশিরভাগ মরুভূমির প্রাণীদের জন্য 115 00:16:17,318 --> 00:16:20,822 জীবন ধারনের জন্য এই কৌশল যথেষ্ট হয় না। 116 00:16:43,975 --> 00:16:48,981 আফ্রিকার ফেনেক শেয়ালের এই অদ্ভুত কানগুলি তাদের তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে। 117 00:16:49,106 --> 00:16:52,568 কিন্তু এই প্রাণীগুলির নিজেদের ঠান্ডা রাখার অন্য রাস্তা আছে। 118 00:17:02,205 --> 00:17:04,583 তারা দিনের বেলায় মাটির নীচে লুকিয়ে থাকে 119 00:17:04,708 --> 00:17:07,753 এবং সূর্য ডুবে গেলেই বের হয়ে আসে। 120 00:17:19,809 --> 00:17:23,188 অন্ধকারে তারা আরেক সমস্যায় পরে। 121 00:17:23,313 --> 00:17:28,236 সাহারা মরুভূমিতে রাতের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রী পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। 122 00:17:28,361 --> 00:17:33,117 তাই এই সময়টা এই মরুভূমির শেয়ালের বাচ্চাদের খেলার জন্য পর্যাপ্ত ঠান্ডা। 123 00:17:40,751 --> 00:17:43,379 এখন সব ধরনের প্রাণীরাই বেরিয়ে আসে। 124 00:17:43,504 --> 00:17:46,758 এদের মধ্যে কয়েকটি বেশ অপ্রত্যাশিত 125 00:17:49,720 --> 00:17:52,014 ব্যাঙের গায়ের চামড়া অত্যান্ত ভেদ্য। 126 00:17:52,098 --> 00:17:56,102 দিনের তাপমাত্রায় তারা খুব দ্রুত শুকিয়ে মারা যাবে, 127 00:17:56,186 --> 00:17:58,814 তাই এটা কেবল এই সময়েই তার আস্তানা থেকে বের হয়। 128 00:18:01,818 --> 00:18:03,778 একই কথা কাঁকরাবিছের বেলাতেও খাটে। 129 00:18:03,903 --> 00:18:07,533 যদিও তাদের গায়ের খোসা পানির মতো স্বচ্ছ। 130 00:18:19,672 --> 00:18:23,594 প্রকৃতপক্ষে, মরুভূমির সব ছোট প্রাণীরাই নিশাচর। 131 00:18:23,719 --> 00:18:25,930 তাই শুধুমাত্র এই সময়টাতেই বোঝা যায়, 132 00:18:26,055 --> 00:18:29,309 মরুভূমিতে কতো প্রাণী থাকতে পারে। 133 00:18:30,227 --> 00:18:36,025 কিন্তু আর্দ্রতা রাতের বেলাতেও হারায় এবং এটা যে কোন উপায়ে হোক পুরন করতে হবে। 134 00:18:36,150 --> 00:18:40,823 এবং ঠিক এই সমস্যাটাই সব মরুভূমির বাসিন্দাদের জীবনের পথ নির্ধারণ করে দেয়, 135 00:18:49,041 --> 00:18:51,377 চিলির আটাকামা মরুভূমি। 136 00:18:51,460 --> 00:18:55,006 পৃথিবীর সবচে শুস্ক মরুভূমি। 137 00:18:56,633 --> 00:18:59,678 এর কোন কোন অঞ্চল হয়তো গত পঞ্চাশ বছরেও বৃষ্টির দেখা পায়নি, 138 00:18:59,762 --> 00:19:01,139 এবং এরকম রেকর্ড সাথে থাকলে 139 00:19:01,222 --> 00:19:05,060 আপনি আশা করতেই পারেন যে, এই অঞ্চলটি একদম নিস্ফলা। 140 00:19:10,024 --> 00:19:14,404 এগুলো দক্ষিন আমেরিকার উট, গুয়ানাকো। 141 00:19:15,865 --> 00:19:18,201 তারা আর্দ্রতা ধরে রাখতে বেশ পটু। 142 00:19:18,326 --> 00:19:21,705 কিন্তু তারপরও তাদের নিয়মিত পানির দরকার হয়, 143 00:19:34,720 --> 00:19:38,016 তারা এর কিছু অংশ পায়, ক্যাকটাসের ফুল থেকে। 144 00:19:38,099 --> 00:19:41,770 কিন্তু এই উত্তরটিও আরেকটি নতুন প্রশ্নের জন্ম দেয়। 145 00:19:44,023 --> 00:19:47,611 এই ক্যাকটাসগুলিই বা কিভাবে বৃষ্টি ছাড়া টিকে থাকতে পারে। 146 00:19:54,411 --> 00:19:59,750 গরম বাতাস মাটি থেকে সব আর্দ্রতা শুষে নিয়ে যায়, 147 00:20:01,127 --> 00:20:06,258 স্পষ্টতই এখানে নিশ্চই কিছু একটা আছে যেটা বৃষ্টির জায়গা দখল করেছে 148 00:20:07,551 --> 00:20:13,600 এর রহস্য লুকিয়ে আছে এই মরুভূমির সমান্তরালে বয়ে চলা সাগরের শীতল পানির স্রোতে। 149 00:20:30,579 --> 00:20:34,000 এই শীতল পানি উপরের আর্দ্র বাতাসকে ঠান্ডা করে দেয় 150 00:20:34,125 --> 00:20:37,170 এবং এতে ঘন কুয়াশার সৃষ্টি হয়। 151 00:21:00,406 --> 00:21:07,581 এবং মরুভূমির বাতাস গরম হয়ে উপরে উঠে গেলে, এই ঠান্ডা বাতাস কুয়াশাকে মরুভূমির অনেক গভীরে নিয়ে যায়, 152 00:21:22,391 --> 00:21:27,230 এই ক্যাকটাসগুলোতে শিশিরকনা জমতে খুব বেশী সময় লাগে না। 153 00:21:35,740 --> 00:21:37,742 এই কুয়াশা এতোটাই নিয়মিত হয় যে 154 00:21:37,868 --> 00:21:41,455 স্যাঁতসেঁতে জায়গা পছন্দ করা আগাছাগুলোও ক্যাকটাসের গা বেয়ে গজিয়ে ওঠে 155 00:21:41,580 --> 00:21:44,918 এবং তারা স্পঞ্জের মতো পানিকে শুষে নেয়। 156 00:21:47,379 --> 00:21:50,132 যে অঞ্চলে একেবারেই বৃষ্টি হয়না, 157 00:21:50,257 --> 00:21:56,056 সেখানে এই অমুল্য কয়েক ফোটাই অনেক প্রাণীদের জীবন রক্ষাকারি উপাদানে পরিণত হয়। 158 00:22:04,650 --> 00:22:10,615 স্থলের আরো ভেতরে, সেখানে বাতাস অনেক গরম তাই জলীয় বাস্প শীতল হয়ে কুয়াশায় পরিণত হতে পারেনা। 159 00:22:10,698 --> 00:22:15,371 তাই মরুভূমির এই সরু ঢালুতেই এই আটাকামাদের বসবাস 160 00:22:15,496 --> 00:22:17,540 যেখানে জীবন ধারন করা যায়। 161 00:22:22,171 --> 00:22:23,631 এই কুয়াশা ছাড়া, 162 00:22:23,881 --> 00:22:26,592 এই অঞ্চলটাও শুন্য হয়ে যেতো। 163 00:22:40,317 --> 00:22:43,529 এই গুয়ানাকোগুলোই এই শিশিরের বেশীরভাগ গ্রহন করে থাকে। 164 00:22:43,655 --> 00:22:46,491 কিন্তু এগুলো বেশিক্ষণ টিকবে না। 165 00:22:47,200 --> 00:22:50,121 এক দু ঘন্টার মধ্যেই সূর্যের তাপ এগুলো উড়িয়ে নিয়ে যাবে 166 00:22:50,246 --> 00:22:52,832 এবং ক্যাকটাসের গা ও শুকিয়ে যাবে। 167 00:23:01,718 --> 00:23:07,224 আরিজোনার সোনরা মরুভূমি আটাকামার মতো এতোটা শুষ্ক না - 168 00:23:07,350 --> 00:23:09,561 কিছু বৃষ্টিপাত এখানে হয়, 169 00:23:10,395 --> 00:23:12,105 কিন্তু অনিয়মিত। 170 00:23:12,189 --> 00:23:13,690 তাই যখন বৃষ্টিপাত হয়, 171 00:23:13,774 --> 00:23:17,654 উদ্ভিদ এবং প্রানীরা এটা বেশী পরিমানে নেয়ার জন্য প্রস্তুত হয়, 172 00:23:19,114 --> 00:23:20,866 এবং বৃষ্টি আসছে। 173 00:23:29,543 --> 00:23:31,712 গরমে যখন বৃষ্টিপাত হয়, 174 00:23:31,837 --> 00:23:35,383 দৈত্যাকৃতির সাগুয়ারো, সবচে বড় প্রজাতিগুলোর একটি, 175 00:23:35,466 --> 00:23:38,220 প্রস্তুত হয় এর সবটুকু নেয়ার জন্য। 176 00:24:12,469 --> 00:24:19,144 বৃষ্টিপাতের পর, সাগুয়ারোর লম্বা ফাঁপা শেকড় দিয়ে দ্রুত পানি শুষে নেয়, 177 00:24:19,227 --> 00:24:24,317 এবং এর শরীরের খাজগুলে ফুলে উঠে এর শরীরের ভেতরে আরো জায়গা করে দেয়। 178 00:24:32,243 --> 00:24:37,666 পুরোপুরি বড় একটা সাগুয়ারো, পাঁচ টন পর্যন্ত পানি ধরে রাখতে পারে, 179 00:24:37,791 --> 00:24:42,296 এবং পরবর্তি কয়েক মাসের অনাবৃষ্টিতেও এর কোন অসুবিধা হবে না। 180 00:24:46,510 --> 00:24:52,225 এই বিশাল ক্যাকটাসের কান্ডগুলোতে গিলা কাঠঠোকরারা বাসা বাধে। . 181 00:24:54,269 --> 00:25:00,944 কিন্তু শুধুমাত্র পাখিরাই একা এই ক্যাকটাসগুলো থেকে উপকার পায় না, 182 00:25:17,297 --> 00:25:19,257 গ্রীষ্মের চার সপ্তাহে 183 00:25:19,382 --> 00:25:25,056 রাতের বেলায় সাগুয়ারোর ফুল ফোটে আগুন্তকদের আকর্ষণ করার জন্য। 184 00:25:28,059 --> 00:25:31,355 এগুলো পরাগ আর মধু দিয়ে পূর্ণ থাকে 185 00:25:31,480 --> 00:25:35,777 যা লম্বা জিহ্বার বাদুরদের আকর্ষণ করে। 186 00:25:51,003 --> 00:25:56,176 গ্রীষ্মের গরমের হাত থেকে বাঁচতে এই বাদুরগুলো কয়েকদিন আগে মেক্সিকো ছেড়ে এসেছে। 187 00:25:56,301 --> 00:26:00,557 এবং তারা উত্তরে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিন অঞ্চলে যাচ্ছে, 188 00:26:02,392 --> 00:26:06,522 সেখানে যাওয়ার জন্য তাদের সোনরা মরুভূমি পাড়ি দিতে হবে, 189 00:26:12,321 --> 00:26:14,448 কিন্তু এই মরুভূমি এতোটাই বড়, 190 00:26:14,573 --> 00:26:18,203 বছরের অন্য সময় তারা এটা পার হতে পারেনা। 191 00:26:18,328 --> 00:26:20,706 এখন, এই সাগুয়ারোতে ফুল ফোটায়, 192 00:26:20,831 --> 00:26:23,626 তারা পথিমধ্যে খেয়ে নিতে পারবে। 193 00:26:33,471 --> 00:26:37,476 তাই সাগুয়ারো ক্যাকটাসের এইভাবে পানি জমানোর সফলতার কারনে, 194 00:26:37,601 --> 00:26:45,402 বেশির ভাগ প্রাণীর এই মরুভূমিতে বাস করা এমনকি একে অতিক্রম করাও সম্ভব হয়েছে। 195 00:27:24,198 --> 00:27:28,912 এই পরিমিত বৃষ্টিপাত হবার কারনেই এই মরুভূমিরগুলির রুপ নির্ধারিত হয়েছে 196 00:27:29,037 --> 00:27:31,081 কিন্তু পানি, পরিমানে কম হওয়া সত্ত্বেও 197 00:27:31,207 --> 00:27:35,378 বাতাসের মতো, এই অঞ্চলের আকৃতি পরিবর্তন করেছে। 198 00:27:52,565 --> 00:27:54,443 ইউটাহ এর মরুভূমিতে 199 00:27:54,568 --> 00:28:00,283 প্রাচীন এই নদিগুলোর স্রোত নিচের বেলে পাথরগুলোকে ক্ষয় করে এর খাতকে প্রশস্ত করেছে, 200 00:28:00,408 --> 00:28:06,833 এখন, এই জায়গা গুলো কমতে কমতে শুধুমাত্র এই খাড়া স্তম্ভগুলো রয়ে গেছে। 201 00:28:36,451 --> 00:28:41,708 মাটিতে পানি ধারন করার মতো মাটি অনেক কম থাকার কারনে। 202 00:28:41,833 --> 00:28:44,961 এখানে জীবন খুঁজে পাওয়া দুস্কর। 203 00:28:46,588 --> 00:28:48,632 এবং যখন সম্পদ সীমিত 204 00:28:48,758 --> 00:28:51,344 এটা নিয়ে ঝগড়াও বাধে তাড়াতাড়ি 205 00:29:01,982 --> 00:29:04,693 এগুলো নুবিয়ান আইবেক্স, 206 00:29:04,818 --> 00:29:07,613 এবং তারা একটি মল্লযুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। 207 00:29:13,871 --> 00:29:15,331 আর যখন ঝগড়া শুরু হয়ে যায়, 208 00:29:15,456 --> 00:29:20,963 বুদ্ধিমান প্রাণী মাত্রই বুঝতে পারে উপরে উঠে গেলে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে, 209 00:29:38,317 --> 00:29:41,612 এগুলো হচ্ছে অনুগামি পুরুষ আইবেক্স, 210 00:29:41,738 --> 00:29:44,241 কিন্তু তারা সত্যিকারের লড়াই লড়ছে, 211 00:29:44,324 --> 00:29:49,580 এখানে হেরে যাওয়া মানে আর কখনোই বংশ বিস্তারের সুযোগ মিলবে না। 212 00:30:11,940 --> 00:30:15,486 এখানে যেরকম দেখা যাচ্ছে, সেরকম ভাবে প্রতিযোগী দুজনই যদি সমানে সমান হয়, 213 00:30:15,611 --> 00:30:18,615 এই মল্ল যুদ্ধ ঘন্টা পর্যন্ত চলতে পারে। 214 00:30:38,430 --> 00:30:42,769 এই গরমে এরকম যুদ্ধ সত্যিই ক্লান্তিকর। 215 00:30:44,604 --> 00:30:51,112 কিন্তু বিজয়ী পুরুষ তার দলের অন্যতম উঁচু স্থানে আসন করে নিবে 216 00:31:22,400 --> 00:31:24,068 এখানে এতোটাই পুরস্কার আছে, 217 00:31:24,193 --> 00:31:26,488 সবাই নিয়ম মানে না। 218 00:31:41,756 --> 00:31:44,176 এই যুদ্ধে বিজয়ী নির্ধারিত হয়ে গেছে, 219 00:31:44,301 --> 00:31:48,347 কিন্তু চূড়ান্ত পুরস্কার এখনো তার হয়ে ওঠেনি। 220 00:31:51,810 --> 00:31:56,107 এটা এখনো সবচে প্রভাবশালী পুরুষ আইবেক্সের কাছে 221 00:31:58,276 --> 00:32:02,364 তার এই অবস্থানের কারনে, সে অর্জন করেছে মেয়ে আইবেক্সের একটি হারেমের কর্তৃত্ব 222 00:32:02,489 --> 00:32:06,119 এবং তারা এই মরুভূমিতে চলাচল করার সময় তার পাশে পাশে থেকেই 223 00:32:06,244 --> 00:32:08,413 খাদ্য এবং পানি সংগ্রহ করে। 224 00:32:10,582 --> 00:32:13,669 তার সঙ্গী খোজার দরকার হয়না। 225 00:32:13,794 --> 00:32:15,380 সে ইতমধ্যেই তাদের জিতে নিয়েছে। 226 00:32:15,505 --> 00:32:20,386 তাই তাদেরকে সাথে নিয়ে সে সুস্থ সবল থাকার চেস্টা করে। 227 00:32:35,737 --> 00:32:38,824 মরুভূমির বিশেষ প্রাণী হচ্ছে গিরগিটি। 228 00:32:41,911 --> 00:32:45,749 কিন্তু এখানে তাদের সংখ্যা অভাবনীয় 229 00:32:51,172 --> 00:32:57,430 দক্ষিন আফ্রিকার এই মরুভূমির পাথরের খাজে পৃথিবীর সবচে বেশী গিরগিটির বাস। 230 00:33:07,275 --> 00:33:10,946 অবধারিতভাবেই তাদের নাম চ্যাপ্টা গিরগিটি। 231 00:33:11,071 --> 00:33:16,077 এবং জায়গার দখল বজায় রাখার জন্যই তারা এইরকম অদ্ভুতভাবে নিজেদের বহু রঙ্গের পেট প্রদর্শন করে। 232 00:33:18,538 --> 00:33:20,040 সে তার প্রদর্শনী সমাপ্ত করেছে, 233 00:33:20,165 --> 00:33:23,086 এখন কিছু খাবার খোঁজার পালা। 234 00:33:24,921 --> 00:33:26,465 দিন যত উষ্ণ হতে থাকে, 235 00:33:26,590 --> 00:33:28,842 এই গিরগিটি গুলো বাসা থেকে ততো দূরে যেতে থাকে, 236 00:33:28,968 --> 00:33:31,637 তারা খাঁড়ির একেবারে নীচে নেমে যায়, 237 00:33:32,889 --> 00:33:35,100 তাদের লক্ষ্য, নীচের নদী। 238 00:33:37,519 --> 00:33:39,939 উপরের এই প্রান্তে কোন খাবার নেই। 239 00:33:40,064 --> 00:33:43,777 কিন্তু এই মরুভূমির নদীতে আছে এক গোপন ঘটনা। 240 00:33:50,285 --> 00:33:55,833 প্রতিদিন নদীর পানি থেকে কালোমাছির ঝাকেরা উঠে আসে। 241 00:33:55,916 --> 00:33:58,795 এগুলোর জন্যই এই গিরগিটিরা এখানে এসেছে, 242 00:34:13,938 --> 00:34:16,066 এই কালোমাছিরা কখনোই মাটিতে নামে না 243 00:34:16,191 --> 00:34:19,862 তাই গিরগিটীগুলোকেই লাফিয়ে উঠতে হয়। 244 00:34:32,126 --> 00:34:38,551 এই শারীরিক প্রদর্শনির সাহায্যে একটি গিরগিটী দিনে প্রায় ৫০টির মতো মাছি ধরতে পারে। 245 00:34:48,730 --> 00:34:51,066 এখানে প্রচুর মাছি দেখা যায়। 246 00:34:51,191 --> 00:34:54,653 যদিও প্রায় শত শত গিরগিটী তাদের খাওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। 247 00:35:08,545 --> 00:35:14,802 এই পানির ঘুর্নিগুলো থেকে দূরে, এই চ্যাপ্টা গিরিগিটীগুলো খুব বেশী দেখা যায় না। 248 00:35:14,928 --> 00:35:19,934 কিন্তু এখানে একটির প্রাচুর্য অন্যটিকে বিস্তারে সাহায্য করেছে, 249 00:35:30,988 --> 00:35:33,992 পানির স্বল্পতার কারনেই মরুভূমি সৃষ্টি হয়েছে, 250 00:35:34,117 --> 00:35:38,414 কিন্তু গরম এবং তৃষ্ণায় এখানে কেউ মারা যায় না, 251 00:35:38,539 --> 00:35:40,500 মারা যায় না খেতে পেয়ে। 252 00:35:58,938 --> 00:36:03,068 তাই কিভাবে এই পৃথিবীতে এই রকম বড় তৃণভোজী প্রাণী 253 00:36:03,194 --> 00:36:08,992 এমন স্থানে টিকে গেছে, যেখানে কোন গাছপালাই নেই। 254 00:36:15,250 --> 00:36:19,380 নামিবিয়ার এই হাতীগুলো, আফ্রিকার কঠিনতম প্রাণী। 255 00:36:19,505 --> 00:36:21,465 এবং তাদের এরকমই হতে হয়। 256 00:36:38,569 --> 00:36:41,823 খুব সামান্য পরিমান খাবার এমনভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে 257 00:36:41,948 --> 00:36:44,994 মাঝে মাঝে তাদের দিনে ৫০ মাইল হাটতে হয়। 258 00:36:45,119 --> 00:36:50,876 যখন তারা শুকিয়ে যাওয়া নদীর উপর দিয়ে যে কোন প্রকার খাবারের খোঁজে হাঁটতে থাকে। 259 00:37:05,560 --> 00:37:09,815 মাঝে মাঝে তাদের চেস্টা সম্পুর্ন বিফলে যায়। 260 00:37:44,565 --> 00:37:48,319 মনে হতে পারে এই অঞ্চল কোনভাবে হাতিদের জন্য না। 261 00:37:48,444 --> 00:37:51,114 কিন্তু তারা এখানে একা না। 262 00:38:07,551 --> 00:38:11,305 অবাক করে দিয়ে, এখানে সিংহও বাস করে। 263 00:38:15,852 --> 00:38:19,940 সাভানা অঞ্চলে খাবারের প্রাচুর্যতার কারনে সিংহের পাল এবং মর্যাদাও বড় হয়, 264 00:38:20,066 --> 00:38:22,652 প্রায় বিশটি অথবা তার চেয়ে বেশী। 265 00:38:22,777 --> 00:38:26,657 কিন্তু এখানে জীবন ধারনের জন্য তাদেরকে তাদের অভ্যাস বদলাতে হয়েছে - 266 00:38:26,782 --> 00:38:28,492 এখানে গৌরব অত্যান্ত সামান্য 267 00:38:28,617 --> 00:38:31,663 এবং তাদের এলাকাও অনেক বড়, 268 00:38:32,664 --> 00:38:35,125 এবং এজন্যই সমস্যা বেশী - 269 00:38:36,460 --> 00:38:40,048 তাদের খাবার সব সময় চলার উপর থাকে। 270 00:38:48,683 --> 00:38:50,101 তাই, হাতীদের মতো, 271 00:38:50,227 --> 00:38:55,191 এই সিংহদেরও বেঁচে থাকার জন্য অনেক পরিমান হাঁটতে হয়, 272 00:39:10,417 --> 00:39:13,212 কিন্তু সিংহরা সব জায়গায় যেতে পারে না। 273 00:39:13,338 --> 00:39:17,676 তারা এই বালিয়াড়িপূর্ণ মাঠকে অতিক্রম করার চেস্টাও করবে না। 274 00:39:17,801 --> 00:39:19,720 এবং অরিক্সেরা এটা জানে, 275 00:40:19,667 --> 00:40:23,755 তাই সিংহদের অপেক্ষা করতে হবে কবে অরিক্সেরা বালিয়াড়ি থেকে ফিরে আসবে, 276 00:40:23,880 --> 00:40:26,842 তাদের ফিরে আসতেই হবে খাবার এবং পানির জন্য। 277 00:40:26,967 --> 00:40:29,428 আর তখনই সিংহরা তাদের উপর ঝাপিয়ে পরবে। 278 00:41:35,215 --> 00:41:39,637 হাতীগুলো তাদের পছন্দের কিছু খাবার খুঁজে পেয়েছে, 279 00:41:46,229 --> 00:41:49,274 সব হাতীদের জন্য ঘাস হচ্ছে প্রধান খাবার, 280 00:41:49,399 --> 00:41:52,778 কিন্তু এই পালটি খুব মনোযোগ দিয়ে মাটি থেকে শিকড় তুলে খাচ্ছে, 281 00:41:52,903 --> 00:41:57,033 যেটাতে প্রকৃতপক্ষে ঘাসের ডগার চেয়ে বেশী পরিমান খাদ্যগুন এবং পানি আছে, 282 00:41:57,158 --> 00:41:58,577 এধরনের অভ্যাসই 283 00:41:58,702 --> 00:42:02,915 এই ধরনের দুর্দিনের বাজারে জীবন ধারনের প্রধান পার্থক্য তৈরি করেছে, 284 00:42:03,624 --> 00:42:07,421 তারপরও এই অবস্থার মুহুর্তেই পরিবর্তন ঘটে 285 00:42:24,566 --> 00:42:29,363 দুরের কোন বৃষ্টিপাত মাঝে মাঝে মরুভূমির জন্য আশীর্বাদ বয়ে আনে 286 00:42:29,489 --> 00:42:34,870 এই পানিগুলো কয়েকশ মাইল দূরে পাহাড়ে বৃষ্টিরুপে ঝরেছিল। 287 00:42:40,377 --> 00:42:42,254 এটা হঠাত বন্যা নামেই পরিচিত। 288 00:42:42,379 --> 00:42:46,718 এবং এই নামের কারন এজন্যই যে, মাঝে মাঝে মাত্র এক দিনের জন্যই এই পানি থাকে। 289 00:42:46,843 --> 00:42:51,557 এবং এই ঘটনা বছরে দু একবারের বেশী ঘটেনা। 290 00:43:12,373 --> 00:43:16,795 এই বালুকাময় নদীর তলা একটি বিশাল চোষ কাগজের ন্যায় কাজ করে, 291 00:43:16,920 --> 00:43:20,216 পানি আসার সাথে সাথেই এটা সব পানি শুষে নেয়। 292 00:43:29,727 --> 00:43:33,190 কিন্তু যে সব জায়গাই পানিতে ভিজে গিয়েছে 293 00:43:33,315 --> 00:43:37,820 সেগুলোই এখানকার বাসিন্দাদের জীবনধারনের সুযোগ বাড়িয়ে দেবে 294 00:43:43,452 --> 00:43:46,831 পানির গর্তগুলো অল্প সময়ের জন্য ভরে যায়, 295 00:43:51,503 --> 00:43:55,008 আফ্রিকার অন্য অঞ্চলে, হাতীরা প্রতিদিন পানি পান করে 296 00:43:55,133 --> 00:43:56,676 কিন্তু এখানে পানির স্বল্পতার কারনে। 297 00:43:56,801 --> 00:44:03,518 এই মরুভূমির হাতীরা, চার পাঁচ দিন পর পর তাদের পেট পুরো করে পানি পান করে। 298 00:44:04,644 --> 00:44:08,941 এই হঠাত বন্যা হবার সপ্তাহখানেকের মধ্যেই এই স্থানটি সবুজে পরিবর্তিত হবে। 299 00:44:09,066 --> 00:44:13,363 যেগুলো এই অরিক্সগুলোকে বালিয়াড়ি থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য যথেষ্ট। 300 00:44:15,240 --> 00:44:19,328 এটাও তাদের শরীরে খাদ্য সঞ্চয় করার এক দুর্লভ সুযোগ 301 00:44:27,964 --> 00:44:32,511 এই বন্যা সিংহদের জীবনকেও সহজ করেছে, 302 00:44:34,889 --> 00:44:39,978 এই অরিক্সটির মাংস তাদের এই পরিবারের সপ্তাহের খাবারের প্রয়োজন মেটাবে 303 00:44:40,103 --> 00:44:42,564 কিন্তু আপাতত কিছু সময়ের জন্য শিকার করা সহজ হবে, 304 00:44:42,690 --> 00:44:45,818 যখন এই নদীর পাড়ে সবুজের গালিচা বসেছে। 305 00:44:49,781 --> 00:44:52,618 সিংহ এবং অরিক্সের জন্য ভালো সময়টা খুব অল্প সময়ের জন্য, 306 00:44:52,785 --> 00:44:54,787 কিন্তু এইরকম ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সময়গুলিই, 307 00:44:54,912 --> 00:44:59,042 এই মরুভূমিতে বছরের পর বছর ধরে জীবন যাপন সম্ভব করে তুলেছে। 308 00:45:04,799 --> 00:45:07,886 মৃত্যু উপত্যকা হচ্ছে পৃথিবীর সবচে গরম স্থান 309 00:45:08,011 --> 00:45:12,267 কিন্তু এই গনগনে চুল্লিতেও পানি পরলে দারুন পরিবর্তন ঘটে 310 00:45:22,863 --> 00:45:27,910 মাত্র একবার বৃষ্টি পরলেই, ৩০ বছরের বেশী সময় ধরে সুপ্ত থাকা বীজগুলো অঙ্কুরিত হয়ে 311 00:45:28,035 --> 00:45:30,163 জীবনে পরিপূর্ণ হয়। 312 00:45:38,548 --> 00:45:42,970 এবং এরকম ফুল গত একশো বছরেও ফোটেনি। 313 00:45:55,193 --> 00:45:58,864 এই মৃত্যু উপত্যকায় ফুল ফোটার সময় খুব দীর্ঘ হয়না। 314 00:45:58,989 --> 00:46:03,244 কিন্তু তারা বার বার আসে, যাতে এখানে জীবন টিকে থাকতে পারে। 315 00:46:11,796 --> 00:46:16,427 প্রত্যেক মরুভূমির বাসিন্দারাই অপেক্ষায় থাকে হঠাত কবে আবার এই গাছপালা ফিরে আসবে, 316 00:46:16,552 --> 00:46:19,847 এবং যখন এটা আসে, তারা চেস্টা করে এর থেকে পুরোটা আদায় করে নিতে 317 00:46:40,330 --> 00:46:42,666 পৃথিবীতে আর কোন প্রাণীই এমনভাবে 318 00:46:42,791 --> 00:46:49,758 অনুকূল পরিবেশে এতো দ্রুত বিকশিত হতে পারেনা, যতোটা এই মরুভূমির পঙ্গপালের ঝাক বিকশিত হয়, 319 00:46:50,092 --> 00:46:55,223 এদের ডিমগুলো প্রায় ২০ বছরের বেশী সময় ফোটার অপেক্ষায় মাটিতে পরে ছিল। 320 00:47:07,863 --> 00:47:09,991 ছোট পতঙ্গগুলোকে ফড়িং বলে, 321 00:47:10,116 --> 00:47:12,452 এই সময়ে তারা উড়তে পারে না, 322 00:47:12,702 --> 00:47:19,293 তারা ঘাসের গন্ধ পেয়ে নতুন খাবারের জায়গায় যায়, 323 00:47:25,134 --> 00:47:29,097 সাধারনভাবে চার সপ্তাহে এই ফড়িংগুলো বড় হয়ে ওঠে, 324 00:47:29,222 --> 00:47:31,725 এবং এখন যেরকম দেখা যাচ্ছে, এরকম বড় হলে 325 00:47:31,850 --> 00:47:35,605 তাদের উন্নতি দ্রুততর হয়। 326 00:47:40,611 --> 00:47:43,823 যখন এক স্থানের খাবার ফুরিয়ে আসতে থাকে 327 00:47:43,948 --> 00:47:47,494 পাখা ওয়ালা বড় পতঙ্গগুলি এক ধরনের গন্ধসমৃদ্ধ নির্যাস ছাড়ে 328 00:47:47,619 --> 00:47:51,165 যেটা অন্যদের জানান দেয়, উড়ে চলার সময় এসেছে, 329 00:48:03,137 --> 00:48:04,723 এবং যখন তারা দলে দলে এসে জড়ো হয়, 330 00:48:04,848 --> 00:48:07,101 তারা এক বিশাল পালে পরিণত হয়, 331 00:48:29,711 --> 00:48:33,841 একটি পূর্ণ পতঙ্গ এক দিনে তার নিজের দেহের ওজনের সমান খাবার খেতে পারে 332 00:48:33,966 --> 00:48:39,514 এবং এরকম একটি পাল আক্ষরিকভাবেই শত শত টন ঘাস খেয়ে ফেলতে পারে 333 00:48:41,058 --> 00:48:43,352 তাদের চলার মধ্যেই থাকতে হয়। 334 00:48:44,812 --> 00:48:47,023 এই পাল বাতাসের দিয়ে উড়ে যায় - 335 00:48:47,107 --> 00:48:50,527 এটাই তাদের সবচে কম শক্তি খরচ করে ভ্রমন করতে সাহায্য করে। 336 00:48:54,115 --> 00:48:59,663 এবং বাতাসের প্রবাহকে অনুসরন করার মানেই হচ্ছে তারা সর্বদা নিম্ন চাপের এলাকার দিকেই যাচ্ছে, 337 00:48:59,789 --> 00:49:05,170 যেখানে বাতাসে বৃষ্টিকনা আছে, এবং গাছপালা জন্মাচ্ছে, 338 00:49:07,089 --> 00:49:08,090 যখন তারা উড়ে, 339 00:49:08,215 --> 00:49:10,885 অন্যান্য পাল এসে তাদের পালের সাথে মিলে যায়, 340 00:49:11,010 --> 00:49:14,973 তৈরি করে কয়েক কোটি পতঙ্গের বিশাল আকারের এক প্লেগ 341 00:49:15,098 --> 00:49:17,643 প্রায় চল্লিশ মাইলের মতো লম্বা। 342 00:49:19,687 --> 00:49:24,276 তারা তাদের পথে যা খাওয়ার মতো পাবে তাই খেয়ে শেষ করে ফেলবে, 343 00:49:37,625 --> 00:49:41,797 এটা পৃথিবীর বুকে এক অদ্ভুত ঘটনা 344 00:49:41,922 --> 00:49:43,883 এরকম আকারে খুব বেশী দেখা যায়না। 345 00:49:44,008 --> 00:49:46,052 এবং এটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়না। 346 00:49:46,177 --> 00:49:47,846 যখন খাবার ফুরিয়ে যায়, 347 00:49:47,971 --> 00:49:53,895 কোটি কোটি পঙ্গপালের ঝাকের এই বিশাল গর্জন রুপান্তরিত হয়ে 348 00:49:54,020 --> 00:49:58,692 মরুভূমির শুকনো বাতাশে মিলিয়ে যায়, 348 00:50:04,020 --> 00:50:18,692 বাংলা সাব সজীব