0 00:00:07,180 --> 00:00:15,180 বাংলা সাব সজীব 1 00:00:44,400 --> 00:00:48,778 এটা আমাদের পৃথিবীর সর্বশেষ প্রান্ত, 2 00:00:51,030 --> 00:00:57,076 একটি গভীর পৃথিবী যেখানে কেবল অকুতোভয় ব্যাক্তিই যাওয়ার সাহস রাখে। 3 00:01:50,076 --> 00:01:51,535 আমাদের পায়ের নীচে, 4 00:01:51,660 --> 00:01:56,789 গুহামুখ এবং গুহাপথ গুলোর দৈর্ঘ্য এখনো আমাদের অজানা 5 00:02:13,177 --> 00:02:15,679 মেক্সিকোর একটি গুহামুখ, 6 00:02:15,804 --> 00:02:17,931 এর তলদেশ ৪০০ মিটার গভীরে, 7 00:02:18,056 --> 00:02:22,101 এতোটাই গভীর যে এর ভেতরে অনায়াসে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং কে ঢুকিয়ে ফেলা যাবে, 8 00:02:29,273 --> 00:02:32,776 এটা পৃথিবীর বৃহত্তম গুহামুখ, 9 00:02:32,859 --> 00:02:35,653 তারপরও, এটি আবিস্কার করা হয়েছে, 10 00:02:35,736 --> 00:02:39,531 মানুষ চাঁদে পা রাখার মাত্র দুবছর আগে, 11 00:02:42,950 --> 00:02:48,413 আজ পর্যন্ত, এই গুহাগুলিই মানুষের জন্য সবচে দুর্গম স্থান 12 00:02:48,621 --> 00:02:52,124 তারপরেও, মানুষই একমাত্র প্রাণী নয়, 13 00:02:52,249 --> 00:02:55,919 যারা এই অন্ধকার এবং স্যাতসেতে স্থানে প্রথম পা রেখেছে, 14 00:03:00,380 --> 00:03:07,052 এখানে, কিছু অদ্ভুত এবং অজানা প্রাণী বসবাস করে। 15 00:03:40,370 --> 00:03:47,333 এই ছোট ছোট আলোর ছায়াপথটি গড়ে উঠেছে, হাজার হাজার ছোট পোকা দ্বারা, 16 00:03:51,754 --> 00:03:56,883 যে কোন প্রাণীই এই গুহার গভীরে বাস করুক, তাকে নিকষ কালো অন্ধকারকে মানিয়ে নিতে হয়। 17 00:03:56,966 --> 00:04:02,512 কিন্তু নিউজিল্যান্ডের এই গুহায়, কেউ কেউ এই অন্ধকারকেই নিজেদের কাজে লাগিয়েছে। 18 00:04:15,355 --> 00:04:19,317 ছাদের থেকে একটি সিলিকনের সুতা ঝুলছে, 19 00:04:19,442 --> 00:04:22,236 এরকম শয়ে শয়ে সুতো, 20 00:04:29,783 --> 00:04:32,077 যদিও, এই সুতোগুলো দেখতে দারুন, 21 00:04:32,243 --> 00:04:35,329 এগুলোর কিছু শয়তানী উদ্দেশ্য আছে, 22 00:04:36,830 --> 00:04:40,333 এটা হচ্ছে গুহার উজ্জ্বল পোকা। 23 00:04:40,583 --> 00:04:45,587 তার শিকারকে ফাদে ফেলার জন্য, এটি রেশমের সুতা নিয়ে শিকারে বেড়িয়েছে, 24 00:04:52,467 --> 00:04:56,721 এই সুতাটা বের হয় এই পোকাগুলোর মুখের লালা থেকে 25 00:04:56,846 --> 00:05:00,140 এবং এর সাথে যোগ হয় কিছু আঠালো লালা। 26 00:05:14,568 --> 00:05:19,238 প্রতিটি পোকা এরকম ডজনখানেক সুতো তৈরি করে। 27 00:05:21,782 --> 00:05:23,700 একবার এই সুতাটি তৈরি হয়ে গেলে, 28 00:05:23,825 --> 00:05:26,952 এই পোকাটি একটি ঝুলানো বিছানা তৈরি করে 29 00:05:27,077 --> 00:05:30,664 এবং অপেক্ষা করে, একজন ধৈর্যশীল মাছ ধরার লোকের মতো 30 00:05:35,084 --> 00:05:38,253 কিন্তু এই পোকাগুলো ভাগ্যের উপর নিজেকে সঁপে দেয় না 31 00:05:38,461 --> 00:05:42,631 এই ভৌতিক নীলচে আলোগুলো, এক ধরনের রাসায়নিক ক্রিয়ার ফল 32 00:05:42,756 --> 00:05:47,302 যে ক্রিয়া ঘটছে পোকাটির লেজের একটি ছোট থলির ভেতর। 33 00:05:48,135 --> 00:05:51,305 আক্ষরিক অর্থেই এটি তার পেছন দিকের আলো। 34 00:05:51,430 --> 00:05:54,766 এটা শিকারকে আকৃষ্ট করার একটি টোপ। 35 00:06:22,579 --> 00:06:27,082 পোকারা এই আলোর দিকে এক অদম্য কৌতূহল নিয়ে এগিয়ে যায়, 36 00:06:27,207 --> 00:06:31,127 এবং এই আঠালো সুতায় আটকে যায়, 37 00:06:40,384 --> 00:06:41,844 একবার আটকে গেলে, 38 00:06:41,969 --> 00:06:43,762 আর পালানো সম্ভব হয় না। 39 00:06:49,266 --> 00:06:53,311 এখন শুধু সুতো টেনে উপরে তোলার পালা, 40 00:06:53,603 --> 00:06:57,564 এবং ধীরে ধীরে তার শিকারকে খাওয়া শুরু করে- জীবিত অবস্থাতেই। 41 00:07:13,410 --> 00:07:16,496 এই গুহাতে জন্ম নেয়া এই পোকাগুলোকে ধরার মাধ্যমে, 42 00:07:16,621 --> 00:07:19,706 এই পোকাগুলো প্রথম সমস্যাটার সমাধান করে নিয়েছে 43 00:07:19,832 --> 00:07:22,125 যা এই গুহাবাসীদের প্রধান সমস্যা 44 00:07:22,250 --> 00:07:25,836 আর তা হচ্ছে নিয়মিত খাবার জোগাড় করা 45 00:07:33,300 --> 00:07:38,012 কেবলমাত্র এক ধরনের পাথরেই এই ধরনের মাটির নিচের জগত তৈরি করতে পারে। 46 00:07:38,137 --> 00:07:39,639 চুনাপাথর। 47 00:07:40,014 --> 00:07:42,933 পৃথিবীর বেশিরভাগ গুহাই এই ধরনের পাথরে পাওয়া যায়, 48 00:07:43,058 --> 00:07:46,769 এবং এই ধরনের পাথরেই পৃথিবীর শতকরা ১০ ভাগ পরিপুর্ন 49 00:07:53,024 --> 00:07:58,778 এই চুনাপাথর তৈরি হয়েছে, সামুদ্রিক ঝিনুক এবং প্রবাল থেকে পাওয়া খনিজ দিয়ে। 50 00:07:58,862 --> 00:08:02,323 যদিও আমেরিকার এই খাড়া পাহাড়গুলো 51 00:08:02,406 --> 00:08:05,367 এখন সাগরপৃষ্ঠ থেকে প্রায় শত শত মিটার উপরে 52 00:08:05,492 --> 00:08:08,578 আসলে এগুলো সাগর তলে সৃষ্টি হয়েছে। 53 00:08:15,875 --> 00:08:19,586 ভিয়েতনামের এই হা লং বে এর চুনাপাথরের স্তম্ভ গুলো 54 00:08:19,711 --> 00:08:22,672 এখনো মনে করিয়ে দেয় এদের সমুদ্রের সাথে যোগাযোগ 55 00:08:22,797 --> 00:08:27,384 প্রকৃতপক্ষে এই পুরো অঞ্চলটা একটি চুনাপাথরের আস্ত চাই এর মতো ছিল 56 00:08:27,467 --> 00:08:29,802 যেটি ছিল একট বিশাল প্রবাল প্রাচিরের ভিত্তি। 57 00:08:40,603 --> 00:08:47,942 বোর্নিওতে, বৃষ্টি এই চুনাপাথরগুলোকে ক্ষয় করে চোখা এবং প্রচন্ড ধারালো পাথরে পরিণত করছে। 58 00:09:01,452 --> 00:09:04,746 কিন্তু বৃষ্টির পানির এই ক্ষয়কারী শক্তি, 59 00:09:04,830 --> 00:09:09,333 মাটির নীচে এক নাটকীয় ঘটনা মঞ্চস্থ করেছে, 60 00:09:20,383 --> 00:09:25,679 চুনাপাথরের উপর দিয়ে নদীর ধারা চলতে চলতে হঠাত হারিয়ে যায়, 61 00:09:40,107 --> 00:09:43,526 যখন পানি নিচের দিকের কোন শক্ত পাথরে গিয়ে ঠেকে, 62 00:09:43,651 --> 00:09:45,945 তখন এর পথ বেঁকে যায়, 63 00:09:50,323 --> 00:09:51,783 মাটির নীচে, 64 00:09:51,908 --> 00:09:56,119 এই পানি এক নতুন ক্ষয়কারী শক্তি হিসেবে ফিরে আসে, 65 00:10:01,874 --> 00:10:04,209 মাটির উপর দিয়ে যাত্রার সময়, 66 00:10:04,334 --> 00:10:07,670 এটি মাটি থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহন করে 67 00:10:07,753 --> 00:10:09,880 একটু অম্লীয় দ্রবনে পরিণত হয়। 68 00:10:10,130 --> 00:10:14,509 এবং লক্ষ লক্ষ বছর ধরে এই অম্লীয় দ্রবন চুনাপাথর গুলোকে ক্ষয় করে আসছে, 69 00:10:14,634 --> 00:10:18,178 এবং এই গুহা এবং গিরিপথের ধাঁধাঁ তৈরি করেছে। 70 00:10:18,303 --> 00:10:20,972 যা মাঝে মাঝে মাইলের পর মাইল চলে যায়। 71 00:11:01,212 --> 00:11:06,507 এটি হচ্ছে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ভুগর্ভস্থ নদীর চলার পথ, 72 00:11:06,591 --> 00:11:10,802 এটা এতোটাই বড়, একটি জাম্বো জেট এর ভেতর দিয়ে উড়ে যেতে পারবে। 73 00:11:10,927 --> 00:11:14,013 এটা বোর্নিওর হরিণ গুহা। 74 00:11:26,523 --> 00:11:28,649 এই হরিণ গুহাটি বিশাল হবার কারনে, 75 00:11:28,733 --> 00:11:33,028 কিছু প্রাণী এখানে অনেক সংখ্যায় জড়ো হয়। 76 00:11:40,575 --> 00:11:45,871 ত্রিশ লক্ষ কুঁচকানো ঠোটের বাদুরের বাস এখানে। 77 00:11:49,457 --> 00:11:52,376 এই বাদুরগুলো গুহার উঁচু ছাদে ঝুলে থাকে। 78 00:11:52,460 --> 00:11:54,962 এখানে তারা বাইরের উপদ্রব থেকে দূরে থাকে 79 00:11:55,045 --> 00:11:57,130 এবং শিকারি প্রাণী থেকেও নিরাপদে থাকে। 80 00:12:05,470 --> 00:12:07,179 এবং এখানে ঝুলে থাকা অবস্থায়, 81 00:12:07,304 --> 00:12:10,891 তারা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা জিনিস তৈরি করে। 82 00:12:15,519 --> 00:12:21,023 এই কয়েকশত মিটার উঁচু ময়লার স্তূপটি তৈরি হয়েছে বাদুরের উচ্ছিষ্ট দিয়ে - 83 00:12:21,149 --> 00:12:22,274 গুয়ানো 84 00:12:45,125 --> 00:12:50,880 এর উপরিভাগে লক্ষ কোটি তেলাপোকা 85 00:12:51,172 --> 00:12:53,549 কার্পেটের মতো ঢেকে রয়েছে। 86 00:12:59,095 --> 00:13:05,349 গুহাগুলি হচ্ছে পৃথিবীর এরকম সামান্য কয়েকটি আবাসভুমির একটি যেখানে সূর্যের আলো পৌঁছে না। 87 00:13:05,475 --> 00:13:14,106 তাই এখানে গাছপালা না থাকার কারনে, এই গুহার প্রাণীজীবন এই বাদুরের উচ্ছিষ্টের উপর নির্ভরশীল। 88 00:13:26,366 --> 00:13:29,201 তেলাপোকাগুলো এই উচ্চিস্ট খেয়ে বেঁচে থাকে, 89 00:13:29,702 --> 00:13:32,370 এবং অন্য যা কিছুই এর উপর পরুক। 90 00:13:59,975 --> 00:14:03,770 এই উচ্ছিষ্ট অন্য ধরনের পোকাকেও বাচিয়ে রাখে 91 00:14:03,895 --> 00:14:07,773 যেগুলো দিনের বেলায় গুহার দেয়ালে ঘুমিয়ে থাকে 92 00:14:12,068 --> 00:14:16,822 তেলাপোকাগুলো এই বিশাল আকারের শতপদী বিছার খাবারে পরিণত হয়। 93 00:14:16,905 --> 00:14:19,866 কিছু কিছু ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে 94 00:14:23,618 --> 00:14:26,204 আজব শোনালেও, এখানে কাঁকড়াও বাস করে। 95 00:14:26,287 --> 00:14:29,415 এই উচ্ছিষ্টের উপর জীবন ধারন করে 96 00:14:36,670 --> 00:14:40,882 এই প্রাণীগুলো তাদের সারাটা জীবন এই গুহাতেই কাটিয়ে দেয়। 97 00:14:40,965 --> 00:14:45,010 তারা সবাই এই হজম না হওয়া উচ্ছিষ্টের উপর নির্ভর করে থাকে 98 00:14:45,093 --> 00:14:47,387 যেগুলো বাদুরেরা বাইরে থেকে খেয়ে এসেছিল। 99 00:15:14,825 --> 00:15:17,494 প্রতি সন্ধ্যায়, মাত্র দুই ঘন্টার মধ্যে 100 00:15:17,619 --> 00:15:21,288 এই ত্রিশ লক্ষ বাদুর গুহার নিরাপদ আশ্রয় ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসে 101 00:15:21,413 --> 00:15:24,791 বাইরের জঙ্গল থেকে পোকামাকড় ধরে খাওয়ার জন্য, 102 00:15:27,418 --> 00:15:30,003 কিন্তু এদের সবাই ফিরবে না। 103 00:15:51,979 --> 00:15:53,563 যখন তারা গুহা থেকে বাইরে বের হয়, 104 00:15:53,688 --> 00:15:57,900 এই বাদুরের ঝাক, গোল রিং এর মতো গোল হয়ে উড়তে থাকে 105 00:16:01,111 --> 00:16:05,656 এভাবে চক্রাকারে ঘুরতে থেকে তারা উড়তে থাকা ঈগল পাখিকে ধোকা দিতে চায়, 106 00:16:05,781 --> 00:16:11,535 কিন্তু তাদেরকে এখনো নিজেদের রক্ষা করতে হবে আরো শক্তিশালী শিকারি পাখিদের থেকে। 107 00:16:22,627 --> 00:16:28,549 পেরেগ্রিন বাজ এবং বাদুরে বাজ পাখিরা হচ্ছে পাখি জগতের জেট ফাইটার। 108 00:17:00,490 --> 00:17:03,326 দিনের আলো শেষ হবার সাথে সাথে এদের শিকারও শেষ হয়, 109 00:17:03,451 --> 00:17:07,329 এই বাদুরে বাজ গুলি একটিকে ঠোটে আটকে ধরে 110 00:17:08,621 --> 00:17:10,998 আরো ধরার জন্য আবার হানা দেয়। 111 00:17:13,458 --> 00:17:15,710 কোন বাদুর তাদের দল থেকে আলাদা হয়ে গেলে 112 00:17:15,835 --> 00:17:20,422 সেটা একটা পরিস্কার শিকারে পরিণত হয় এবং নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনে। 113 00:17:31,848 --> 00:17:36,059 তারপরও এর রাতের শিকার এই বাদুরের দলের আকারে তেমন কোন পরিবর্তন আনতে পারে না- 114 00:17:36,184 --> 00:17:41,689 সকাল হতেই, এদের বিশাল এক সংখ্যা আবার গুহার নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাবে। 115 00:17:51,696 --> 00:17:56,283 বোর্নিওর এই গুহাতে বাদুরেরা একাই বাস করে না। 116 00:17:56,408 --> 00:17:58,577 এখনে ডে শিফটের ব্যাবস্থাও আছে, 117 00:18:04,832 --> 00:18:07,167 দিনের আলোতে শিকার করা শেষে তারা ফিরে আসে, 118 00:18:07,250 --> 00:18:09,794 এই বাসিন্দারা জোরে ক্লিক শব্দ করতে থাকে 119 00:18:09,877 --> 00:18:14,381 এবং গুহার এই অন্ধকারে তাদের নিজেদের পথ খুঁজে নেয়, 120 00:18:20,719 --> 00:18:22,929 তারা হচ্ছে গুহার সুইফটলেট পাখি 121 00:18:23,304 --> 00:18:27,224 বাদুরদের মতো তারাও শব্দের মাধ্যমে পথ চলে 122 00:18:27,349 --> 00:18:29,934 চারপাশ দেখার জন্য আমাদের আলোর দরকার 123 00:18:30,018 --> 00:18:36,022 কিন্তু এই নিকষ কালো অন্ধকারেও এই সুইফটলেট পাখিরা নির্ভুল ভাবে তাদের ছোট বাসায় ফিরে আসে, 124 00:18:36,148 --> 00:18:39,025 যেগুলো মাত্র কয়েক সেন্টিমিটার চওড়া। 125 00:18:43,945 --> 00:18:49,783 এটা একটি দারুন দক্ষতা, যা আমরা মানুষেরা এখনো পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারিনি। 126 00:18:53,578 --> 00:18:56,580 এই পাখিগুলো অন্য আরেকটি কারনে বেশ আলাদা। 127 00:18:56,705 --> 00:19:02,418 তাদের এই বাটির মতো দেখতে বাসাগুলো তাদের মুখের লালা দিয়ে তৈরি। 128 00:19:07,589 --> 00:19:11,175 প্রায় ত্রিশ দিন লেগে যায় তাদের এই বাসাটা বানাতে, 129 00:19:12,426 --> 00:19:15,386 এই বাসাগুলো খুব মূল্যবান 130 00:19:15,423 --> 00:19:18,138 শুধুমাত্র এই পাখিদের কাছে, তা নয়, 131 00:19:36,111 --> 00:19:42,282 প্রায় ৫০০ বছর ধরে মানুষেরা এই সুইফটলেট পাখির বাসা খুঁজে আসছে। 132 00:19:55,251 --> 00:19:57,836 এটা একটা ঝুকিপুর্ন কাজ। 133 00:19:57,919 --> 00:20:00,213 কোন প্রকার নিরাপত্তা ব্যাবস্থা ছাড়াই 134 00:20:00,296 --> 00:20:03,340 এবং কেবলমাত্র বুনো লতার মই বেয়ে 135 00:20:03,424 --> 00:20:06,926 এই সংগ্রাহকরা গুহার একদম উপরে উঠে যায়, 136 00:20:07,010 --> 00:20:10,137 মাঝে মাঝে মাটি থেকে প্রায় ৬০ ফুট ওপরে। 137 00:20:19,269 --> 00:20:21,980 তাদের কাজকে ঝুকিপুর্ন এবং কঠিন মনে হতে পারে 138 00:20:22,105 --> 00:20:24,565 কিন্তু পুরস্কারও আছে মেলা। 139 00:20:34,489 --> 00:20:37,241 এই সুইফটলেট পাখির একটি বিশুদ্ধ সাদা বাসা 140 00:20:37,367 --> 00:20:40,828 পাখির বাসা'র স্যুপ এর অন্যতম উপাদান। 141 00:20:40,953 --> 00:20:44,914 এবং এদের একেক গ্রামের মুল্য, রুপোর চেয়েও বেশী। 142 00:20:47,041 --> 00:20:52,003 একটা বাসা ভেঙ্গে ফেললেই, এই পাখিরা আবার আরেকটি বাসা বানাবে। 143 00:20:52,128 --> 00:20:56,340 তাইতো যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের সংগ্রহ নিয়ন্ত্রনে থাকছে, 144 00:20:56,423 --> 00:20:59,342 এই আবাসভুমি চলতে থাকবে। 145 00:21:11,977 --> 00:21:15,396 এই বোর্নিওর গুহাগুলো পৃথিবীর বৃহত্তম গুহাগুলির অন্যতম 146 00:21:15,479 --> 00:21:16,939 এবং তারা এখনো বড় হচ্ছে, 147 00:21:17,022 --> 00:21:22,401 প্রতি বছর বৃষ্টির পানি একটু একটু করে এই চুনাপাথর ক্ষয় করে যাচ্ছে। 148 00:21:33,118 --> 00:21:36,788 কিন্তু গুহার ভেতর পানি যে কেবল ক্ষয় করে, তা নয়, 149 00:21:36,913 --> 00:21:39,081 এটা তৈরিও করে। 150 00:21:46,087 --> 00:21:49,881 এই পানিগুলোতে চুনাপাথর মিশে আছে, 151 00:21:50,006 --> 00:21:52,258 এবং এটা যখন গুহার বাতাশের সংস্পর্শে আসে, 152 00:21:52,383 --> 00:21:55,552 কিছু চুনাপাথর জমে যায়। 153 00:21:55,761 --> 00:21:57,095 ক্যালসাইট 154 00:21:59,472 --> 00:22:00,681 এটা আস্তে আস্তে জমতে থাকে 155 00:22:00,765 --> 00:22:05,018 এই ক্যালসাইট জমতে জমতে ছাদ থেকে ঝুলে নকশায় পরিণত হয়, - 156 00:22:05,101 --> 00:22:06,769 স্ট্যালাকটাইট। 157 00:22:14,609 --> 00:22:18,987 প্রতিটি ফোটা খুব সামান্য পরিমান ক্যালসাইট ছেড়ে আসে, 158 00:22:19,112 --> 00:22:24,199 কিন্তু ধীরে ধীরে এই সামান্য ক্যালসাইট এরকম অতুলনীয় নকশায় পরিণত হয়, 159 00:22:55,182 --> 00:22:58,017 ছাদের থেকে পানি নীচে পড়লে 160 00:22:58,101 --> 00:23:01,562 গুহার তলাতেও ক্যালসাইট জমতে থাকে 161 00:23:01,687 --> 00:23:04,689 এবং তৈরি করা স্ট্যালাগমাইট 162 00:23:14,280 --> 00:23:17,574 পানির প্রবাহ এবং বায়ু প্রবাহের তারতম্যের কারনে 163 00:23:17,657 --> 00:23:23,704 বিভিন্ন ডিজাইনের নকশা তৈরি হয়, কিন্তু সবগুলিই একই পদ্ধতিতে তৈরি - 164 00:23:24,037 --> 00:23:28,082 চুনাপাথর খুব ধীরে ধীরে জমে গিয়ে। 165 00:23:31,543 --> 00:23:34,546 এবং যখন স্ট্যালাকটাইট স্ট্যালাগমাইটের সাথে মিলে যায়, 166 00:23:34,671 --> 00:23:36,964 একটি থাম তৈরি হয়। 167 00:24:01,108 --> 00:24:05,111 উত্তর আমেরিকার এই চার্লসবাড গুহায় 168 00:24:05,194 --> 00:24:08,530 এধরনের কাঠামো গড়ে উঠতে হাজার হাজার বছর লেগে যায়, 169 00:24:08,655 --> 00:24:13,909 কিন্তু মাঝে মাঝে এই গুহাগুলোর তৈরি একেবারে থেমে যায়, 170 00:24:42,390 --> 00:24:49,562 মেক্সিকোর এই পানিতে নিমজ্জিত গুহাগুলি হাজার হাজার বছর ধরে একই রকম রয়ে গেছে, 171 00:24:49,645 --> 00:24:54,399 শেষ বরফযুগের পর থেকেই এই গুহাগুলো বাইরের পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। 172 00:24:54,524 --> 00:24:59,361 তারপরও বাইরের পৃথিবীতে এদের ভুমিকা অনেক। 173 00:25:04,824 --> 00:25:10,745 ৫০০ বছর আগে, তারা এক বিরাট সভ্যতাকে গড়ে তুলেছিল। 174 00:25:10,870 --> 00:25:12,038 মায়া সভ্যতা। 175 00:25:17,417 --> 00:25:22,963 মেক্সিকোর ইয়াকাটান উপদ্বীপে কোন নদী, খাল বা ঝর্না নেই 176 00:25:23,046 --> 00:25:29,968 তাই মায়ান রা এই পানিতে পুর্ন গুহামুখ বা কেনোটি গুলোর উপর নির্ভর করতো। 177 00:25:33,054 --> 00:25:39,184 এই নিমজ্জিত গুহামুখ গুলোই এই অঞ্চলের মানুষের একমাত্র স্বাদু পানির উৎস। 178 00:25:41,394 --> 00:25:47,107 এই কেনোটিগুলো আসলে একেকটি বিশাল পানির কুয়ো। 179 00:26:12,293 --> 00:26:15,379 সূর্যালোকের মতো প্রানদায়ী শক্তি থেকে অনেক দুরে 180 00:26:15,629 --> 00:26:19,090 এখানে কেউ গাছের আশা করবে না। 181 00:26:27,805 --> 00:26:30,390 কিন্তু গুহার অন্ধকার গহীনে, 182 00:26:30,474 --> 00:26:35,978 উপরের জঙ্গলের প্রকান্ড গাছের শেকড় নিচের চুনাপাথরকে ভেদ করে, 183 00:26:36,061 --> 00:26:38,355 নিমজ্জিত গুহায় পৌঁছে গেছে, 184 00:26:40,106 --> 00:26:41,440 এই পানি ছাড়া, 185 00:26:41,566 --> 00:26:45,902 ইয়াকাটান জঙ্গলের এই গাছগুলো এতো বড় হয়ে উঠতে পারতো না। 186 00:27:06,085 --> 00:27:10,046 মায়ানরা জানতো তাদের জীবন এই পানির উপর নির্ভরশীল 187 00:27:10,129 --> 00:27:13,090 কিন্তু শুধুমাত্র বর্তমান প্রযুক্তির সহায়তায়, 188 00:27:13,173 --> 00:27:20,179 আমরা এখন এই বিশাল জলে নিমজ্জিত পথের গুরুত্ব অনুধাবন করতে সক্ষম হয়েছি। 189 00:27:23,723 --> 00:27:31,104 এখন পর্যন্ত, ইয়াকাটান অঞ্চলের তলদেশে ৩৫০ মাইলের বেশী পথের মানচিত্র করা হয়েছে। 190 00:27:31,229 --> 00:27:38,026 কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ এই মাটির তলদেশের পানির রাজত্বের সঠিক বিস্তার আন্দাজ করতে পারবে না 191 00:27:38,235 --> 00:27:40,486 এবং এর যথাযথ কারনও আছে। 192 00:27:42,905 --> 00:27:47,242 পানিতে নিমজ্জিত গুহাগুলি অনেক বিপদজনক 193 00:27:47,325 --> 00:27:51,036 যখন সবচে কাছের খোলা মুখটিও একশো মিটার বা তার চেয়ে দূরে, 194 00:27:51,120 --> 00:27:54,872 বাতাস ফুরিয়ে গেলে প্রাণ যেতে পারে। 195 00:27:58,459 --> 00:28:00,043 হারিয়ে যাওয়া থেকে বাঁচতে 196 00:28:00,126 --> 00:28:02,962 ডুবুরীরা তাদের পথে সুতো পেচিয়ে যায়, 197 00:28:03,045 --> 00:28:04,964 এটা পরিণত হয় তাদের জীবনসুতোয়, 198 00:28:05,047 --> 00:28:06,089 আক্ষরিক অর্থেই। 199 00:28:20,184 --> 00:28:23,436 এই সুতা অবশ্য মাপার কাজেও লাগে - 200 00:28:23,520 --> 00:28:26,439 মেক্সিকোতে এই কৌশল ব্যাবহার করেই, 201 00:28:26,522 --> 00:28:30,066 পৃথিবীর সবচে বড় এই পানির নিচের গুহাকে মাপা হচ্ছে - 202 00:28:30,150 --> 00:28:32,860 এখন পর্যন্ত ১০০ মাইল। 203 00:28:41,117 --> 00:28:47,246 গুহা অনুসন্ধানকারীদের মাঝে মাঝে পাথরের মাঝে ছোট ফাঁকা দিয়ে ঠেলে বেরোতে হয়। 204 00:28:47,497 --> 00:28:51,291 গুহা অভিযাত্রীরা এগুলোকে সরু জায়গা বলে। 205 00:29:00,465 --> 00:29:02,008 সরু জায়গা যত বেশী সরু হবে, 206 00:29:02,133 --> 00:29:07,345 জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জামের ক্ষতির সম্ভাবনাও তত বেশী। 207 00:29:33,741 --> 00:29:38,870 এই ধরনের পরিস্থিতিতে ডুবুরীরা অনেক সময় তালগোল পাকিয়ে ফেলে 208 00:29:38,995 --> 00:29:41,080 এবং এটা প্রাণঘাতী হতে পারে। 209 00:29:55,299 --> 00:30:00,386 এই নিমজ্জিত গুহাগুলি অন্যভাবে বিপদে ফেলতে পারে। 210 00:30:08,518 --> 00:30:10,144 দেখে বাতাস মনে হলেও, 211 00:30:10,269 --> 00:30:11,478 এটা বাতাস না। 212 00:30:12,271 --> 00:30:15,315 এটা শুধু অন্য ধরনের পানি। 213 00:30:22,987 --> 00:30:25,072 এটা হচ্ছে হেলোক্লাইন - 214 00:30:25,156 --> 00:30:28,575 নোনা পানি এবং স্বাদু পানির স্তর। 215 00:30:31,244 --> 00:30:37,332 জঙ্গল থেকে আসা স্বাদু পানি সাগর থেকে আসা নোনা পানির উপর দিয়ে বয়ে চলছে, 216 00:30:38,374 --> 00:30:41,960 এই নোনা পানির স্তরটিতে একেবারেই অক্সিজেন নেই। 217 00:30:42,044 --> 00:30:46,130 যার কারনে এখনে প্রাণীদের বাস করা অত্যান্ত কঠিন, 218 00:30:46,422 --> 00:30:48,465 তারপরও কিছু প্রাণী ব্যাবস্থা করে নিয়েছে। 219 00:30:48,632 --> 00:30:53,845 এই রেমিপেডটির মতো, এটা পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন প্রাণী 220 00:31:02,434 --> 00:31:06,354 মায়ানরা এই কেনোটিগুলোর গুরুত্ব বুঝতে পেরেছিল, 221 00:31:06,479 --> 00:31:09,940 কিন্তু তারা এটা বুঝতে পারেনি আসলে এই নিমজ্জিত গুহামুখ গুলি 222 00:31:10,065 --> 00:31:13,818 আসলে মাটির তলদেশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী, 223 00:31:14,152 --> 00:31:17,655 যার সবগুলিই সাগরে গিয়ে মিশেছে। 224 00:31:27,537 --> 00:31:32,041 নোনা পানি, স্বাদু পানির মতো চুনাপাথরকে ক্ষয় করে না, 225 00:31:32,166 --> 00:31:38,129 তাই বেশিরভাগ সাগরের গুহাগুলি তৈরি হয়েছে ঢেউয়ের প্রচন্ড চাপে, 226 00:31:44,676 --> 00:31:50,889 নিউজিল্যান্ডের পুয়র নাইট দ্বীপের এই পাথুরে অঞ্চলটি আসলে সাগর তলের গুহায় পরিপুর্ন। 227 00:31:50,972 --> 00:31:52,849 এবং ঠিক বোর্নিওর গুহাগুলির মতো, 228 00:31:52,932 --> 00:31:56,601 এগুলোও কয়েক প্রজাতির প্রাণীর আশ্রয়স্থল। 229 00:32:01,272 --> 00:32:03,982 সারাদিন খোলা সাগরে খাওয়াদাওয়ার পর 230 00:32:04,066 --> 00:32:08,277 এই মাছের বিশাল ঝাকটি গুহাতে ফিরছে। 231 00:32:08,361 --> 00:32:11,655 যেখানে তারা শিকারি মাছেদের হাত থেকে নিরাপদে থাকবে। 232 00:32:14,240 --> 00:32:18,118 এই মাছেদের জন্য এই গুহাটি রাত্রিকালিন আবাস। 233 00:32:18,243 --> 00:32:21,204 কিন্তু তারা এখানকার একমাত্র বাসিন্দা নয়। 234 00:32:21,287 --> 00:32:25,040 এখানে অন্য মাছেরাও তাদের সময় ভাগ করে নিয়েছে। 235 00:32:32,463 --> 00:32:35,882 এই বড় চোখের মাছ গুলো বাদুরের মতোই। 236 00:32:36,007 --> 00:32:39,260 তারা সন্ধ্যে বেলা খাওয়ার উদ্দেশ্যে গুহা থেকে বের হয় 237 00:32:43,638 --> 00:32:46,223 এবং অন্য সব গুহাবাসীর মতোই 238 00:32:46,307 --> 00:32:50,643 বের হবার সময়টাই তারা সবচে বেশী বিপদে থাকে। 239 00:33:01,902 --> 00:33:08,032 গুহার এই সরু মুখ দিয়ে বের হবার সময় বাদুরেরা গাদাগাদি করে বের হয়। 240 00:33:08,115 --> 00:33:10,617 যেটা অন্যদের আকৃষ্ট করে। 241 00:33:38,472 --> 00:33:42,767 বাদুরেরা শব্দতরঙ্গের মাধ্যমে সাপটিকে টের পায়, 242 00:33:43,017 --> 00:33:45,686 কিন্তু সাপটি কিন্তু আপাতত অন্ধকারে আছে। 243 00:33:45,769 --> 00:33:47,646 তারা কিছুই দেখতে পাচ্ছে না। 244 00:34:01,365 --> 00:34:05,118 তাদের আঘাতগুলো বেশিরভাগই ফসকে যায়। 245 00:34:07,036 --> 00:34:10,247 কিন্তু এই সাপেদের আছে এক গোপন অস্ত্র। 246 00:34:10,622 --> 00:34:14,250 তারা আসলে প্রতিটি উড়ন্ত বাদুরকে দেখতে পায়। 247 00:34:14,375 --> 00:34:19,963 সাপের মাথা থাকা এক বিশেষ গ্রন্থির মাধ্যমে তারা বাদুরগুলির গায়ের তাপমাত্রা টের পায়, 248 00:34:20,213 --> 00:34:22,715 এই তাপ বিকিরিত চিত্রে যেরকম দেখা যাচ্ছে, 249 00:34:29,387 --> 00:34:33,181 সাপেদের কাছেও সেরকমই প্রতিটি বাদুর জ্বলজ্বল করছে 250 00:34:33,265 --> 00:34:36,225 এবং সে তাক করার মতো কিছু খুঁজে পায়। 251 00:34:58,659 --> 00:35:02,746 এতটুকু মুল্য এই গুহাবাসীদের দিতেই হয়। 252 00:35:02,871 --> 00:35:06,082 দিনের বেলার এই নিরাপদ আস্রয়ের জন্য, 253 00:35:06,290 --> 00:35:11,669 অন্যান্য গুহা গুলোতেও ছোট ছোট বিস্ময় বাস করে। 254 00:35:19,259 --> 00:35:21,719 অনেক গুহা ছোট ছোট দ্বীপের মতো। 255 00:35:21,802 --> 00:35:26,264 বাইরের পৃথিবী এবং অন্য গুহা থেকে বিচ্ছিন্ন। 256 00:35:34,229 --> 00:35:41,234 এই বিচ্ছিন্নভাবে থাকার কারনেই এখানে বিবর্তিত হয়েছে কিছু অদ্ভুত প্রাণী। 257 00:35:43,069 --> 00:35:45,863 তারা হচ্ছে গুহার বিশেষত্ব। 258 00:35:45,946 --> 00:35:51,951 ট্রোগলোডাইট, এক ধরনের প্রাণী যারা গুহা থেকে বের হয়না এবং দিনের আলোও দেখেনা। 259 00:36:04,877 --> 00:36:07,588 থাইল্যান্ডের এই ট্রোগলোডাইটগুলো 260 00:36:07,671 --> 00:36:11,466 সম্ভবত পৃথিবীর সবচে বিশেষ প্রাণী 261 00:36:11,591 --> 00:36:15,219 কারন এরা শুধুমাত্র এই গুহার ঝর্নাগুলিতেই বাস করে। 262 00:36:16,053 --> 00:36:19,472 পৃথিবীতে যতগুলো এই গুহার এঞ্জেল মাছ আছে 263 00:36:19,597 --> 00:36:23,975 তার সবই মাত্র দুটো গুহাতেই দেখা যায়। 264 00:36:27,937 --> 00:36:30,606 অন্য ট্রোগলোডাইটের ক্ষেত্রেও ব্যপারটি একই রকমের। 265 00:36:30,689 --> 00:36:36,193 পৃথিবীতে খুব বেশী হলে শখানেক টেক্সাসের গুহাবাসী সালমান্ডার আছে 266 00:36:52,873 --> 00:36:56,876 এবং বেলিজের এই সাদা কাঁকড়াটি আরেকটি প্রাণী। 267 00:36:57,001 --> 00:37:00,629 এর শুধুমাত্র একটি গুহাতেই বাস করে। 268 00:37:05,508 --> 00:37:07,634 নিকষ কালো অন্ধকারে থাকতে থাকতে 269 00:37:07,759 --> 00:37:10,887 তারা যে কেবল গায়ের রঙ হারিয়ে ফেলেছে তা নয়। 270 00:37:11,054 --> 00:37:13,013 তারা তাদের চোখও হারিয়ে ফেলেছে। 271 00:37:15,098 --> 00:37:18,935 হাজার হাজার বছর ধরে বংশপরম্পরা লেগেছে এই চোখ হারাতে 272 00:37:19,018 --> 00:37:24,147 তাই, এই প্রজাতিগুলো এখানে আছে অনেক সময় ধরে। 273 00:37:29,026 --> 00:37:34,614 কিন্তু এই অন্ধ সালমান্ডারের আছে অন্য অনুভূতি 274 00:37:37,199 --> 00:37:43,412 তাদের চামড়ায় থাকা গ্রন্থির মাধ্যমে তারা পানির মধ্যে তাদের শিকারের সামান্য নড়াচড়াও টের পায়। 275 00:37:49,875 --> 00:37:55,838 তাদের ফুলকা গুলি বাইরে থেকে এই পানির অল্প অক্সিজেনেও শ্বাস নিতে সাহায্য করে। 276 00:38:07,597 --> 00:38:12,726 এই গুহার এঞ্জেল মাছগুলো স্রোতের পানিতে থাকা ব্যাকটেরিয়া খেয়ে বেঁচে থাকে 277 00:38:12,810 --> 00:38:17,313 তাদের পাখায় থাকা অতি ক্ষুদ্র আংটা দিয়ে তারা পাথরে আটকে থাকে। 278 00:38:27,947 --> 00:38:30,490 এখানে খাবার একদম কম। 279 00:38:30,657 --> 00:38:32,992 এবং এক কাঁকড়ার মতো ট্রোগলোডাইটরা 280 00:38:33,117 --> 00:38:37,204 বাইরের পানি থেকে যা কিছুই ভেসে আসুক তা ই খেয়ে নিয়ে জীবন ধারন করে। 281 00:38:41,666 --> 00:38:45,502 এই সালামান্ডারটির হয়তো কয়েক মাস না খেয়ে থাকতে হতে পারে। 282 00:38:45,627 --> 00:38:47,587 তাই যখন নাগালের মধ্যে কিছু চলে আসে। 283 00:38:47,754 --> 00:38:49,755 এটা ছেড়ে দেয় না। 284 00:38:56,802 --> 00:39:03,224 এটা খুবই অভাবনীয় যে এইসব অদ্ভুত গুহাবাসীরা এখন পর্যন্ত টিকে আছে। 285 00:39:03,683 --> 00:39:06,226 কিন্তু একটা গুহা এতোটাই রুক্ষ 286 00:39:06,351 --> 00:39:10,271 যে এখানে জীবন খুঁজে পাওয়ার কথা কেউ চিন্তাও করবে না। 287 00:39:16,276 --> 00:39:20,404 মেক্সিকোর এই ভিলা লু্য গুহা দিয়ে পানি বের হচ্ছে, 288 00:39:20,529 --> 00:39:24,615 এটা আসলে সালফিউরিক এসিডের কারনে সাদা হয়ে আছে, 289 00:39:39,585 --> 00:39:42,504 এই গুহাতে যেসব অভিযাত্রী প্রবেশ করে 290 00:39:42,629 --> 00:39:46,424 তাদের শ্বাসপ্রশ্বাসের যন্ত্র এবং মনিটর নিয়ে প্রবেশ করতে হয়। 291 00:39:46,507 --> 00:39:49,968 বিষাক্ত গ্যাস হঠাত করে প্রাণঘাতী মাত্রায় উঠে যেতে পারে 292 00:39:50,094 --> 00:39:53,138 এজন্য একটি আগাম সতর্ক ব্যাবস্থা সাথে রাখতে হয়। 293 00:39:57,975 --> 00:40:01,769 বাদুরেরা উপরের ফাকগুলোতে চলাচল করে। 294 00:40:01,894 --> 00:40:06,731 কিন্তু গুহার ভেতরে যেতে থাকলে বিপদের মাত্রাও বাড়তে থাকে। 295 00:40:16,239 --> 00:40:21,952 এই বিষাক্ত গ্যাসের উৎপত্তি কয়েক মাইল নীচে। 296 00:40:22,160 --> 00:40:27,498 ভু অভ্যান্তরে তেলের স্তরের উপর ভেসে থাকা সালফাইড গ্যাস বুদবুদ আকারে উপরে উঠে আসছে, 297 00:40:27,623 --> 00:40:30,041 এটি পানি এবং অক্সিজেনের সাথে মিসে, 298 00:40:30,166 --> 00:40:32,835 সালফিউরিক এসিডে পরিণত হয়। 299 00:40:44,177 --> 00:40:48,597 এটা এমন একটা স্থান না যেখানে মাছ পাওয়া যেতে পারে। 300 00:40:48,722 --> 00:40:51,766 তারপরও এক গুহার মলি মাছগুলো বিকশিত হয়েছে। 301 00:40:51,891 --> 00:40:55,353 এই পানিতে থাকা এসিড এবং খুব কম অক্সিজেনের পরেও 302 00:40:57,980 --> 00:41:02,066 এখানে এতো প্রাণ আছে যে কেউ কল্পনাও করতে পারবে না। 303 00:41:02,191 --> 00:41:07,362 কিন্তু সবচে বড় চমকটা আসলে সবচে বেশী অদ্ভুত 304 00:41:17,620 --> 00:41:26,293 এই অদ্ভুত স্ট্যালাকটাইটের মতো দেখতে জিনিসগুলো আসলে স্নোটাইট 305 00:41:26,418 --> 00:41:30,838 যে তরলগুলো ফোটায় ফোটায় ঝড়ে পরছে, এগুলো সালফিউরিক এসিড। 306 00:41:30,963 --> 00:41:33,465 চামড়া পুড়ে যাওয়ার মতো শক্তিশালী 307 00:41:37,052 --> 00:41:41,305 এই স্নোটাইটগুলি আসলে ব্যাকটেরিয়ার আবাসস্থল। 308 00:41:41,430 --> 00:41:44,891 এরা দিনে এক সেন্টিমিটার পর্যন্ত বেড়ে উঠতে পারে। 309 00:41:49,311 --> 00:41:51,354 সূর্যের আলো ছাড়া এই জগতে 310 00:41:51,479 --> 00:41:56,733 এই ব্যাকটেরিয়া গুলি সালফাইড গ্যাস থেকে শক্তি সঞ্চয় করে 311 00:42:01,320 --> 00:42:05,365 এই ধরনের ব্যাকটেরিয়াকে এক্সট্রিমোফাইল বলে। 312 00:42:05,490 --> 00:42:10,202 কারন তাদের আছে সবচে চরম স্থানে বসবাস করার ক্ষমতা 313 00:42:12,662 --> 00:42:17,666 এবং এই এক্সট্রিমোফাইলেরা এই গুহাতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে 314 00:42:17,791 --> 00:42:21,419 অবাক হলেও, এই ব্যাকটেরিয়াগুলোই এখানে খাদ্য শৃঙ্খলের ভিত্তি। 315 00:42:21,503 --> 00:42:26,298 যার উপর নির্ভর করে এখানকার অন্য সকল প্রাণী, যেমন এই ছোট মশার কীট। 316 00:42:36,097 --> 00:42:39,808 ভিলা লুয এর বাস্তুতন্ত্র আসলেই অনেক স্বতন্ত্র। 317 00:42:39,975 --> 00:42:45,521 কিন্তু গুহার অভিযাত্রীরা কিছুক্ষণের মধ্যেই এক চমকপ্রদ আবিস্কার করতে যাচ্ছে, 318 00:42:58,239 --> 00:43:03,660 এই এবড়ো থেবড়ো মাটির নিচেই আছে একটি ভূগর্ভস্থ বিস্ময়। 319 00:43:09,665 --> 00:43:13,376 পানি ছাড়া এখানে কেউ হয়তো গুহা থাকার কথা ভাববে না। 320 00:43:13,501 --> 00:43:17,880 কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের এই মরুভুমির তলদেশে 321 00:43:18,005 --> 00:43:24,969 অবস্থান করছে, পৃথিবীর সবচে গভীর, লম্বা এবং বিস্ময়কর গুহা 322 00:43:28,930 --> 00:43:33,183 এর কথা ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত মানুষের অজানা ছিল। 323 00:43:33,308 --> 00:43:36,853 যখন গুহাবাসীরা কয়েক মিটার মাটি খুঁড়ে 324 00:43:36,936 --> 00:43:39,021 এই গুহামুখটি বের করেছিল। 325 00:43:42,482 --> 00:43:45,401 তারা এর নাম দিয়েছে "লেচুগুইয়া" 326 00:43:45,568 --> 00:43:52,865 আবিস্কারের পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১২০ মাইলের বেশী পথের মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে। 327 00:43:58,036 --> 00:44:00,204 যখন প্রথম অভিযাত্রী এর ভেতরে নামে। 328 00:44:00,329 --> 00:44:03,790 কেউ এটার আকার কল্পনাও করতে পারেনি। 329 00:44:03,915 --> 00:44:08,002 কিন্তু আকারও এর সবচে বড় চমক না। 330 00:44:08,169 --> 00:44:10,546 তারা সামান্যই বুঝতে পেরেছিল যে, 331 00:44:10,671 --> 00:44:13,673 এই লেচুগুইয়াই সমগ্র গুহা অভিযাত্রীদের কাছে পরিচিত হতে যাচ্ছে, 332 00:44:13,798 --> 00:44:17,426 পৃথিবীর সবচে সুন্দর গুহা হিসেবে। 333 00:44:17,718 --> 00:44:19,094 তারা আবিস্কার করতে যাচ্ছে, 334 00:44:19,219 --> 00:44:24,515 মাটির তলদেশে থাকা সবচে সুন্দর রুপ। 335 00:44:38,817 --> 00:44:44,363 এর দেয়ালগুলো ভঙ্গুর কিন্তু সুন্দর স্ফটিক দিয়ে আচ্ছাদিত 336 00:44:59,584 --> 00:45:02,919 বেশির ভাগ স্ফটিকগুলো জিপসামের, 337 00:45:03,045 --> 00:45:05,672 এক ধরনের চুনাপাথরের খনিজ। 338 00:45:05,963 --> 00:45:09,258 এবং এগুলো মাইলের পর মাইল ছড়িয়ে আছে। 339 00:45:26,688 --> 00:45:30,107 পানিই বেশীরভাগ গুহা তৈরি করেছে। 340 00:45:30,191 --> 00:45:32,984 কিন্তু অন্যান্য গুহাগুলির মতো 341 00:45:33,110 --> 00:45:38,405 লেচুগুইয়ার পাথরগুলো বৃষ্টির পানিতে ক্ষয়ে যায়নি। 342 00:45:39,823 --> 00:45:42,283 অন্যকিছু এই কাজটি করেছে। 343 00:45:50,706 --> 00:45:57,629 লেচুগুইয়াতে থাকা অবশিষ্ট পানিগুলো হচ্ছে এই শান্ত শীতল পুকুরগুলো। 344 00:46:02,466 --> 00:46:05,176 গুহার যত গভীরে যাওয়া যায়, 345 00:46:05,301 --> 00:46:10,222 ততোই এরকম অসংখ্য সুন্দর স্থাপত্যশৈলীর সমাহার চোখে পরে। 346 00:46:10,347 --> 00:46:15,893 খুব ভঙ্গুর স্ফটিক দিয়ে তৈরি এই পাঁচ মিটার উঁচু চোঙ্গাটির মতো 347 00:46:45,749 --> 00:46:48,585 এই লেচুগুইয়ার জিপসামের স্ফটিকগুলো দেখেই 348 00:46:48,710 --> 00:46:53,005 বিজ্ঞানীদের মনে এই প্রস্ন জেগেছে যে, কিভাবে এই গুহাটির সৃষ্টি হয়েছে। 349 00:46:55,340 --> 00:47:02,554 তারা শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, লেচুগুইয়ার এই চুনাপাথরগুলো সালফিউরিক এসিডে ক্ষয়ে গেছে, 350 00:47:02,679 --> 00:47:06,432 মাইলের পর মাইল চুনাপাথরে কেটে চলে গেছে। 351 00:47:24,029 --> 00:47:27,198 এবং যখন এই চুনাপাথর সালফিউরিক এসিডে মিশে গেছে, 352 00:47:27,323 --> 00:47:29,575 এই জিপসামের স্ফটিকগুলো রেখে গেছে 353 00:47:29,700 --> 00:47:33,495 যা তৈরি করেছে লেচুগুইয়ার এই অসাধারন স্থাপত্য। 354 00:47:33,620 --> 00:47:35,121 এবং এখানে 355 00:47:35,246 --> 00:47:37,664 মাটি থেকে প্রায় এক মাইল গভীরে 356 00:47:37,748 --> 00:47:40,375 নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে কস্ট হয়, 357 00:47:57,346 --> 00:48:01,808 এই ঝাড়বাতির বিশাল ঘরটি হচ্ছে, চূড়ান্ত আবিস্কার 358 00:48:01,933 --> 00:48:04,393 এর প্রায় ছয় মিটার লম্বা স্ফটিকের কারনে, 359 00:48:04,519 --> 00:48:10,273 এটি পৃথিবীর সবচে অদ্ভুত গুহা 360 00:48:51,680 --> 00:48:56,642 এবং এর দেয়ালেও চমক অপেক্ষা করছে। 361 00:48:58,227 --> 00:49:04,482 এক্সট্রিমোফাইল ব্যাকটেরিয়াগুলো দেয়ালের পাথর খেয়ে বেঁচে আছে, 362 00:49:10,403 --> 00:49:15,991 এবং এটাই প্রমান করে একেবারে সূর্য থেকে কোন শক্তি না নিয়েও প্রানের অস্তিত্ব থাকতে পারে 363 00:49:16,116 --> 00:49:22,913 এবং আমাদের দেখিয়ে দেয়, মাটির নিচের গুহার জীবন প্রনালী কতো জটিল হতে পারে 364 00:49:26,624 --> 00:49:32,712 প্রতি বছর অভিযাত্রীরা প্রায় একশ মাইল নতুন গুহা পথের হদিস বের করে। 365 00:49:34,588 --> 00:49:38,675 কিন্তু এখনো পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক চুনাপাথর উদঘাটিত হয়নি, 366 00:49:38,800 --> 00:49:44,805 কে জানে আরো কতোগুলো লেচুগুইয়া আমাদের অপেক্ষায় আছে। 367 00:49:49,800 --> 00:50:00,805 বাংলা সাব সজীব