1 00:00:37,305 --> 00:00:38,262 গাছ। 2 00:00:38,551 --> 00:00:44,055 নিশ্চিতভাবে সমগ্র জীবিত সত্তার ভিতরে চমকপ্রদ একটা জীব। 3 00:00:45,986 --> 00:00:49,210 পৃথিবীর সর্ববৃহৎ কিছু প্রাণী বা উদ্ভিদ আছে... 4 00:00:49,287 --> 00:00:55,217 যারা বাকিদের তুলনায় অনেক লম্বা, আর এগুলো তাদের ভিতরে সবচেয়ে লম্বা। 5 00:01:07,975 --> 00:01:13,495 আমাদের গ্রহের মৌসুমি অংশে জন্মানো ঝরা পাতার গাছ আর পাইন বৃক্ষের বনভূমি... 6 00:01:13,663 --> 00:01:17,236 পৃথিবীর সবচেয়ে বিস্তৃত বনভূমি। 7 00:01:25,736 --> 00:01:29,811 এগুলোর উচ্চতা কল্পনাকে হার মানায়। 8 00:01:42,433 --> 00:01:45,125 {\an8}উত্তরমেরুর মরুময় তুষার... 9 00:01:45,216 --> 00:01:50,082 {\an8}উত্তরমেরু থেকে ১,০০০ মাইল পাড়ি দিয়ে দক্ষিণের দিকে অগ্রসর হয়েছে। 10 00:01:53,168 --> 00:01:56,955 এখান থেকেই গাছ জন্মানো শুরু হয়। 11 00:01:59,798 --> 00:02:02,520 প্রথম দিকে, পাইন বৃক্ষের সংখ্যা খুবই কম থাকে, 12 00:02:02,824 --> 00:02:06,003 কিন্তু একটু পরেই এগুলো পুরো বনভূমি ছেয়ে নেয়। 13 00:02:14,365 --> 00:02:17,863 এটা তৈগা অরণ্য। 14 00:02:19,641 --> 00:02:25,678 সারাবিশ্বের বৃষ্টিপ্রধান অঞ্চলের জঙ্গলে যত গাছ আছে এখানে এই তৈগা অরণ্যে সেই পরিমাণ গাছ আছে। 15 00:02:26,470 --> 00:02:32,263 তৈগা অরণ্য বৃত্তাকারে সমগ্র ভূমণ্ডল ঘুরে এসেছে। আর শুধু এই বনেই পৃথিবীর তিনভাগের একভাগ গাছ আছে। 16 00:02:32,627 --> 00:02:39,897 এটা এত পরিমাণ অক্সিজেন সরবরাহ করে যে সেই অক্সিজেন গ্রহের পুরো বায়ুমণ্ডলকে পরিশুদ্ধ করে দেয়। 17 00:02:44,063 --> 00:02:46,496 তৈগা অরণ্যের সর্ব-উত্তরে, 18 00:02:46,648 --> 00:02:51,407 গাছ বেড়ে উঠার মৌসুম বছরে মাত্র এক মাস স্থায়ী হয়। 19 00:02:51,969 --> 00:02:56,973 একটা গাছ চারা থেকে বড় হতে ৫০ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। 20 00:03:10,628 --> 00:03:12,620 এটা একটা নীরব জগৎ যেখানে... 21 00:03:13,000 --> 00:03:15,190 একটুখানি থমথমে অবস্থা বিরাজমান। 22 00:03:16,938 --> 00:03:23,037 কিন্তু এখানে মাঝেমাঝে প্রাণের অস্তিত্ব, প্রাণীদের চলাচলের চিত্র তুষারের উপর ফুটে উঠতে দেখা যায়। 23 00:03:24,466 --> 00:03:30,062 উত্তরমেরুর শ্রেতশৃগালের পায়ের ছাপ দেখা যাচ্ছে আর শিয়ালটা হয়তো খরগোশ খুঁজছিল। 24 00:03:35,551 --> 00:03:39,626 একটা মহিলা মেরুভাল্লুক আর তার দুই শাবকের পায়ের ছাপ। 25 00:03:49,921 --> 00:03:55,183 কিছু প্রাণীকে এক নজর দেখা ঠিক যেন আত্মা দেখার মতোই দুঃসাধ্য। 26 00:03:55,488 --> 00:04:01,433 এই বনে কেউ সারাজীবন কাটানোর পরেও একটা বনবিড়ালের দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। 27 00:04:04,672 --> 00:04:08,640 বিড়ালকে শতশত মাইল পায়চারি করতে হবে শিকারের সন্ধানে। 28 00:04:08,929 --> 00:04:12,792 আর হয়তো বনের সেই অংশে এটা দুইবার কখনো আসবে না। 29 00:04:14,572 --> 00:04:18,054 এটাই জনহীন প্রান্তরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুনাবলী। 30 00:04:22,707 --> 00:04:29,413 নিরীহ প্রাণী কম থাকায়, শিকারী প্রাণীদের জীবন এখানে খুবই কঠিন। 31 00:04:31,770 --> 00:04:36,225 এখানে পশুপাখি খুবই কম কারণ অল্পকিছু প্রাণীই কেবল পাইন বৃক্ষের কাটা খেতে পারে। 32 00:04:37,092 --> 00:04:39,449 কিন্তু চমরি গাই পাইন বৃক্ষের কাটা খেতে পারে। 33 00:04:44,650 --> 00:04:46,611 বেড়ে উঠা এতটাই কঠিন যে... 34 00:04:46,718 --> 00:04:51,097 পাইন বৃক্ষ তাদের পাতাকে রক্ষা করার জন্য রজন (আঠা) দিয়ে পাতাগুলোকে পরিপূর্ণ করে রাখে। 35 00:04:51,234 --> 00:04:56,496 যার কারণে পানি-ক্ষরণ কমে যায়, কিন্তু তখন এটা খেতে খুবই খারাপ লাগে। 36 00:05:07,476 --> 00:05:11,141 কমপক্ষে পাইন বৃক্ষের দানা খাওয়ার উপযুক্ত। 37 00:05:11,384 --> 00:05:14,639 কিন্তু ওগুলো শক্ত আচ্ছাদনের ভিতরে সুরক্ষিত থাকে, 38 00:05:14,942 --> 00:05:18,334 আর কেবল নির্দিষ্ট এক জাতের পাখিই দানা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। 39 00:05:20,705 --> 00:05:22,850 ক্রসবিল পাখির অসাধারণ ঠোঁট... 40 00:05:23,048 --> 00:05:28,720 শক্ত আচ্ছাদনকে ফাঁকা করতে পারে, যাতে এটার জিহবা দানা বের করে আনতে পারে। 41 00:05:32,248 --> 00:05:33,814 পাখিরা ভাগ্যবান। 42 00:05:34,073 --> 00:05:38,088 যখন মৌসুমি শস্য জড়ো হয়, ওরা দক্ষিণে উড়ে যেতে পারে। 43 00:05:42,649 --> 00:05:47,668 কিন্তু একটা প্রাণী এই জঙ্গলে টিকে থাকতে এতটাই এক্সপার্ট যে... 44 00:05:47,911 --> 00:05:52,381 ওই প্রাণীটা এখানে এই জঙ্গলেই সক্রিয়ভাবে সারাবছর বসবাস করে। 45 00:05:54,921 --> 00:05:59,681 স্থানীয় লোককথায়, উলভেরিন হলো আধ্যাত্মিক জগতের সেতুবন্ধন, 46 00:05:59,849 --> 00:06:02,646 আর ভাল্লুক ও নেকড়ের ভিতরকার দুশমনির কারণ। 47 00:06:02,981 --> 00:06:06,934 বাস্তবে, এটা বিশাল একটা বেজি। 48 00:06:09,050 --> 00:06:13,795 বিশাল আকৃতি এদের শরীরের তাপমাত্রা সংরক্ষণ করতে সাহায্য করে আর বিশালাকৃতির কারণে এদের অনেক খাবার লাগে। 49 00:06:13,977 --> 00:06:19,437 এটা এতটাই বড়ো আর শক্তিশালী যে একাই একটা প্রাপ্তবয়ষ্ক বল্গাহরিণ খেয়ে ফেলতে পারে। 50 00:06:20,987 --> 00:06:26,416 এটার বড়ো সাইজের জন্য, এটা একবারে অন্য প্রাণীদের তুলনায় বেশি খেতে পারে। 51 00:06:26,644 --> 00:06:30,339 যার কারণে এটাকে পেটুক প্রাণী বলা হয়ে থাকে। 52 00:06:47,887 --> 00:06:52,175 এখানে পেটুক হওয়াটা খুবই কার্যকর কৌশল। 53 00:06:52,221 --> 00:06:56,433 যখন খাবার পাওয়া যায় তখন যতটা পারা যায় খেয়ে নেয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। 54 00:06:57,999 --> 00:07:01,101 আর যখন পেটুকও আর খেতে পারে না, 55 00:07:01,177 --> 00:07:06,697 তখন বাকিটুকু পরে খাওয়ার জন্য ওটা পরিবেশের ডীপ-ফ্রীজে মজুদ করে রাখে। 56 00:07:13,509 --> 00:07:16,398 বরফ বনে এখন বসন্তকাল। 57 00:07:27,726 --> 00:07:32,287 ক্যাপাকেইলি মোরগও পাইনের কাটা খেয়ে হজম করতে পারে। 58 00:07:32,485 --> 00:07:36,105 কিন্তু খাওয়া-দাওয়াটা এই মুহূর্তে মূখ্য বিষয় নয়। 59 00:07:38,597 --> 00:07:43,114 গ্লাডিয়েটরদের মতো পুরুষরা মারামারি করার জন্য জড়ো হয়। 60 00:07:54,064 --> 00:07:59,355 একটা মহিলাকে ইমপ্রেস করার জন্য প্রত্যেক পুরুষ মোরগ হয়তো একবার সুযোগ পাবে। 61 00:08:00,435 --> 00:08:04,724 দুটোর একটাও মনোযোগের সামান্যতম ত্রুটিবিচ্যুতি করার মতো বাজে কাজ করবে না। 62 00:08:29,224 --> 00:08:33,329 পরাজিত আহত মোরগটা হয়তো বাঁচবে না। 63 00:08:38,105 --> 00:08:40,918 বিশাল এই জঙ্গলে বসবাসরত প্রাণীরা... 64 00:08:40,919 --> 00:08:45,526 ...হয়তো জীবনে কখনো মানব সভ্যতার সংস্পর্শে না এসেই মারা যাবে। 65 00:08:46,163 --> 00:08:48,703 এভাবেই চিরকাল বিরাজ করুক। 66 00:08:58,572 --> 00:09:02,116 উত্তরের জঙ্গল হয়তো পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো জঙ্গল, 67 00:09:02,117 --> 00:09:06,357 কিন্তু পাইন বৃক্ষের পুরো সম্ভাবনায় পৌঁছে যাওয়া দেখতে হলে... 68 00:09:06,585 --> 00:09:10,554 আপনাকে অবশ্যই এখান থেকে ১,০০০ মাইল দক্ষিণে ভ্রমণ করতে হবে। 69 00:09:16,135 --> 00:09:18,918 উত্তর আমেরিকার প্রশান্ত মহাসাগরস্থ উপকূল। 70 00:09:25,456 --> 00:09:31,418 শবকেয়ান (হেমলক বৃক্ষ) গাছ, ডগলাস ফ্যার এবং বিশালাকৃতির রেডউডের আবাসভূমি। 71 00:09:39,098 --> 00:09:42,671 এখানে পানি কখনো বরফে পরিণত হয়না। 72 00:09:42,731 --> 00:09:44,557 আর এমনকি যদি বৃষ্টি না ও হয়, 73 00:09:44,784 --> 00:09:50,532 কাটাগুলো সমুদ্র থেকে উঠে আসা কুয়াশার মাধ্যমে আদ্রতা পায়। 74 00:09:58,531 --> 00:10:01,481 সূর্যের এনার্জি এই জঙ্গলগুলোকে তৈগা অরণ্যের মতো... 75 00:10:01,482 --> 00:10:07,184 একমাস তাপশক্তি প্রদান করে না, বরং অর্ধবর্ষ যাবৎ তাপশক্তি প্রদান করে। 76 00:10:15,989 --> 00:10:20,551 এই পাইন বৃক্ষগুলো উত্তরমেরুর পাইন বৃক্ষের চেয়ে ১০ গুন হারে বড়ো হয়, 77 00:10:20,856 --> 00:10:24,231 আর হাজারো বছর ধরে বেঁচে থাকে। 78 00:10:34,102 --> 00:10:37,097 ক্যালিফোর্নিয়ার এক ঝাঁক লালকাঠ গাছের ভিতরে... 79 00:10:37,159 --> 00:10:41,295 পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা গাছগুলোর তিনটা পাওয়া যাবে। 80 00:10:46,556 --> 00:10:52,821 এই গাছটা ১০০ মিটারেরও বেশি লম্বা, ৩০ তলা ভবনের উচ্চতার সমান। 81 00:11:21,117 --> 00:11:26,575 পৃথিবীর বুকে মানুষের পা পড়ার অনেক আগে থেকেই এই গাছগুলো এখানে ছিল। 82 00:11:26,758 --> 00:11:30,113 এগুলো ২০ মিলিয়ন বছর আগে এখানে গণহারে জন্মানো শুরু হয়েছিল, 83 00:11:30,230 --> 00:11:36,138 আর এগুলোর অস্তিত্ব ছিল যখন সুইজারল্যান্ডের পর্বতমালা ও উত্তর আমেরিকার পাথুরে পর্বতমালা সৃষ্টিই হয়নি। 84 00:11:48,842 --> 00:11:55,318 বিশাল পাইন বৃক্ষের এই জঙ্গলে অন্য যেকোনো গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বৃষ্টিপ্রধান বনের চেয়ে বেশি প্রাণী রয়েছে। 85 00:11:55,835 --> 00:11:59,206 কিন্তু সেগুলো সব গাছের ভিতরে বসবাস করে। 86 00:11:59,456 --> 00:12:02,995 তৈগার পাইন বৃক্ষের দানার মতো এগুলোও খাওয়ার উপযুক্ত নয়। 87 00:12:03,211 --> 00:12:08,703 তাই প্রাণীর সংখ্যা এখানে অপ্রতুল, কিন্তু ওরা বিদ্যমান। 88 00:12:12,092 --> 00:12:19,568 একটা পাইন নেউল। এখন বসন্তকাল, একটা নেউলের জন্য খাবার খোঁজার বছরের সবচেয়ে সেরা সময়। 89 00:12:35,008 --> 00:12:42,052 পাখির ডিম মৌসুমি খাবার আর অল্প সময়ে অনেক বেশি পাওয়া যায়। 90 00:12:43,437 --> 00:12:46,374 মাঝেমাঝে তো প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। 91 00:12:49,663 --> 00:12:55,638 কিন্তু এখানে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য, নেউলের আরো নির্ভরযোগ্য খাবারের উৎস দরকার। 92 00:12:56,355 --> 00:12:58,759 কাঠবিড়াল এদিক দিয়ে উপযুক্ত। 93 00:12:58,976 --> 00:13:03,900 কাঠবিড়ালিরা পাইন বৃক্ষের ফল খেয়ে এখানে আরামসে বসবাস করে, আর মৌসুমি ফল হলেও... 94 00:13:03,983 --> 00:13:07,822 কাঠবিড়ালিরা এগুলো জমিয়ে রেখে সারাবছর খেতে পারে। 95 00:13:12,129 --> 00:13:15,133 কাঠবিড়ালিরা এখন যৌনমিলনে ব্যস্ত। 96 00:13:18,906 --> 00:13:24,714 শিকারীর জন্য এটা ভালো সংবাদ। অন্যমনষ্ক থাকা মানে অরক্ষিত অবস্থায় থাকা। 97 00:13:31,373 --> 00:13:34,862 কিন্তু এইবার মিলনে ব্যস্ত এই জোড়া সুরক্ষিত। 98 00:13:35,062 --> 00:13:40,487 এদিকে একটা কাঠবিড়াল ঘরে খাবার সাজাচ্ছে ওটাকে ধরা সহজ। 99 00:14:15,384 --> 00:14:20,850 গ্রীষ্মের প্রথমদিকে ধূসর হুতোমপেঁচার বাচ্চারা নতুন উড়তে শিখছে। 100 00:14:23,208 --> 00:14:25,983 বয়স্করা এখানে তাদের বাচ্চাদের বড়ো করে... 101 00:14:26,046 --> 00:14:30,907 বছরের সেই সময়ে যখন মৌসুমি ইঁদুরের বাচ্চা খাওয়ার উপযুক্ত থাকে। 102 00:14:35,768 --> 00:14:39,691 ওদের প্রথমবার উড়ার সময় চলে এসেছে। 103 00:14:44,406 --> 00:14:50,936 পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা গাছ থেকে লাফ মারা দুর্বল মনের কারো জন্য নয়। 104 00:15:16,179 --> 00:15:22,062 এখান থেকে নিচে নামতে চাইলে, ধাপে ধাপে নামাটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। 105 00:15:40,381 --> 00:15:44,722 মাটিতে থাকা একটা হুতোমপেঁচার জন্য বেমানান। 106 00:15:46,369 --> 00:15:51,397 গাছে চড়ে উপরে ওর দলের কাছে যেতে হলে, ওকে অধ্যবসায়ী হতে হবে। 107 00:15:53,985 --> 00:15:57,719 তো, আরো একবার চেষ্টা করে দেখা যাক। 108 00:16:17,477 --> 00:16:22,964 আমেরিকার পাইন বৃক্ষের বনগুলো হয়তো পশু-পাখিতে ভরপুর না... 109 00:16:23,193 --> 00:16:26,406 কিন্তু এইসব বনের গাছগুলো অসাধারণ। 110 00:16:26,949 --> 00:16:33,520 বিশাল এই সিকোইয়া গাছটা, পৃথিবীর জীবিত সবকিছুর ভিতরে সর্ববৃহৎ। 111 00:16:33,895 --> 00:16:39,653 জেনারেল শার্মান নামে পরিচিত এই গাছটি, দশটা নীল তিমির ওজনের সমান। 112 00:16:49,397 --> 00:16:57,680 আশেপাশের পাহাড়ের উপরে বসবাস করে, ব্রিজলকোন পাইন গাছ। পৃথিবীর সবচেয়ে পুরাতন উদ্ভিদ। 113 00:16:59,224 --> 00:17:03,105 এদের কিছু কিছু ৫ হাজার বছর ধরে পৃথিবীতে আছে। 114 00:17:03,106 --> 00:17:06,193 এগুলো পিরামিড তৈরি হওয়ার আগে বেঁচে ছিল, 115 00:17:06,360 --> 00:17:12,014 আর যিশুর জন্মের সময়ই এগুলোর বয়স ছিল ৩ হাজার বছর। 116 00:17:16,396 --> 00:17:24,450 বিষুবরেখার দক্ষিণ গোলার্ধের বনগুলো উত্তরের বনগুলোর মতোই। 117 00:17:24,825 --> 00:17:26,515 দক্ষিণ আমেরিকার... 118 00:17:26,557 --> 00:17:31,961 অ্যারাউকারিয়া বা মানকি পাজল গাছগুলো তৈগা অরণ্যের পাইন বৃক্ষের মতো। 119 00:17:32,566 --> 00:17:35,695 কাটার বদলে এগুলোর পানি-নিরোধক খাঁজকাটা আঁশ আছে 120 00:17:35,715 --> 00:17:41,182 আর এগুলোর দানা দেখতে একটু ভিন্ন কিন্তু বৈশিষ্ট্য একই। 121 00:17:45,521 --> 00:17:51,843 ক্রসবিল পাখির মতো সরু-ঠোঁটের ক্ষুদ্র টিয়াপাখি এই দানাগুলো বের করতে পারে। 122 00:17:59,563 --> 00:18:06,885 যেখানে বেড়ে উঠার সিজন দীর্ঘ সেখানেই পাবেন দক্ষিণের লালকাঠ খ্যাত এলার্সে গাছ। 123 00:18:21,387 --> 00:18:28,377 উত্তরের হিমায়িত জঙ্গলের মতো, চিলির ভ্যালডিভিয়ান জঙ্গলেও খুব অল্প প্রাণী বাস করে। 124 00:18:28,648 --> 00:18:32,299 কিন্তু দুই জায়গার জঙ্গলের সাদৃশ্যতা এখানেই শেষ। 125 00:18:35,512 --> 00:18:40,540 এটা ক্ষুদ্র প্রাণীদের বিচিত্র একটা জগৎ। 126 00:18:42,814 --> 00:18:50,221 পুডু, পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট হরিণ, গানেরা উদ্ভিদের বিশাল পাতা ভক্ষণ করে। 127 00:18:57,293 --> 00:19:01,424 মহিলা হরিণটা মাত্র ৩০ সেন্টিমিটার লম্বা, 128 00:19:01,445 --> 00:19:05,577 আর এর বাচ্চারা বিড়ালছানার চেয়ে হালকা একটু বড়ো। 129 00:19:22,329 --> 00:19:28,859 পুরুষটাকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। ওর বাচ্চাদের উপর শিকারীরা হানা দিতে পারে। 130 00:19:30,653 --> 00:19:34,367 আরেকটা ক্ষুদ্র প্রাণী হলো কডকড বিড়াল। 131 00:19:37,913 --> 00:19:44,547 সমগ্র আমেরিকার ভিতরে এটা সবচেয়ে ছোট বিড়াল এবং পুডুর একটা বাচ্চা এটার কাছে ভালোমানের খাদ্য। 132 00:19:45,758 --> 00:19:51,223 কিন্তু পুরুষ হরিণটা পাহারায় থাকলে, কডকড বিড়ালের বাচ্চা খাওয়ার আশা বাদ দিতে হবে। 133 00:19:56,273 --> 00:20:00,153 পতঙ্গরা ভূমিষ্ঠ হচ্ছে। ওরাই গ্রীষ্মের শেষ চালান। 134 00:20:00,467 --> 00:20:04,640 পিচ্চি বিড়াল হয়তো এগুলো ধরে খেতে পারবে। 135 00:20:07,143 --> 00:20:10,357 কারো জানা নেই এখানের প্রাণীরা কেন এত ছোট, 136 00:20:10,419 --> 00:20:14,905 কিন্তু কমপক্ষে ওরা অল্প খাবার খেয়ে বেঁচে থাকে। 137 00:20:41,027 --> 00:20:45,262 এটার নাম দেয়া যেতে পারে, বিড়াল আর পতঙ্গের খেলা। 138 00:21:09,046 --> 00:21:15,764 যখন চিলিতে শীতের আগমন হয়, উত্তর গোলার্ধে তখন বসন্তের আগমন হয়। 139 00:21:23,546 --> 00:21:27,948 এগুলো হলো ঝরা পাতার জঙ্গল। 140 00:21:28,679 --> 00:21:31,726 পুরো শীতকাল জুড়ে সুপ্ত থাকার পর, এগুলো এখন... 141 00:21:31,830 --> 00:21:36,691 প্রাকৃতিক জগতের সবচেয়ে চমৎকার রূপান্তরের দৃশ্য দেখাবে। 142 00:21:48,626 --> 00:21:53,841 বসন্তের শেষের দিকে, অপরূপ তাজা সবুজ রঙে প্রাকৃতির দৃশ্য ছেয়ে যায়। 143 00:21:54,238 --> 00:21:58,494 পাইন বৃক্ষের বদলে, এখানে বড়ো পাতার গাছ রয়েছে, 144 00:21:58,724 --> 00:22:03,481 আর এটাই এই বনের বৈশিষ্ট্য পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছে। 145 00:22:07,653 --> 00:22:12,389 পাতা বড়ো হওয়ার কারণে পাইন বৃক্ষের কাটার চেয়ে এগুলো সূর্যের আলো বেশি প্রতিরোধ করে। 146 00:22:12,660 --> 00:22:17,041 কিন্তু এছাড়াও এই পাতা পাতলা, নরম আর খাওয়ার যোগ্য। 147 00:22:36,028 --> 00:22:39,679 আর পাতা-খাদকদের আবার অন্যরা খায়। 148 00:23:01,877 --> 00:23:09,012 এটা পূর্ব ইউরোপ ও এশিয়ার অঞ্চলভুক্ত রাশিয়ার বড়ো-পাতার মহা-জঙ্গলের বসন্তের অবস্থা। 149 00:23:09,930 --> 00:23:13,038 চীনা হাঁসেরা ডাকছে। 150 00:23:26,411 --> 00:23:29,973 মায়া চীনা হাঁসটা গাছের ফোঁকড়ে তা দিচ্ছে। 151 00:23:30,167 --> 00:23:35,432 আর যখন সবার বাসা ছাড়ার সময় হয়, তখন মায়া হাঁসটা পথ দেখায়। 152 00:23:38,127 --> 00:23:42,051 হাঁসের এই বাচ্চাগুলো মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে ডিম থেকে বেরিয়েছে। 153 00:23:44,202 --> 00:23:48,572 অনেক উপর থেকে ওদের লাফ দিতে হবে আর সেজন্য বুকে একটু বল থাকা দরকার। 154 00:24:02,367 --> 00:24:05,314 দুইটা নেমেছে, সাতটা বাকি আছে। 155 00:24:39,607 --> 00:24:41,855 এখনো দুইটা বাকি আছে। 156 00:25:03,918 --> 00:25:06,194 সবাই এসে গেছে। 157 00:25:06,990 --> 00:25:09,964 কিন্তু পানিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত ওরা নিরাপদ না। 158 00:25:10,159 --> 00:25:14,041 আর পুকুর প্রায় ১ মাইল দূরে। 159 00:25:49,944 --> 00:25:53,170 জুনের দিকে, দিনগুলো অনেক বড়ো হয়, 160 00:25:53,282 --> 00:25:58,895 আর পুরো উত্তর গোলার্ধে বড়ো পাতার গাছগুলো ব্যস্ত সময় পার করছে। 161 00:26:08,197 --> 00:26:13,461 উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূলে, সন্ধ্যাটা অন্য যেকোনো গ্রীষ্মের সন্ধ্যার মতো মনে হচ্ছে। 162 00:26:15,723 --> 00:26:19,116 কিন্তু আজ রাতটা স্পেশাল। 163 00:26:22,816 --> 00:26:25,931 ১৭ বছর মাটির নিচে থাকার পরে, 164 00:26:26,237 --> 00:26:29,002 প্রাণীরা জেগে উঠছে। 165 00:26:35,007 --> 00:26:40,229 ঘুগরো পোকারা মাটির ভিতর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 166 00:26:40,454 --> 00:26:47,519 এখন এগুলো গাছ বেয়ে উঠার জন্য জম্বিদের মতো কুচকাওয়াজ করতে করতে নিকটবর্তী গাছের দিকে যাচ্ছে। 167 00:26:55,268 --> 00:26:58,090 প্রথমে এরা হাজার খানেকের মতো। 168 00:26:58,411 --> 00:27:03,326 কিন্তু শীঘ্রই এক বিলিয়নের বেশি পোকা সারা জঙ্গল ছেয়ে নিবে। 169 00:27:03,528 --> 00:27:08,294 একসাথে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি পতঙ্গের জন্ম একটু পরে হতে চলেছে। 170 00:27:39,189 --> 00:27:44,792 এরা গাছের ডাল বেয়ে উঠার সময় গায়ে থাকা খোলস ফেলে দেয়... 171 00:27:44,898 --> 00:27:48,842 আর ডানাওয়ালা আসল রূপ ধারণ করে। 172 00:27:57,097 --> 00:28:03,451 প্রথম প্রথম, ওগুলো সাদা আর কচি থাকে, কিন্তু পুরোপুরি রূপান্তরিত হওয়ার জন্য ওদের হাতে ভোর পর্যন্ত সময় আছে। 173 00:28:17,938 --> 00:28:24,798 ১৭ বছর অনুপস্থিতির পর, জঙ্গল এখন ঘুগরো পোকায় ভরপুর। 174 00:28:33,019 --> 00:28:37,697 ঝিঁঝিঁ পোকাগুলো ঠিকমতো উড়তে পারে না আর এগুলো খুবই সুস্বাদু খাবার। 175 00:28:46,895 --> 00:28:50,002 কচ্ছপ আর বনের অন্যান্য প্রাণীদের জন্য... 176 00:28:50,176 --> 00:28:53,963 জীবনে একবার এই পোকা খেতে পারাটা সৌভাগ্যের ব্যাপার, 177 00:28:54,033 --> 00:28:57,279 আর যখন ওরা এটা হাতের মাথায় পায় তখন রাক্ষসের মতো খায়। 178 00:29:10,790 --> 00:29:13,094 সময় খুবই ভালো কাটছে। 179 00:29:13,442 --> 00:29:19,586 ঝিঁঝিঁ পোকার কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই যার ফলে এরা এক প্রকার নিজেদেরকে শিকারীদের কাছে খাদ্য হিসেবে উপস্তাপন করে। 180 00:29:29,606 --> 00:29:32,538 ঝিঁঝি পোকার সংখ্যা এতটাই বেশি যে... 181 00:29:32,591 --> 00:29:37,478 শীঘ্রই সকল প্রাণীদের পেট ভরে গলা পর্যন্ত উঠে যাবে। 182 00:29:48,825 --> 00:29:51,443 কিন্তু ঝিঁঝিঁ পোকা ফুরাবে না। 183 00:29:51,653 --> 00:29:57,587 শিকারী প্রাণীরা হার মানার পর, টিকে থাকা ঝিঁঝিঁ পোকাদের মনোবাসনা পূরণ হবে। 184 00:30:00,241 --> 00:30:05,843 যৌনমিলনের পর ডিম পাড়া হয়ে গেলেই প্রাপ্তবয়স্কদের কাজ শেষ। 185 00:30:06,297 --> 00:30:11,639 কিছুদিনের ভিতরেই এগুলো সব মারা যাবে আর জঙ্গলে আবার নীরবতা বিরাজ করবে। 186 00:30:12,057 --> 00:30:18,481 পরবর্তী ১৭ বছর আর ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনা যাবে না। 187 00:30:28,064 --> 00:30:34,976 শিকারীদের খাদ্য সরবরাহ করে, ঝিঁঝিঁ পোকারা সর্বশেষ উপহারটা জঙ্গলের জন্য রেখে যায়। 188 00:30:35,134 --> 00:30:41,294 এক জেনারেশন মৃত ঝিঁঝিঁ পোকার পুষ্টিকর পদার্থ একসাথে মাটিতে ফিরে যায়। 189 00:30:41,539 --> 00:30:45,204 আর গাছেরা এই পুষ্টি পেয়ে বিদ্যুৎ গতিতে বৃদ্ধি পাবে। 190 00:30:45,570 --> 00:30:51,208 এটাই হয়তো প্রাকৃতিক জগতের একবারে সবচেয়ে বড়ো সার উৎপাদনের ঘটনা। 191 00:31:12,467 --> 00:31:15,941 পূর্ব ইউরোপের বড়ো পাতার মহা-জঙ্গলে, 192 00:31:16,080 --> 00:31:24,598 দিন ছোট হতে শুরু করেছে, আর শরৎকালের সূচনা হওয়ার সুপ্রাচীন আওয়াজ ধ্বনিত হচ্ছে। 193 00:31:42,366 --> 00:31:46,922 পুরুষ লাল হরিণগুলোর কামোত্তেজনা শুরু হচ্ছে। 194 00:31:52,193 --> 00:31:56,521 মহিলা হরিণদের ঘ্রাণে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। 195 00:32:07,867 --> 00:32:09,735 নিয়মটা খুবই সাধারণ। 196 00:32:10,188 --> 00:32:12,440 বিজয়ী হলে সে সব পাবে। 197 00:33:06,602 --> 00:33:11,768 উত্তর গোলার্ধে, ঝরা পাতার বনে পরিবর্তন আসছে। 198 00:33:12,083 --> 00:33:18,018 বসন্তের সময় যে পাতা খাদ্য আর আশ্রয় দিচ্ছিল এখন সেগুলো ঝরে পড়েছে। 199 00:33:22,450 --> 00:33:29,082 রাশিয়ার বড়ো পাতার জঙ্গলে, শীতের তীব্রতা খুবই বেশি, 200 00:33:33,692 --> 00:33:38,683 কিন্তু কিছু কিছু প্রাণী আছে যেগুলো এই তীব্র শীতের সুযোগ নেবে। 201 00:33:42,524 --> 00:33:46,399 কালো শকুনেরা একটা চিত্রা হরিণের মৃতদেহ খুঁজে পেয়েছে। 202 00:33:46,486 --> 00:33:49,297 যেটা শীতের তীব্রতায় বা অনাহারে মারা গেছে। 203 00:33:49,611 --> 00:33:52,037 এই বিপন্ন পাখিগুলো এখানকার বাসিন্দা না। 204 00:33:52,072 --> 00:33:57,727 এগুলো উত্তর থেকে এসেছে সাইরেরিয়ার আরো তীব্র ঠাণ্ডা থেকে বাঁচার জন্য। 205 00:34:35,271 --> 00:34:37,261 অ্যাম্যূয়ার চিতাবাঘ। 206 00:34:37,453 --> 00:34:40,263 পৃথিবীর সবচেয়ে বিরল প্রজাতির বাঘ। 207 00:34:40,839 --> 00:34:43,963 এই বাঘের জন্য শীতকাল খুবই কঠিন সময়। 208 00:34:44,068 --> 00:34:48,345 এখন নিজেকে আড়াল করার জন্য কোনো পাতা নেই আর খাওয়ার জন্য কোনো কমবয়সী প্রাণীও নেই। 209 00:34:48,607 --> 00:34:54,436 এই মহিলা বাঘের কাঁধে এক বছরের একটা বাচ্চাকে খাওয়ানোর অতিরিক্ত একটা চাপ আছে। 210 00:34:54,733 --> 00:35:00,179 বাচ্চাটার নিজে থেকে খাবার সংগ্রহ করা শিখতে আরো ১২ মাস সময় লাগবে। 211 00:35:12,711 --> 00:35:16,655 ঝগড়ারত শকুনেরা মৃত হরিণটা ফেলে রেখে গেছে। 212 00:35:16,690 --> 00:35:20,443 চিতাবাঘের জন্য এটা মূল্যবান একটা আবিষ্কার। 213 00:35:25,121 --> 00:35:30,078 কিন্তু বাচ্চাটা ওর মা’র বর্তমান অবস্থা বুঝতে চাচ্ছে না। 214 00:35:59,512 --> 00:36:03,198 শকুনেরা প্রচুর ভালো মাংস রেখে গেছে, 215 00:36:03,575 --> 00:36:05,963 কিন্তু এটা বরফে জমে শক্ত হয়ে গেছে। 216 00:36:08,631 --> 00:36:14,203 মা বাঘটা মাংস বের করে দিচ্ছে যাতে বাচ্চটার খেতে সুবিধা হয়। 217 00:36:25,848 --> 00:36:30,302 এই বনে মাত্র ৪০টা চিতাবাঘ জীবিত আছে... 218 00:36:32,537 --> 00:36:35,413 আর এই সংখ্যাটা ক্রমহ্রাসমান। 219 00:36:36,447 --> 00:36:41,153 এখানকার শীতের তীব্রতা, ওদের সংখ্যা বাড়াতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। 220 00:36:41,376 --> 00:36:45,622 আফ্রিকা জঙ্গলের চেয়ে এখানে মা বাঘদের স্বাধীনভাবে বাচ্চা বাঘ... 221 00:36:45,690 --> 00:36:48,470 বড়ো করতে বেশি সময় লাগে। 222 00:36:56,304 --> 00:37:00,549 যদি মা বাঘটা তার বাচ্চাকে আর কয়েক সপ্তাহ বাঁচিয়ে রাখতে পারে, 223 00:37:00,633 --> 00:37:06,400 বসন্তে প্রচুর শিকার পাওয়া যাবে আর মা বাঘের কাজ হালকা হবে। 224 00:37:11,524 --> 00:37:15,057 এই মৌসুমি জঙ্গলের সকল বাসিন্দাদের... 225 00:37:15,267 --> 00:37:18,743 দীর্ঘদিনের অপেক্ষার সমাপ্তি ঘটতে চলেছে। 226 00:37:31,196 --> 00:37:35,414 ঝরা পাতার বনভূমিতে বসন্ত একটু স্পেশাল। 227 00:37:39,310 --> 00:37:44,393 মাথার উপরে কোনো পাতা না থাকায়, সূর্যের কিরণ সরাসরি জঙ্গলের মাটিতে এসে পড়ে... 228 00:37:44,561 --> 00:37:48,778 আর সূর্যের তাপে উদ্ভিদরা ওদের শীতকালীন ঘুম থেকে জেগে উঠে। 229 00:37:56,123 --> 00:37:58,581 মাটিতে থাকা উদ্ভিদগুলো ব্যস্ত সময় পার করছে। 230 00:37:58,720 --> 00:38:03,719 শীঘ্রই উপরের গাছগুলোতে পাতা গজাবে আর ওদের আলো কেড়ে নেবে। 231 00:38:13,701 --> 00:38:16,438 ওদের ফুলগুলো জঙ্গলের মেঝে এমনভাবে সাজায়... 232 00:38:16,494 --> 00:38:21,730 যেন মনে হয় নতুন জন্ম নেওয়া পোকাদের কাছে ওরা ওদের পুষ্পমধুর বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। 233 00:38:39,086 --> 00:38:43,331 ঝরা পাতার বনভূমির বসন্তকালীন সময়ের ফুলের সাথে... 234 00:38:43,441 --> 00:38:48,091 ...পাইন বৃক্ষের বনগুলো বা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনগুলোর কোনো তুলনাই চলে না। 235 00:38:53,034 --> 00:38:57,071 কয়েক সপ্তার ব্যবধানে, উপরে পাতার আচ্ছাদন পড়ে গেছে... 236 00:38:57,072 --> 00:39:02,278 আর শুধুমাত্র কিছু গোল গোল সরু আলোকরশ্মিই বনভূমিতে প্রবেশ করতে পারে। 237 00:39:10,629 --> 00:39:15,446 গাছের উপরে, বড়ো পাতাগুলো দ্রুত ফুল সাইজে রূপ নিচ্ছে, 238 00:39:15,571 --> 00:39:19,384 যাতে গ্রীষ্মকাল যতদিন আছে সেটা পরিপূর্ণ পেতে পারে। 239 00:39:25,319 --> 00:39:30,066 তারপর, কয়েক মাস পরে, দিন আবার ছোট হতে শুরু করে, 240 00:39:30,303 --> 00:39:38,053 আর গাছদের অবশ্যই পাতা ঝরিয়ে ফেলতে হবে, অসন্ন ঠাণ্ডা আর কষ্টকর সময়ের প্রস্তুতি হিসাবে। 242 00:39:42,452 --> 00:39:48,192 ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে উত্তর আমেরিকার বিশাল এলাকা জুড়ে গাছপালা রঙিন হয়ে উঠে। 243 00:39:49,503 --> 00:39:53,791 দৃশ্যটা এতটাই চমৎকার আর বিশাল যে... 244 00:39:54,028 --> 00:39:56,960 মহাশূন্য থেকেও সেটা দেখা যায়। 245 00:40:11,972 --> 00:40:18,243 শীতের তীব্রতার হুমকিই গাছের পাতা পড়ে যাওয়ার একমাত্র কারণ না। 246 00:40:22,682 --> 00:40:25,502 এই বনগুলো গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে অবস্থান করছে। 247 00:40:25,768 --> 00:40:28,547 এখানে দিনের ব্যাপ্তিকাল কখনো পরিবর্তন হয়না। 248 00:40:28,728 --> 00:40:31,061 কিন্তু গ্রীষ্মকাল এতটাই কঠোর যে... 249 00:40:31,145 --> 00:40:34,315 গাছগুলো ওদের বড়ো পাতায় পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়... 250 00:40:34,384 --> 00:40:40,053 যাতে পাতা শুকিয়ে গিয়ে পানি অপচয় না হয়। ফলে গাছের পাতা পড়ে যায়। 251 00:40:57,886 --> 00:41:02,479 এই জঙ্গলটা শীতকালের মাঝামাঝি সময়ে ইউরোপের একটা বনভূমির মতো লাগে, 252 00:41:02,870 --> 00:41:08,399 কিন্তু এখানে গরমের তীব্রতা বেশি এবং এটার বাসিন্দারা অপরিচিত। 253 00:41:12,240 --> 00:41:18,161 ইন্ডিয়ার সেগুন বনের প্রাণীদের জন্য এটা একটু কষ্টের সময়। 254 00:41:19,459 --> 00:41:21,735 কিন্তু পরিত্রাণ হাতের কাছেই আছে। 255 00:41:21,986 --> 00:41:25,142 মাহুয়া গাছে ফুল ফুটতে চলেছে। 256 00:41:29,472 --> 00:41:33,801 এটার ফুল তরল পদার্থে ভরপুর, ফলে সবাই এটা খেতে পছন্দ করে। 257 00:41:41,049 --> 00:41:45,977 মাহুয়া গাছ যেন উতপ্ত বালুময় মরুভূমির মাঝখানে জলেভরা একটা পুকুর। 258 00:41:56,367 --> 00:42:02,106 উড়তে পারা বা গাছে উঠতে পারা প্রাণীরাই শুধু এটার ভাগ পায় না। 259 00:42:05,275 --> 00:42:08,389 চিতল হরিণেরা লম্বা লেজওয়ালা বানরদের ফলো করে, 260 00:42:08,626 --> 00:42:11,810 পড়ে যাওয়া ফুলগুলো সংগ্রহ করে। 261 00:42:17,382 --> 00:42:23,693 বানরেরা হরিণদের স্বাগত জানায়, যেহেতু হরিণেরা শিকারীদের শনাক্ত করার উস্তাদ। 262 00:42:25,131 --> 00:42:29,279 হরিণেরা শান্ত আছে মানে নিচে যাওয়া নিরাপদ... 263 00:42:29,390 --> 00:42:31,987 আর মাটিতে পড়ে থাকা খাবার সংগ্রহ করতে কোনো সমস্যা নেই। 264 00:42:42,810 --> 00:42:47,502 কিন্তু পাহারাদারদের থেকে বেশি দূরে যাওয়াটা মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। 265 00:43:41,176 --> 00:43:43,075 গ্রীষ্মমণ্ডলীয় মাদাগাস্কার। 266 00:43:43,704 --> 00:43:45,700 বর্ষা মৌসুম। 267 00:43:52,319 --> 00:43:56,285 বছরের এই সময়ই “বাওব্যাব গাছ” নতুন পাতা ছাড়ে... 268 00:43:56,481 --> 00:44:02,541 আর ওটার বিশাল ট্রাঙ্কের ভিতরে অসন্ন শুকনো মৌসুমের জন্য পানি জমা করে রাখে। 269 00:44:23,990 --> 00:44:27,606 এই গাছের প্রাগৈতিহাসিক আকৃতি খুবই বিখ্যাত সেটা ঠিক আছে, 270 00:44:27,787 --> 00:44:31,544 কিন্তু খুব কম মানুষই সচক্ষে বাওব্যাব গাছের আসল জাদু দেখেছে। 271 00:44:31,795 --> 00:44:36,376 কারণ সেটা ঘটে রাতের আঁধারে গাছের আগায়। 272 00:44:41,511 --> 00:44:49,103 পানিতে গোসল করে, বাওব্যাব নিজেকে প্রস্তুত করে অবিস্মরণীয় এক দৃশ্য দেখানোর জন্য। 273 00:45:05,651 --> 00:45:11,603 শুরু করার পর থেকে, এক ফুট লম্বা ফুলগুলো এক মিনিটের কম সময়ে পুরোপুরি ফুটে যায়। 274 00:45:56,357 --> 00:46:01,437 ফুল ফোটার সাথে সাথে, জঙ্গলের প্রাণীরাও জেগে উঠে। 275 00:46:13,130 --> 00:46:17,354 ইঁদুর লেমুরেরা পুরো শুকনো মৌসুম বিচেতন অবস্থায় কাটিয়েছে। 276 00:46:17,721 --> 00:46:22,137 বর্ষাকাল ফিরে আসায়, এবার কাজে লেগে পড়ার পালা। 277 00:46:26,883 --> 00:46:31,370 ১২টা লেমুর এই গাছের ফোকড়ের ভিতরে থাকে, অবশ্য ভিতরে প্রচুর জায়গা আছে। 278 00:46:31,387 --> 00:46:36,344 পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম এই স্তন্যপায়ী প্রাণীর সাইজ আপনার হাতের সাইজের মতোই। 279 00:46:41,668 --> 00:46:47,672 বাওব্যাবের ফুল থেকে পুষ্পমধু বইতে শুরু করেছে। 280 00:47:01,513 --> 00:47:04,935 এই মিষ্টি, শক্তিবর্ধক তরল পান করে... 281 00:47:05,161 --> 00:47:09,612 দিন শুরু করাটা লেমুরের জন্য আদর্শ এক পদ্ধতি। 282 00:47:13,208 --> 00:47:18,917 ফুলের মাঝখান থেকে তরল পদার্থ চুইয়ে পড়ে আর পাপড়ি দিয়ে টিপ টিপ করে প্রবাহিত হয়। 283 00:47:35,062 --> 00:47:38,937 কিন্তু এই ফুলের মধু লেমুরের জন্য নয়। 284 00:47:42,498 --> 00:47:48,992 গাছের দরকার এই মধু পানকারী বৃহৎ বাজপাখি-পতঙ্গদের আকৃষ্ট করা। 285 00:47:58,172 --> 00:48:06,306 ওরা মধুতে চুমুক দেয়, গাছ থেকে গাছে ভ্রমণ করে, সাথে পরাগ নিয়ে অন্য ফুলে যায় আর উর্বর করে দেয়। 286 00:48:20,113 --> 00:48:24,459 পুষ্পমধু ছিল লেমুরদের জন্য চমৎকার একটা নাস্তা, 287 00:48:24,687 --> 00:48:27,881 কিন্তু পতঙ্গদের জন্য ওটা আসল খাবার। 288 00:48:29,174 --> 00:48:31,966 পতঙ্গরা লেমুরদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ... 289 00:48:32,141 --> 00:48:39,088 যেহেতু ওরাই অনুর্বর শুকনো মৌসুমে খাদ্য সরবরাহ করে লেমুরদের টিকে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়। 290 00:48:46,889 --> 00:48:50,415 লেমুরেরা বাওব্যাব গাছের জন্য ক্ষতিকারক বলে মনে হতে পারে। 291 00:48:50,555 --> 00:48:53,993 ওরা পরাগায়নকারী পতঙ্গ মেরে ফেলে আর মধু খেয়ে নেয়, 292 00:48:54,098 --> 00:48:56,908 কিন্তু ওরা বদলে কিছু ফিরিয়েও দেয়। 293 00:48:57,013 --> 00:49:02,528 খাওয়ার সময় ধস্তাধস্তিতে পতঙ্গের গায়ে থাকা কুড়ো ওদের মুখে লেগে যায়। 294 00:49:02,772 --> 00:49:06,630 তাই ওরাও পরাগায়নকারী প্রাণী হয়ে যায়। 295 00:49:28,746 --> 00:49:35,554 বর্ষা আর শুকনো মৌসুমের পালাক্রম যেমন গ্রীষ্মমণ্ডলীয় কিছু জঙ্গলে পরিবর্তন নিয়ে আসে, 296 00:49:35,693 --> 00:49:42,115 গ্রীষ্ম থেকে শীতের দিকে অগ্রগমন তেমনই নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলে। 297 00:49:51,035 --> 00:49:54,596 গাছের কাটা বা বড়ো পাতা যাই থাকুক না কেন, 298 00:49:54,735 --> 00:50:00,705 বার্ষিক পরিবর্তনে এটাই তাদের টিকে থাকার সক্ষমতা যা তাদের পৃথিবীর বহুলাংশ জুড়ে... 299 00:50:00,706 --> 00:50:03,393 বিস্তার ঘটানোর ক্ষমতা দিয়েছে, 300 00:50:03,586 --> 00:50:11,615 আর মৌসুমি জঙ্গলকে সব জঙ্গলের ভিতরে সেরা বানিয়েছে। 301 00:01:30,596 --> 00:01:36,556 {\an8} _-_-_ সিজন & এপিসোড: ~ ০১ x ১০ _-_-_ 302 00:01:30,596 --> 00:01:36,556 {\an8} _-_-_ মৌসুমি জঙ্গল _-_-_ 303 00:01:30,596 --> 00:01:36,556 {\c&HFFFEFC&\3c&H978C5A&\4c&H26241B&\blur5\shad0} ...::: বাংলায় অনুবাদ: ~ আনিসুর রহমান :::... 305 00:09:25,456 --> 00:09:31,418 {\an8}ডগলাস ফ্যার = দেবদারুজাতীয় বৃক্ষবিশেষ এবং রেডউড = লালকাঠ গাছ